লিটন-মুশফিকের ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ ইনজামাম

দলের রান পঞ্চাশ না ছুঁতেই নেই প্রথম চার ব্যাটসম্যান। বাংলাদেশের ইনিংস তখন অল্পতেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায়। বিপর্যয়ে পড়া দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলেন লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিম। দুজনের মাস্টারক্লাস ব্যাটিংয়ের ভূয়সী প্রশংসা করলেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ইনজামাম-উল-হক।

পঞ্চম উইকেটে মুশফিক ও লিটনের অবিচ্ছিন্ন ২০৪ রানের জুটিতেই চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিন দারুণভাবে শেষ করেছে বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের স্কোর ওই ৪ উইকেটেই ২৫৩।

৪৭ রানে ৩ উইকেট পড়ার পর ক্রিজে যান মুশফিক। দলীয় স্কোরে আর ২ রান যোগ হতেই আরেকটি উইকেটের পতনে তার সঙ্গে যোগ দেন লিটন। এরপর শুরু হয় তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই।

শুরুতে ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়ে একটু একটু করে তারা মেলে ধরেন নিজেদের। দীর্ঘ প্রতীক্ষার শেষে টেস্ট সেঞ্চুরি খরা কাটিয়ে প্রথম দিনের নায়ক লিটন অপরাজিত আছেন ১১৩ রান করে। মুশফিকও এগিয়ে যাচ্ছেন সেঞ্চুরির দিকে। বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের বড় স্তম্ভ খেলছেন ৮২ রান নিয়ে।

নিজের ইউটিউব চ্যানেলে শুক্রবার প্রথম দিনের খেলা শেষে ইনজামাম বলেন, মুশফিক-লিটনের ব্যাটিং তার দারুণ লেগেছে।

ইনজামাম উল-হক। ফাইল ছবি

“আমি বলেছিলাম, যে দলই বাংলাদেশে আগে ব্যাটিং করবে, উইকেট ভেজা (শিশিরের কারণে) থাকলে রান করা কঠিন হবে। আজ হয়েছেও তাই, ৬০ রানের (৪৯ রানে) মধ্যে ৪ উইকেট পড়ে গিয়েছিল (বাংলাদেশের)। তবে লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিমকে কৃতিত্ব দিতে হবে। মুশফিক ৮২ রান করেছে আর লিটন তার প্রথম সেঞ্চুরি। দারুণ খেলেছে তারা।”

“আমি বলতে চাই, কৃতিত্ব বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের দিতেই হবে। চার উইকেট পড়ার পর তারা ভালো ব্যাটিং করেছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে।”

বাংলাদেশের চার উইকেটের তিনটিই নিয়েছেন পাকিস্তানের পেসাররা। দিন জুড়ে সবচেয়ে বেশি বোলিং করেছেন তাদের দুই স্পিনার সাজিদ খান ও নুমান আলি। অফ স্পিনার সাজিদ একটি উইকেট পেলেও বাঁহাতি স্পিনার নুমান সাফল্য পাননি। অনভিজ্ঞ এই স্পিন বিভাগের পারফরম্যান্সে খুশি নন ইনজামাম।

অভিজ্ঞ লেগ স্পিনার ইয়াসির শাহকে এবার স্কোয়াডেই রাখেনি পাকিস্তান। ওয়েস্ট ইন্ডিজে প্রথম টেস্টে উইকেটশূন্য থাকার পর দ্বিতীয় টেস্টে তাকে বাদ দিয়ে তারা নেয় নুমানকে। ইনজামাম মনে করছেন, ইয়াসিরের অভাব বেশ ভালোভাবেই উপলব্ধি করছে দল।

“আমি মনে করি, পাকিস্তান ইয়াসির শাহের ঘাটতি অনুভব করেছে। জানি না সে কেন খেলছে না। তবে তার অভিজ্ঞতা খুবই কাজে দিত, বিশেষ করে নতুন বলে পেসাররা উইকেট এনে দেওয়ার পর। আমার মনে হয়, দলে থাকা স্পিনার নুমান ও সাজিদ এতটা অভিজ্ঞ নয়। আমার মতে, পাকিস্তান শাদাব খানকেও দলে বিবেচনা করতে পারত।”