পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে ‘না বলে দেওয়া সহজ’

নিউ জিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের পাকিস্তান সফর বাতিল করায় নিরাপত্তা হুমকিই কি মূল কারণ? উসমান খাওয়াজা তা মনে করেন না। অস্ট্রেলিয়ার এই ব্যাটসম্যান বলছেন, সব ছাপিয়ে অর্থটাই হয়ে উঠছে মুখ্য। তার মতে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মতো দেশগুলোকে সহজে ‘না’ বলে দেওয়া গেলেও ভারতের ক্ষেত্রে দেখা যায় উল্টো চিত্র।

খাওয়াজার জন্ম পাকিস্তানেই। তবে পাঁচ বছর বয়সে তিনি পরিবারের সঙ্গে চলে যান সিডনিতে। পরে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলেন ৪৪ টেস্ট, ৪০ ওয়ানডে ও ৯টি টি-টোয়েন্টি।

পাকিস্তান ক্রিকেটের বর্তমান দুঃসময় ছুঁয়ে যাচ্ছে ৩৪ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যানকে। তবে শুধু শেকড়ের টানে নয়, খাওয়াজার ক্ষোভের কারণ, ক্রিকেট দুনিয়ার বর্তমান চিত্রও।

"আমি মনে করি খেলোয়াড় এবং সংস্থাগুলোর (ক্রিকেট বোর্ড) জন্য পাকিস্তানকে না বলাটা খুব সহজ, কারণ এটি পাকিস্তান। আমি মনে করি, একই ব্যাপার বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কিন্তু ভারত যদি একই জায়গায় থাকে, তাহলে তাদের কেউ না বলবে না।”

"অর্থ কথা বলে, এটা আমরা সবাই জানি এবং এটি (পাকিস্তান সফর বাতিল) সম্ভবত এরই একটি বড় অংশ। তারা (পাকিস্তান) তাদের টুর্নামেন্টের মাধ্যমে বারবার প্রমাণ করছে যে, তারা ক্রিকেট খেলার জন্য নিরাপদ জায়গা। আমি মনে করি, আমাদের না যাওয়ার কোন কারণ নেই।”

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০ সেঞ্চুরিতে প্রায় সাড়ে চার হাজার রান করা খাওয়াজার মতে, পাকিস্তানে খেলা আয়োজন করাটা বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট সম্প্রদায়ের জন্য একটি ‘বড় লক্ষ্য’ হওয়া উচিত। চলতি বছরের পিএসএলে অংশ নিয়েছিলেন খাওয়াজা, যদিও তিনি খেলেছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাত পর্বে। পাকিস্তানে শুরু হওয়ার পর করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে হয় আসরের বাকি অংশ।

খাওয়াজা বলেন, পিএসএলের চেনা মুখ ও তার কাছের বন্ধু অলরাউন্ডার বেন কাটিং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে খেলার সময় ‘সত্যিই নিরাপদ’ অনুভব করেছেন। নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় না থেকে আনন্দের সঙ্গেই মাতৃভূমিতে খেলতে যেতে চান খাওয়াজা।

"অনেক নিরাপত্তা সেখানে, কঠিন নিরাপত্তা। সেখানে মানুষের নিরাপদ বোধ করা ছাড়া আর কিছু আমি শুনিনি। এমনকি পিএসএল চলাকালীন ছেলেদের সঙ্গে কথা বলার সময় জিজ্ঞাসা করলে এটা কেমন ছিল... তারা আমাকে একই কথা বলে যে, '১০ বছর আগে, হয়তো না, কিন্তু এখন শতভাগ (নিরাপদ)’।”

পাকিস্তান ক্রিকেটের এই সঙ্কটের শুরু গত শুক্রবার। সিরিজ শুরুর দিন নিরাপত্তা শঙ্কায় কোনো ম্যাচ না খেলেই সফর পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নিউ জিল্যান্ড। এরপর গত সোমবার ইসিবি জানায়, ইচ্ছা না থাকলেও অক্টোবরে পুরুষ ও নারী দলের পাকিস্তান সফরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে তারা। ইংলিশ বোর্ড তাদের বিবৃতিতে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা সরাসরি উল্লেখ করেনি। বরং তারা বলেছে এই অঞ্চলে ভ্রমণ নিয়ে দুর্ভাবনা ও কোভিড পরিস্থিতিতে ক্রিকেটারদের মানসিক চাপ না বাড়ানোর কথা।

আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে ২৩ বছর পর পাকিস্তান সফরে যাওয়ার কথা অস্ট্রেলিয়ার। আগামী ডিসেম্বরে সফর করার কথা ওয়েস্ট ইন্ডিজের। এই সিরিজগুলোও এখন পড়ে গেছে অনিশ্চয়তায়।