অলরাউন্ড নৈপুণ্যে উজ্জ্বল হাসারাঙ্গা

টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে প্রথম ফিফটি করা ভানিন্দু হাসারাঙ্গা। ছবি: আইসিসি।
৮ রানে ৩ উইকেট হারানো দল শেষ পর্যন্ত করল ১৭১। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এমন অবস্থা থেকে দেড়শ রান করার নজির ছিল না একটিও। ভানিন্দু হাসারাঙ্গার ব্যাটিং ঝড়ে সেটাই করে দেখাল শ্রীলঙ্কা। পরে আঁটসাঁট বোলিং করলেন এই লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার। ব্যাটে-বলে নিজেকে মেলে ধরলেন জিতলেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে বুধবার আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শুরুতে যেন কাঁপছিল লঙ্কানরা। পাথুম নিসানকা ও হাসারাঙ্গার জুটিতে দারুণ বিক্রমে ঘুরে দাঁড়িয়ে সেই ম্যাচ তারা জিতে নেয় ৭০ রানের বড় ব্যবধানে।

৪৭ বলে ক্যারিয়ার সেরা ৭১ রানের ইনিংস খেলেন হাসারাঙ্গা। ১০ চারের সঙ্গে মারেন টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের একমাত্র ছক্কা। পরে বল হাতে ৪ ওভারে স্রেফ ১২ রান দিয়ে নেন এক উইকেট।

দেশের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে হাসারাঙ্গা চতুর্থবার পেলেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। আগের তিনবারই মূল ভূমিকা রেখেছিল বোলিং। এবার ব্যাটিংয়ে ভূমিকা বেশি। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে জানালেন, নিজের কাছে তিনি ব্যাটিং অলরাউন্ডার।

“যখন আমি মাঠে যাই, খুবই চাপে ছিলাম। তবে প্রথমে কয়েক বলে প্রান্ত বদল করি (চাপ সরানোর জন্য), পরে দ্রুত রান বাড়াতে থাকি। আমি একজন ব্যাটিং অলরাউন্ডার…”

হাসারাঙ্গা যখন ক্রিজে যান দল তখন নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১০ রানের নিচে তিন উইকেট হারিয়ে ভীষণ চাপে তারা। সেখান থেকে দৃঢ়তার সঙ্গে দলকে এগিয়ে নেন তিনি।

তাকে দারুণ সঙ্গ দেন নিসানকা। এই জুটিতে শ্রীলঙ্কা পায় ১২৩ রান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে চতুর্থ উইকেটে যা সর্বোচ্চ। দুইজনেই পান ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটির স্বাদ। হাসারাঙ্গা ৩৮ বলে, নিশানকা ৩৭।

ফিফটির পর আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা হাসারাঙ্গা থামেন মার্ক অ্যাডায়ারের বলে ক্যাচ দিয়ে।

পরে লেগ স্পিনে হাসারাঙ্গা ফেরান আয়ারল্যান্ডের বিস্ফোরক ব্যাটসম্যানদের একজন গ্যারেথ ডেলানিকে। নেদারল্যান্ডেসের বিপক্ষে জয়ে যার ছিল দারুণ অবদান।