বোলিংয়ের স্বস্তি উধাও বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে

দিনের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য ছিল অভাবনীয় আনন্দে ভরা। শেষটা এলো সেই চেনা বিষাদ নিয়ে। আবারও টপ অর্ডারের ব্যর্থতা। আরেকটি ব্যাটিং বিপর্যয়। আরেকবার ধ্বংসস্তুপ থেকে উঠে দাঁড়ানোর লড়াই। তাইজুল ইসলাম ও অন্য বোলারদের সৌজন্যে পাওয়া উচ্ছ্বাস মিলিয়ে গেল হতাশাজনক ব্যাটিংয়ে।

চট্টগ্রাম টেস্টের তৃতীয় দিনে চা বিরতিতে গিয়েছিল বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪৪ রানের লিড পাওয়ার তৃপ্তি নিয়ে। ড্রেসিং রুমের সেই আলো হারিয়ে যায় দিনের আলো নিভে যাওয়ার বেশ আগেই। 

আলোকস্বল্পতায় যখন ১৪ ওভার আগেই শেষ হলো দিনের খেলা, বাংলাদেশের রান তখন ৪ উইকেটে ৩৯।

প্রথম ইনিংসের ৪৪ রানের লিড মিলিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে এখন ৮৬ রানে। হাতে কেবল ৬ উইকেট।

পেছন থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে দারুণ এক জয়ের আশা তাই করতেই পারে পাকিস্তান। বাংলাদেশের অপেক্ষায় চতুর্থ দিনের কঠিন পরীক্ষা।

লিড বাড়ানোর অভিযানে নেমে ইনিংসের শুরু থেকেই পথ হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে প্রথম ৪ উইকেট পড়েছিল ৪৯ রানে। এবার সেই ৪ ব্যাটসম্যান নেই ২৫ রানেই!

শাহিন শাহ আফ্রিদির বোলিং তোপে নড়বড়ে হয়ে পড়ে বাংলাদেশের টপ অর্ডার। পঞ্চম ওভারে তিন বলের মধ্যে তিনি ফেরান ওপেনার সাদমান ইসলাম ও তিনে নামা নাজমুল হোসেন শান্তকে।

পরের ওভারেই হাসান আলির বলে আলগা এক শটে শূন্য রানে উইকেট বিলিয়ে আসেন অধিনায়ক মুমিনুল হক।

আরেক পাশে সাইফ হাসান প্রথম ইনিংসের মতোই তিন বাউন্ডারিতে আগ্রাসী শুরুর ইঙ্গিত দেন। সেই ইনিংসেই শর্ট বলের সামনে তাকে নড়বড়ে দেখে আবার একই পন্থা বেছে নেয় পাকিস্তানি পেসাররা। বেশ কয়েকবার অল্পের জন্য বেঁচে গিয়ে শেষ পর্যন্ত আফ্রিদির শর্ট বলেই বিদায় নেন তিনি দৃষ্টিকটুভাবে।

উজ্জীবিত পাকিস্তান তখন উড়ছে। বাংলাদেশের বিপদ ক্রমাগত বাড়ছে। শেষ বিকেলে পরিস্থিতি একটু সামাল দেন মুশফিকুর রহিম ও ইয়াসির আলি চৌধুরি।

দিনের শুরুতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৪৫ রান নিয়ে দিন শুরু করা পাকিস্তানকে দারুণ বোলিংয়ে কাবু করেন তাইজুল ইসলাম। ১১৬ রানে তিনি নেন ৭ উইকেট। পাকিস্তান গুটিয়ে যায় ২৮৬ রানে।

এগিয়ে থাকার সেই দাপট আর ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। বোলারদের দারুণ পারফরম্যান্সে ম্যাচে ফেরে পাকিস্তান। চার উইকেট হারানোর পর নেমে অভিষিক্ত ইয়াসির ত্রয়োদশ বলে প্রথম রানের মুখ দেখেন বাউন্ডারি মেরে। মুশফিকের সঙ্গে মিলে তিনি দিন শেষ করেন নিরাপদে।

তবে ম্যাচে বাংলাদেশকে নিরাপদ অবস্থানে নিতে এই দুজনকে পাড়ি দিতে হবে আরও অনেকটা পথ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৩৩০

পাকিস্তান ১ম ইনিংস: (আগের দিন ১৪৫/০) ১১৫.৪ ওভারে ২৮৬ (আবিদ ১৩৩, শফিক ৫২, আজহার ০, বাবর ১০, ফাওয়াদ ৮, রিজওয়ান ৫, ফাহিম ৩৯, হাসান ১২, সাজিদ ৫, নুমান ৮, আফ্রিদি ১৩; আবু জায়েদ ১২-০-৪১-০, ইবাদত ২৬-৭-৪৭-২, তাইজুল ৪৪.৪-৯-১১৬-৭, মিরাজ ৩০-৭-৬৮-১, মুমিনুল ৩-০-১২-০)।

বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ১৯ ওভারে ৩৯/৪ (সাদমান ১, সাইফ ১৮, শান্ত ০, মুমিনুল ০, মুশফিক ১২*, ইয়াসির ৮*; আফ্রিদি ৬-৪-৬-৩, হাসান ৫-০-১৯-১, ফাহিম ৩-১-৬-০, নুমান ৪-২-৭-০, সাজিদ ১-০-১-০)।