নামিবিয়ার নতুন ইতিহাসে আবারও নায়ক ভিসা

পরপর দুই ম্যাচে ম্যান অব দা ম্যাচ হলেন ডেভিড ভিসা। ছবি: আইসিসি
সময়টা যেন স্বপ্নের মতো কাটছে ডেভিড ভিসার। দুই দিন আগে তার ঝড়ো ইনিংসে বিশ্বকাপে নামিবিয়া পেয়েছিল প্রথম জয়ের স্বাদ। এবার আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে দলটি জায়গা করে নিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে। অলরাউন্ড নৈপুণ্যে আবারও নায়ক সেই ভিসাই।

শারজাহতে শুক্রবার প্রথম রাউন্ডে নিজেদের শেষ ম্যাচে ৮ উইকেটের বড় জয় পেয়েছে নামিবিয়া। ১২৬ রানের লক্ষ্য তারা ছুঁয়ে ফেলে ৯ বল বাকি থাকতে।

বোলিংয়ে ৪ ওভারে মাত্র ২২ রান দিয়ে ভিসা নেন ২ উইকেট। করেন একটি রান আউট। পরে ব্যাট হাতে ১৪ বলে ২ ছক্কা ও একটি চারে অপরাজিত ২৮ রান করে ফেরেন দলের জয় নিয়ে। ক্রেইগ ইয়াংকে বাউন্ডারি মেরে জয় নিশ্চিত করেন সাবেক এই দক্ষিণ আফ্রিকান অলরাউন্ডার। এমন পারফরম্যান্সের পর ম্যাচ সেরা আর কেই বা হতে পারে!

ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিলিয়ে প্রথম সাত ম্যাচে নামিবিয়ার ছিল না কোনো জয়। হেরেছিল সবগুলোয়। আইসিসির সহযোগী দেশটিই এবার বিশ্ব মঞ্চে পেল টানা দুই জয়। নেদারল্যান্ডসকে হারানোর পর গুঁড়িয়ে দিল টেস্ট খেলুড়ে দল আয়ারল্যান্ডকে। কে বলবে, তারা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে এসেছে এবারই প্রথম!

তাদের স্মরণীয় দুটি জয়ই এলো ভিসার হাত ধরে। কিছুদিন আগেও হয়তো ৩৬ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ দেখে ফেলেছিলেন অনেকে। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সবশেষ ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি ২০১৬ সালে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। বাবার জন্মভূমি নামিবিয়ার হয়ে ভিসা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অনুমতি পান গত অগাস্টে। নতুন পথচলায় দলটির হয়ে খেললেন ছয়টি টি-টোয়েন্টি। এর দুটিতে এনে দিলেন অসাধারণ দুটি জয়।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম ২৪ টি-টোয়েন্টিতে কখনও তিনি হতে পারেননি ম্যাচ সেরা। সেই পুরস্কার এবার পেলেন পরপর দুই ম্যাচে।

বাঁচা-মরার লড়াইয়ে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা আয়ারল্যান্ডের ইনিংসে পাওয়ার প্লেতে এক ওভার বোলিং করে ভিসা দেন কেবল ৬ রান। পঞ্চদশ ওভারে ফিরে দ্বিতীয় বলেই বোল্ড করে দেন গ্যারেথ ডেলানিকে, ওভারটিতে দেন মাত্র ১ রান।

১৮তম ওভারে তিনি কট বিহাইন্ড করে ফেরান হ্যারি টেক্টরকে। এই ওভারে রান দেন ৮। আর ইনিংসে শেষ ওভারে খরচ করেন মাত্র ৭ রান। নিজের বলে সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট করেন মার্ক অ্যাডায়ারকে।

তিনি যখন চার নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন, ৪০ বলে নামিবিয়ার দরকার ছিল ৫৩ রান। পরের ওভারে পরপর দুই ছক্কায় ওড়ান ইয়াংকে। পরে সেই ইয়াংকে চার হাঁকিয়েই মাতেন জয়ের উল্লাসে।

ভিসা নায়ক হলে পার্শ্বনায়ক গেরহার্ড এরাসমাস। তিনে নেমে নামিবিয়ার অধিনায়ক খেলেন ৪৯ বলে অপরাজিত ৫৩ রানের কার্যকর ইনিংস। ম্যাচ সেরা হয়ে ভিসা বললেন, পুরস্কারটা পাওয়া উচিত ছিল এরাসমাসের।

“আমি মনে করি, ম্যান অব দা ম্যাচের পুরস্কার অধিনায়ক গেরহার্ড এরাসমাসের প্রাপ্য। এই মুহূর্ত তারই এবং দলের বাকিরা এই পর্যায়ে আসার জন্য অনেক কাজ করেছে।”