‘ওই বল পেলে একই শট আর খেলবে না সোহান’

স্রেফ একটি শট হয়তো একটি দিন বা একটি ম্যাচের নিয়ামক হয় না। তবে দিনের বা ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় অনেক সময় তা হয়ে ওঠে বড় প্রভাবক। নুরুল হাসান সোহানের শট যেমন! তার শটটি যেন এক ঝটকায় ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে বাংলাদেশকে। তা দেখে হতাশ বাংলাদেশ কোচ রাসেল ডমিঙ্গোও। তবে তার বিশ্বাস, এমন ভুল আর করবেন না সোহান।

এই ম্যাচের প্রথম তিন দিনে কোনো ভূমিকা ছিল না সোহানের। একাদশেই যে ছিলেন না! হঠাৎ করেই তার সামনে সুযোগ আসে নায়ক হওয়ার। চতুর্থ দিন লাঞ্চের আগে হেলমেটে বল লাগার পর ইয়াসির আলি চৌধুরি মাঠ ছাড়ায় তার কনকাশন বদলি হিসেবে নেওয়া হয় সোহানকে। তিন বছর পর টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়ে যান তিনি অভাবনীয়ভাবে।

মানসিকভাবে খুব প্রস্তুত হয়ে ওঠার আগে ব্যাটিংয়েও নেমে যেতে হয় সোহানকে। অপ্রস্তুত থেকেও তিনি শুরুটা করেন দারুণ। তিনটি দারুণ বাউন্ডারি মারেন, উইকেটে বেশ স্বচ্ছন্দ মনে হয় তাকে। লিটন দাসের সঙ্গে কার্যকর এক জুটিও গড়ে তোলেন।

লিড বাড়ছিল বেশ দ্রুত, পাকিস্তানকে মনে হচ্ছিল চাপে। তখন হঠাৎই সোহান নিজের উইকেট উপহার দেন প্রতিপক্ষকে। লং অন সীমানায় ফিল্ডার থাকার পরও অফ স্পিনার সাজিদ খানকে তিনি উড়িয়ে মারেন। সীমানায় সহজ ক্যাচ!

১৫ রানে আউট হয়ে ফেরেন সোহান। সঙ্গে শেষ হয়ে যায় দলের সম্ভাবনাও। ৪ রানের মধ্যে শেষ ৪ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে যায় ১৫৭ রানে। পাকিস্তান পায় তুলনামূলক সহজ লক্ষ্য।

দিনশেষে সংবাদ সম্মেলনে কোচ রাসেল ডমিঙ্গো লুকালেন না হতাশা। তবে ভুল থেকে সোহান শিখবে বলেও আশা তার।

“কখনোই আমি মিডিয়ায় ক্রিকেটারদের সমালোচনা করব না। তবে ওই সময়টায় আমরা কিছুটা মোমেন্টাম পেতে শুরু করেছিলাম। ৬ উইকেট হারিয়ে ১৯৬ রানে এগিয়ে ছিলাম তখন আমরা। ওই জুটি আর ৪০-৫০ রান করতে পারলে পাকিস্তানকে চাপে রাখা যেত। তখন হয়তো ঘণ্টাখানেকের জন্য ব্যাটিংয়ে নামতে হতো ওদের।”

“সোহানকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, ‘এই বলে তুমি কি করবে?’, আমি নিশ্চিত, সে আর এই শট খেলবে না। অবশ্যই সে নিজেকে হতাশা করেছে ওই সময়ে ওই শট খেলে। আমরা ওই সময় ম্যাচে এগিয়ে ছিলাম। ১৯৬ রানে এগিয়ে ছিলাম, দুজন থিতু ব্যাটসম্যানকে নিয়ে ভালো অবস্থায় ছিলাম আমরা। ওই আউটে সে নিজেকে ও দলকে হতাশ করেছে।”