‘লিটন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়, দলের সেরা ফিল্ডারদের একজন’

লোকের চোখ যেমন নায়ককে খোঁজে, তেমনি খলনায়ককেও। এই যেমন লিটন কুমার। তিনি কী করছেন না করছেন, খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে সব। কারণটা বুঝে নিতে কারও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। এমনিতেই ব্যাটে নেই রান। সঙ্গে যোগ হয়েছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ দুটি ক্যাচ হাতছাড়া করে দলের হার ডেকে আনা। তবে অন্য যে কোনো দিনের মতোই তিনি সারলেন তার প্রস্তুতি। পাশে পেলেন দলকে, যেটার কথা অনুশীলন শুরুর আগেই বলে যান ওটিস গিবসন।

শ্রীলঙ্কা ম্যাচের পর অনুশীলনে স্বাভাবিকভাবেই ক্যাচিংয়ে বাড়তি মনোযোগ ছিল বাংলাদেশের। দুবাই স্পোর্টস সিটির আইসিসি একাডেমিতে মঙ্গলবার অনুশীলনের শুরুতে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ক্যাচ অনুশীলন করেন ক্রিকেটাররা। সেখানে অন্যান্য দিনের মতোই নিজের মতো করে ঘাম ঝরিয়ে যান লিটন।

আবু ধাবিতে বুধবার ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনেও উঠে এলো আগের ম্যাচে লিটনের ক্যাচ ছাড়ার প্রসঙ্গ। বোলিং কোচ ওটিস গিবসন গোটা দলের হয়ে জানিয়ে দিলেন লিটনের ওপর তাদের আস্থার কথা।

“লিটন আমাদের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজন। প্রথমেই বলি, সে আমাদের সেরা ফিল্ডারদের একজন। দলে তার যা অবদান, গোটা দুই ক্যাচ হাতছাড়া করায় তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে না। ক্যাচ যে কেউ ফেলতে পারে। এই দুটি ক্যাচ এত আলোচিত, কারণ বলতেই পারেন যে দলের ফলাফলে প্রভাব রাখত।”

“তবে সে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার, বেশ কিছুদিন ধরেই। ওই পজিশনে যে কোনো ফিল্ডার ক্যাচগুলি ছাড়তে পারত। আমরা যা করি, ওর পাশে থাকে, সমর্থন জোগাই এবং নিজের মান সম্পর্কে ওকে মনে করিয়ে দেই। এটা ওকে বলি যে সে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”

হারের জন্য লিটন যেন নিজেকে দায়ী না ভাবতে পারেন, দলে যেন বিচ্ছিন্ন হয়ে না পড়েন, মানসিকভাবে যেন ভেঙে না পড়েন, সেদিকেও কোচরা সতর্ক বলে জানালেন গিবসন।

“দলের দিক থেকে এবং কোচিংয়ের দিক থেকে, আমরা সেই ক্রিকেটারের পাশে থাকি যে দলে তার ভূমিকা নিয়ে সচেতন এবং দলে যে মাত্রা সে যোগ করে। যেমনটি বলেছি, ক্যাচ যে কেউ যে কোনো সময়ে ছাড়তে পারে। আমরা অবশ্যই এটা হতে দিতে পারি না যে ওই একটি ক্যাচ তার ওপর বেশি প্রভাব ফেলবে।”

“দলের বাইরে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কে কী বলছে, এটা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। তবে দলের মধ্যে অবশ্যই কেউ ওই খেলোয়াড়কে দায় দিচ্ছে না। আমরা তাকে তার মানটা মনে করিয়ে দিচ্ছি এবং এটাও বলছি যে, টুর্নামেন্টে আরও চারটি ম্যাচ আছে। আশা করি, কালকে আমরা দারুণ পারফর্ম করব, ওই ক্রিকেটার দুর্দান্ত একটি ক্যাচ নেবে এবং সবাই তাকে পুরো ভিন্নভাবে দেখবে।”

এই ম্যাচেই শুধু নয়, প্রাথমিক পর্বেও বাংলাদেশের ফিল্ডারদের ক্যাচ ছাড়ার ঘটনা আছে। কেবল এই টুর্নামেন্টেই নয়, ফিল্ডিংয়ের দুর্বলতা দলকে ভোগাচ্ছে অনেকদিন থেকেই। গিবসন যদিও এখানে দুর্ভাবনার কিছু দেখছেন না।

“প্রতিটি ক্রিকেট ম্যাচেই একটি বা দুটি ক্যাচ হাত থেকে ফসকে যায়। যখন কোনো ক্যাচ ম্যাচের ফলে ভূমিকা রাখে, সেটাকে বড় করে দেখা হয়। তবে আমরা সবসময়ই ক্যাচ অনুশীলন করি অনেক। ক্যাচিং ড্রিল করা হয়। তবে ছেলেরা যখন মাঠে চাপে থাকে, ক্যাচ ছাড়ার মতো ব্যাপারগুলো হয়ে যায়।”

“আমি বলব না এটা উদ্বেগের ব্যাপার। কারণ, আমরা প্রতিদিনই ক্যাচের অনুশীলন করি। অবশ্যই যখন ক্যাচ হাত থেকে পড়ে যায়, এটাকে বড় করে দেখা হয়। আমরা সব সময়ই স্কিল বাড়ানো নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করি, ক্যাচ এসবের একটা।”