আয়ারল্যান্ডকে উড়িয়ে সুপার টুয়েলভে শ্রীলঙ্কা

দিনের শুরুটা কী অসাধারণই না ছিল আয়ারল্যান্ডের। স্রেফ ৮ রানে তুলে নেয় ৩ উইকেট। পরে সেই ধারা ধরে রাখতে পারেনি তারা। ভানিন্দু হাসারাঙ্গার বিস্ফোরক ব্যাটিং ও তার সঙ্গে পাথুম নিসানকার শতরানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় শ্রীলঙ্কা। আর দারুণ বোলিংয়ে আইরিশদের গুটিয়ে দিয়ে সুপার টুয়েলভের টিকেট নিশ্চিত করে দলটি।  

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে বুধবার ৭০ রানে জিতেছে শ্রীলঙ্কা। টানা দুই জয়ে সবার আগে সুপার টুয়েলভ নিশ্চিত করল ২০১৪ আসরের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ১৭১ রান তাড়ায় ১৮.৩ ওভারে ১০১ রানে গুটিয়ে গেছে আয়ারল্যান্ড।

দলের বাজে শুরুর পরও বড় সংগ্রহের মূল কারিগর হাসারাঙ্গা ও নিসানকা পেয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটির দেখা। পরে বল হাতেও অবদান রেখেছেন লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার হাসারাঙ্গা। ৪৭ বলে ৭১ রানের ঝড়ো ইনিংস আর আঁটসাঁট বোলিংয়ে ৪ ওভারে স্রেফ ১২ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়ে তিনিই জিতেছেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।   

শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১০ রানের নিচে ৩ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। প্রথম ওভারে পল স্টার্লিংয়ের বলে ক্যাচ দেন কুসল পেরেরা। পরের ওভারে পরপর দুই বলে দিনেশ চান্দিমাল ও আভিশকা ফার্নান্দোকে বোল্ড করে দেন জশ লিটল। বাইরের বল স্টাম্পে টেনে আনেন চান্দিমাল, দারুণ এক ডেলিভারিতে উপড়ে যায় আভিশকার স্টাম্প।

পঞ্চম ওভারে মার্ক অ্যাডায়ারকে দুই চার মেরে পাল্টা আক্রমণের শুরুটা করেন নিসানকা। সেই ওভারে একটি বাউন্ডারি মারা হাসারাঙ্গা পরের ওভারে চড়াও হন সিমি সিংয়ের ওপর। পাওয়ার প্লের শেষ চার বলে মারেন টানা চারটি বাউন্ডারি।

এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি লঙ্কানদের। রান আসতে থাকে দ্রুত। নিজের আগের সেরা ৪৪ ছাড়িয়ে ৩৮ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন হাসারাঙ্গা। এরপর হয়ে ওঠেন আরও ভয়ঙ্কর।

শেষ পর্যন্ত ৪৭ বলে ফিরেন ১০ চার ও টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিয়ারের প্রথম ছক্কায় ৭১ রান করে। ভাঙে ১২৩ রানের জুটি।

আগের সেরা ৩৯ ছাড়িয়ে ৩৭ বলে ফিফটি করেন ওপেনার নিশানকা। লিটলের বলে কট বিহাউন্ড হওয়ার আগে ৪৭ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় করেন ৬১ রান। শেষের দিকে ১১ বলে অপরাজিত ২১ রানের ছোট্ট ক্যামিও ইনিংস খেলেন দাসুন শানাকা। 

২৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে আয়ারল্যান্ডের সেরা বোলার লিটল।

বড় রান তাড়ায় কেভিন ও’ব্রায়েন, স্টার্লিং ও গ্যারেথ ডেলানিকে দ্রুত হারায় আয়ারল্যান্ড। চতুর্থ উইকেটে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন অ্যান্ডি বালবার্নি ও কার্টিস ক্যাম্পার। কেবল এই দুই জনই যেতে পারেনি দুই অঙ্কে।

মাহিশ থিকাশানাকে ভুল লাইনে সুইপ করতে গিয়ে ক্যাম্পার বোল্ড হলে ভাঙে ৫৩ রানে জুটি। এরপর আর কোনো জুটি গড়তে পারেনি আয়ারল্যান্ড। দলটি শেষ ৭ উইকেট হারায় কেবল ১৬ রানে।

দুটি করে ছক্কা ও চারে ৩৯ বলে ৪১ রান করেন অধিনায়ক বালবার্নি। শেষের দিকে দ্রুত উইকেট হারিয়ে ৯ বল বাকি থাকতেই গুটিয়ে যায় আয়ারল্যান্ড।

অফ স্পিনার থিকশানা ১৭ রানে নেন ৩ উইকেট। দুটি করে উইকেট নেন লাহিরু কুমানা ও চামিকা করুনারত্নে।

টানা দুই জয়ে ৪ পয়েন্ট গ্রুপ শীর্ষে অবস্থান দৃঢ় করেছে শ্রীলঙ্কা। তাদের জয়ে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে নেদারল্যান্ডসের। একটি করে ম্যাচ জেতা আয়ারল্যান্ড ও নামিবিয়ার মধ্যে জয়ী দল সুপার টুয়েলভে সঙ্গী হবে শ্রীলঙ্কার। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ১৭১/৭ (নিশানকা ৬১, পেরেরা ০, চান্দিমাল ৬, আভিশকা ০, হাসারাঙ্গা ৭১, রাজাপাকসে ১, শানাকা ২১*, চামিকা ২, চামিরা ১*; স্টার্লিং ১-০-৪-১, লিটল ৪-০-২৩-৪, ইয়াং ৪-০-২৪-০, অ্যাডায়ার ৪-০-৩৫-২, সিমি ৩-০-৪১-০, ক্যাম্পার ৪-০-৩৮-০)

আয়ারল্যান্ড: ১৮.৩ ওভারে ১০১ (স্টার্লিং ৭, ও’ব্রায়েন ৫, বালবার্নি ৪১, ডেলানি ২, ক্যাম্পার ২৪, টেক্টর ৩, রক ১, অ্যাডায়ার ২, সিমি ৫*, ইয়াং ১, লিটল ১; চামিকা ৩.৩-০-২৭-২, চামিরা ৩-০-১৬-১, থিকশানা ৪-০-১৭-৩, কুমারা ৪-০-২২-২, হাসারাঙ্গা ৪-০-১২-১)

ফল: শ্রীলঙ্কা ৭০ রানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: ভানিন্দু হাসারাঙ্গা