ভারত-পাকিস্তান ফাইনাল চান সাকলায়েন

৭৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলা মোহাম্মদ রিজওয়ানকে জড়িয়ে ধরে অভিনন্দন জানাচ্ছেন বিরাট কোহলি।
রাজনৈতিক কারণে দুই দেশের মধ্যে বৈরী সম্পর্ক থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে দুই দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে এর রেশ ছিল না ছিটেফোঁটাও। তা দেখে খুব খুশি সাকলায়েন মুশতাক। এই সম্পর্ক আরও গভীর করতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতকে প্রতিপক্ষ হিসেবে চাইছেন পাকিস্তানের প্রধান কোচ।

বৈশ্বিক আসর বা এশিয়া কাপ ছাড়া ভারত-পাকিস্তানের লড়াই দেখা যায় না এখন আর। দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলে না তারা আট বছর ধরে। তাই দুই দলের দেখাই হয় লম্বা সময় পরপর।

টি-টোয়েন্টি সংস্করণে তো পাঁচ বছর পর গত রোববার মুখোমুখি হলো ভারত ও পাকিস্তান। যেখানে প্রতিবেশিদের প্রথমবার বিশ্বকাপে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে পাকিস্তান। ১০ উইকেটের বিব্রতকর হারের পরও ম্যাচ শেষে ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে দেখা যায় মোহাম্মদ রিজওয়ানকে জড়িয়ে ধরতে। বিশ্বকাপে ভারতের মেন্টর মহেন্দ্র সিং ধোনিকে দেখা যায় পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলতে।

দুই দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ দেখে বেশ ভালো লেগেছে সাকলায়েনের। আফগানিস্তানের বিপক্ষে শুক্রবার লড়বে পাকিস্তান। আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে, ভারত-পাকিস্তান লড়াই নিয়ে প্রশ্নে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন কিংবদন্তি এই স্পিনার।

“ভারত যদি ফাইনালে যায়, তাহলে দারুণ হবে। এই কারণে নয় যে আমরা তাদেরকে হারিয়েছি। তারা শক্তিশালী একটি দল আর সবাই তাদের ফেভারিট হিসেবে বিবেচনা করে। তাদের বিপক্ষে আরেকটা ম্যাচ খেললে সম্পর্ক আরও ভালো হবে।”

“আগের ম্যাচে, বিরাট কোহলি, (এমএস) ধোনি, এমনকি আমাদের ক্রিকেটাররা যেভাবে নিজেদের উপস্থাপন করেছে, এটা একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে যে আমরা সবাই মানুষ। আমরা সবাই একে অপরকে ভালোবাসি, এটা কেবলই একটি খেলা। এই বার্তা দেওয়ার জন্য ক্রিকেটারদের কুর্নিশ। বন্ধুত্বের জয় হোক, হার হোক শত্রুতার।”

বিশ্বকাপে দারুণ ছন্দে রয়েছে পাকিস্তান। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ভারতকে উড়িয়ে দেওয়ার পর তারা জয় তুলে নিয়েছে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে। সেমি-ফাইনালে উঠলে তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে টি-টোয়েন্টির এক নম্বর ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দল।

সাকলায়েন বললেন, তারা প্রতিপক্ষ নিয়ে ভাবছেন না। স্রেফ নিজেদের সেরাটা খেলে এগোচ্ছেন শিরোপায় চোখ রেখে।

“বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য আসা কোনো দল প্রতিপক্ষের দিকে তাকায় না, নিজের খেলায় মনোযোগ দেয়। ইংল্যান্ড ফেভারিট, অস্ট্রেলিয়া কঠিন ক্রিকেট খেলে। দক্ষিণ আফ্রিকাও। আমি বিশ্বাস করি, দলের প্রতি প্রতিশ্রুতি, মনোভাব ও এগিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াটা নিজের হাতে থাকে, ফলাফল নয়।”

“কার বিপক্ষে খেলা সেটা না ভেবে, নিজেদের পরিকল্পনা কার্যকর করায় মনোযোগ দেওয়া উচিত। যদি ভারত ফাইনালে যায়, আইসিসি খুশি হবে সঙ্গে সমর্থকরাও।”