নিউ জিল্যান্ডের ঘটনায় ইংল্যান্ডের পাকিস্তান সফর নিয়ে শঙ্কা

ফাইল ছবি
প্রথম ওয়ানডের কয়েক ঘণ্টা আগে হুট করে নিউ জিল্যান্ডের সিরিজ স্থগিত করে পাকিস্তান ছাড়ার প্রভাব হতে পারে সুদূর প্রসারী। এরই মধ্যে অন্তত একটি সফর পড়ে গেছে শঙ্কায়। আগামী অক্টোবরে ইংল্যান্ডের পুরুষ ও নারী দলের পাকিস্তানে খেলতে যাওয়ার কথা রয়েছে।  

রাওয়ালপিন্ডিতে শুক্রবার তিন ওয়ানডে ও পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে ম্যাচ শুরুর কিছুক্ষণ আগে নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেট এক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, নিরাপত্তা শঙ্কায় পাকিস্তানে খেলতে পারছে না তারা। দেশটি ছাড়ার প্রস্তুতি চলছে তাদের।

নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে নিউ জিল্যাল্ড দলের এভাবে পাকিস্তান ছেড়ে যাওয়াতে বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়ে গেছে আগামী মাসে হতে যাওয়া ইংল্যান্ডের পাকিস্তানে সফরও। নিরাপত্তা প্রশ্নে বরাবরই কঠোর অবস্থান নেওয়া ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) জানিয়েছে, পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে তারা।

বিশেষ করে নিরাপত্তা পরামর্শের জন্য নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেট (এনজেডসি) ও ইসিবি একই প্রতিষ্ঠান ইএসআই রিস্ককে ব্যবহার করায় ইংল্যান্ডের দুটি দলের পাকিস্তান সফর নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোকে ইসিবির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, পাকিস্তান সফরের ব্যাপারে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সিদ্ধান্ত নিবেন তারা।

“নিরাপত্তা সতর্কতার কারণে নিউ জিল্যান্ড দলের পাকিস্তান সফর থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আমরা অবগত, পরিস্থিতি পুরোপুরি বোঝার জন্য আমরা আমাদের নিরাপত্তা দলের সঙ্গে যোগাযোগ করছি যারা পাকিস্তানে রয়েছে। ইসিবি বোর্ড পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবে যে আমাদের পরিকল্পিত সফরটি এগিয়ে নেওয়া উচিত কি না।”

এই সফর দিয়েই ১৬ বছর পর পাকিস্তান খেলতে আসার কথা ইংল্যান্ডের। মাঝের দীর্ঘ সময়ে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়েই দেশটিতে খেলা থেকে বিরত ছিল ওয়ানডের বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। তবে গত বছর বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরুর পর ইংল্যান্ডে ক্রিকেট ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান দল ইংল্যান্ড সফরে যাওয়ার পর দুই বোর্ডের মধ্যে পাকিস্তান সফর নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরই প্রেক্ষিতে ইংল্যান্ড চলতি বছর সফরের জন্য সম্মত হয়।

আগামী মাসে ইংল্যান্ডের প্রস্তাবিত সীমিত ওভারের সফরটি বাতিল হয়ে গেলে প্রশ্নের মুখে পড়ে যেতে পারে ২০২২ সালে তাদের পাকিস্তানে টেস্ট সফরও।

ইংল্যান্ড যদি শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান সফর না করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সেটা তাদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতেও বেশ প্রভাব ফেলবে। প্রাথমিকভাবে ইসিবি জানিয়েছিল, বিশ্বকাপের স্কোয়াডে থাকা খেলোয়াড়দের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) আগেই ছাড়তে হবে। ফলে তারা মিস করতেন নক আউট পর্বের ম্যাচগুলো। ধারণা করা হচ্ছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে হয়ত বিশ্বকাপ স্কোয়াডের খেলোয়াড়দের পুরো টুর্নামেন্টেই খেলার অনুমতি দিবে ইসিবি।