বাংলাদেশকে গড়পড়তা বললেন ইনজামাম

প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ভাগেও ব্যর্থ বাংলাদেশের টপ অর্ডার। তাইজুল ইসলামের নৈপুণ্যে চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে যদিও লিড পেয়েছে তারাই। তবে দলটি ইনজামাম-উল-হকের চোখে একদমই সাধারণ মানের। পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক তো সরাসরি বলে দিলেন, ব্যাটিং-বোলিং কোনোটাই তেমন ভালো নয় বাংলাদেশ দলের।

বাংলাদেশের টপ অর্ডারদের পারফরম্যান্স যেন খারাপ থেকে খারাপতর হচ্ছে। চলমান টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪৯ রানে ৪ উইকেট হারানো দল দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেট হারিয়েছে কেবল ২৫ রানে। তারপরও তৃতীয় দিনের সকালে ও দুপুরে দুর্দান্ত বোলিংয়ে প্রথম ইনিংসে ৪৪ রানের লিড পায় তারা। যার সুবাদে দিন শেষে স্বাগতিকরা এগিয়ে ৮৩ রানে।

আগের দিন বিনা উইকেটে ১৪৫ রান তুলে ফেলা পাকিস্তানকে রোববার দাঁড়াতেই দেননি তাইজুল। ৭ উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষকে গুটিয়ে দেন ২৮৬ রানে।

বাংলাদেশের বাঁ হাতি এই স্পিনার উইকেট পেলেও পাকিস্তানের স্পিনাররা এখন পর্যন্ত নিষ্প্রভ। বাংলাদেশের পড়া ১৪ উইকেটের কেবল একটি পেয়েছেন অফ স্পিনার সাজিদ খান। এমন একটি ‘গড়পড়তা’ দলের বিপক্ষে স্পিনারদের কাছে আরও ভালো পারফরম্যান্স প্রত্যাশা করছেন ইনজামাম।

রোববার দিনের খেলা শেষে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ইনজামাম আশা প্রকাশ করেন, চতুর্থ দিনে বাংলাদেশকে বেশিদূর যেতে দিবে না পাকিস্তান।

“পাকিস্তানের স্পিনারদের দ্রুত উইকেট নিতে হবে। এই জন্য বলছি যে যেহেতু শাহিন শাহ আফ্রিদি ও হাসান আলি উপরের চার উইকেট এনে দিয়েছে। আর বাংলাদেশের এই দল একদমই গড়পড়তা মানের। এদের না আছে ব্যাটিং, না আছে বোলিং। এই দলের বিপক্ষে তো সহজেই স্পিনারদের উইকেট এনে দেওয়া উচিত।”

“১৫ রানে যেহেতু ৪ উইকেট পড়ে গেছে, আমার মনে হয় না এদের একশর বেশি রান করতে দেওয়া উচিত। আর আমার বিশ্বাস, পাকিস্তান আগামী সকালে বাংলাদেশকে গুঁড়িয়ে দিবে।”

চট্টগ্রামের উইকেট ক্রমেই হয়ে উঠছে ভয়ঙ্কর। রান তুলতে বেগ পেতে হচ্ছে ব্যাটসম্যানদের। প্রতিপক্ষকে সাধারণ মানের বলার পাশাপাশি উত্তরসূরিদের সতর্কও করে দিলেন ইনজামাম।

“এই উইকেট সামনে আরও ভয়ঙ্কর হবে। যদি পাকিস্তানের ২০০ রান তাড়া করতে হয়, তাহলে সেটাও বেশ কঠিন হবে। এই ইনিংসে বাংলাদেশকে ১০০ বা এর একটু বেশি রানের মধ্যে আটকাতে হবে। সঙ্গে ৫০ রানের মতো যে লিড আছে সেটাসহ লক্ষ্য রাখতে হবে ১৫০-২০০ এর মধ্যে। তা না হলে পাকিস্তানের জন্য এই টেস্ট কঠিন হয়ে যাবে।”

প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং ধসে পড়লেও সেঞ্চুরি করে বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহ এনে দেন লিটন দাস। ৯১ রানের ইনিংস খেলে অবদান রাখেন মুশফিকুর রহিম। দ্বিতীয় ইনিংসে বিপর্যয়ের পর এখন তার কাঁধেই এগোচ্ছে দল। দ্বিতীয় দিন শেষে এই দুইজনকে প্রশংসায় ভাসিয়েছিলেন ইনজামাম।

বাংলাদেশকে লিড এনে দেওয়ার কারিগর তাইজুল ৭ উইকেট নিয়েছেন ১১৬ রান দিয়ে। পাকিস্তানের বিপক্ষে দেশের হয়ে যা সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড। তবে বাঁহাতি এই স্পিনারের বোলিংয়ে আহামরি কিছু চোখে পড়েনি পাকিস্তানের ব্যাটিং কিংবদন্তির।

“আজ দুই দলের ব্যাটিং দেখেই আমার খারাপ লেগেছে। বাংলাদেশের একজন স্পিনার (তাইজুল) যে সাত উইকেট নিয়েছে, তাকে সাধুবাদ। কিন্তু তার বোলিংয়ে বিশেষ কিছু আমার চোখে পড়েনি, এমন কিছুই ছিল না। আমার মনে হয় পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের আরও ভালো খেলা উচিত ছিল।”