স্পিনারদের আরেকটি দিনে মেন্ডিসের ৬ উইকেট

রমেশ মেন্ডিস। ছবি: আইসিসি
এ যেন শ্রীলঙ্কার ইনিংসেরই পুনরাবৃত্তি! শক্ত ভিত পেয়েও ধসে পড়ল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইনআপ। ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে তাদের লিড বড় হতে দিলেন না রমেশ মেন্ডিস। তবে দিনের শেষ ভাগে লঙ্কানদের দুটি রান আউটে ম্যাচে একটু হলেও এগিয়ে ক্যারিবিয়ানরাই।

গল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিন বুধবার ২ উইকেটে ১৬৬ রানের শক্ত অবস্থান থেকে ২৫৩ রানে অলআউট হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ইনিংসে লিড পেয়েছে তারা ৪৯ রানের।

দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ২ উইকেটে ৪৬ রান। তারা এগিয়ে কেবল ৩ রানে। আগের দিন ২ উইকেটে ১৫২ থেকে তাদের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে গিয়েছিল ২০৪ রানে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের সব উইকেটই নিয়েছেন শ্রীলঙ্কার স্পিনাররা। প্রথম ইনিংসে যেমন তাদের সব উইকেট নিয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা। ১৯৫২ সালের পর এই প্রথম কোনো টেস্টের প্রথম দুই ইনিংস মিলিয়ে কোনো উইকেট পেলেন না পেসাররা।

সফরকারীদের আড়াইশর কাছাকাছি থামাতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন রমেশ মেন্ডিস। এই অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার ৭০ রানে নিয়েছেন ৬ উইকেট। চার টেস্টের ক্যারিয়ারে পাঁচ উইকেটের স্বাদ পেলেন তিনি প্রথমবার। ৬৪ রানে ৪ উইকেট ছিল তার আগের সেরা বোলিং।

দুই বাঁহাতি স্পিনার প্রাভিন জয়াবিক্রমা ও লাসিথ এম্বুলদেনিয়ার প্রাপ্তি ২টি করে উইকেট।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সর্বোচ্চ ৭২ রান করেন ‘বার্থডে বয়’ ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট। ক্যারিবিয়ান অধিনায়কের ১৮৫ বলের ইনিংসটি গড়া ৯টি চারে।

দুই দলের ইনিংসই বলে দিচ্ছে তৃতীয় দিনেও উইকেট থেকে যথেষ্ট সহায়তা পেয়েছেন স্পিনাররা। পুরো দিনে খেলা হওয়া ৯৫ ওভারের মধ্যে দুই দল মিলিয়ে পেসারদের মধ্যে কেবল শ্রীলঙ্কার সুরঙ্গা লাকমল হাত ঘুরিয়েছেন পাঁচ ওভার।

১ উইকেটে ৬৯ রান নিয়ে খেলতে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা হয়েছিল দারুণ। আগের দিন ২২ রানে অপরাজিত থাকা ব্র্যাথওয়েট প্রথম ঘণ্টায় ফিফটি পূরণ করেন ১৩৫ বলে। এনক্রুমা বনারের সঙ্গে জমে গিয়েছিল তার জুটি।

লাঞ্চের একটু আগে বনারকে এলবিডব্লিউ করে ৭৫ রানের জুটি ভাঙেন মেন্ডিস। দ্বিতীয় সেশনে ধসে পড়ে সফরকারীদের ব্যাটিং। এই সময়ে তারা ৯০ রান তুলতে হারায় ৬ উইকেট।

দারুণ এক ডেলিভারিতে ব্র্যাথওয়েটকে বোল্ড করে দেন এম্বুলদেনিয়া। দ্বিতীয় নতুন বলে প্রথম ওভারেই টার্ন ও বাউন্সে রোস্টন চেইসকে ফেরান মেন্ডিস। ১০ রান করে চেইস ধরা পড়েন লেগ স্লিপে। অনেকটা সময় উইকেটে কাটিয়ে ইনিংস বড় করতে পারেননি শেই হোপ (৮৯ বলে ২২)। তাকে এলবিডব্লিউ করেন মেন্ডিস।

২৬ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার নিজের পরের ওভারের শেষ দুই বলে জেসন হোল্ডার ও জশুয়া দা সিলভাকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূরণের পাশাপাশি জাগান হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা। আগের বলে একটি চার মেরে আলগা শটে এলবিডব্লিউ হন হোল্ডার। বলের লাইন মিস করে বোল্ড জশুয়া।

মেন্ডিসের হ্যাটট্রিক বল ঠেকিয়ে দেন কাইল মেয়ার্স। কেমার রোচকে দ্রুত বিদায় করেন জয়াবিক্রমা। তখন ২০৮ রানে নেই ৮ উইকেট।

নবম উইকেটে ভিরাসামি পেরমলের সঙ্গে মেয়ার্সের ৩৮ রানের জুটিতে আড়াইশর কাছে যায় দলটির স্কোর। ১৫ রান করা পেরমলকে বোল্ড করেন এম্বুলদেনিয়া। আর জোমেল ওয়ারিক্যানকে ফিরিয়ে ইনিংস গুটিয়ে দেন মেন্ডিস। ৬৪ বলে ২ চার ও একটি ছক্কায় ৩৬ রানে অপরাজিত ছিলেন মেয়ার্স।

পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই দিমুথ করুনারত্নেকে হারায় শ্রীলঙ্কা। চেইসকে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টের দিকে খেলে সিঙ্গেল নিতে চেয়েছিলেন লঙ্কান অধিনায়ক। সরাসরি থ্রোয়ে বোলার প্রান্তের স্টাম্প এলোমেলো করে দেন মেয়ার্স।

পাথুম নিসানকা ও ওশাদা ফার্নান্দো দেখেশুনে এগিয়ে নিচ্ছিলেন দলকে। কিন্তু ৭৫ বলে ৩২ রানের এ জুটিও ভাঙে রান আউটে। নিসানকার সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউটে কাটা পড়েন ওশাদা। অভিষিক্ত চারিথ আসালাঙ্কাকে (২২ বলে ৪*) নিয়ে দিনের শেষ কয়েক ওভার কাটিয়ে দেন নিসানকা (৫৩ বলে ২১*)।      

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ২০৪

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ১০৪.২ ওভারে ২৫৩ (আগের দিন ৬৯/১) (ব্র্যাথওয়েট ৭২, বনার ৩৫, হোপ ২২, চেইস ১০, মেয়ার্স ৩৬*, হোল্ডার ৪, জশুয়া ০, রোচ ৮, পেরমল ১৫, ওয়ারিক্যান ১; লাকমল ৯-৩-২২-০, এম্বুলদেনিয়া ৩৫-১৩-৯৪-২, মেন্ডিস ৩৪.২-৮-৭০-৬, জয়াবিক্রমা ২৫-৪-৫৯-২, ধনাঞ্জয়া ১-০-৮-০)

শ্রীলঙ্কা ২য় ইনিংস: ২১ ওভারে ৪৬/২ (করুনারত্নে ৬, নিসানকা ২১*, ওশাদা ১৪, আসালাঙ্কা ৪*; পেরমল ৯-২-২০-০, চেইস ৫-১-৮-০, ওয়ারিক্যান ৭-১-১৭-০)