সম্ভাব্য টেস্ট অভিষেকের ভাবনায় নির্ঘুম রাত কাটছে না কেয়ারির

অ্যালেক্স কেয়ারি। ছবি: ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া
লাল বলের ক্রিকেটে সাম্প্রতিক ফর্ম একদমই ভালো নয়। এমন সময় অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টেস্ট অভিষেক তো অভাবনীয়। তবে সেটাই হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল অ্যালেক্স কেয়ারির সঙ্গে। ব্রিজবেন টেস্টের জন্য যে তিনিই স্বাগতিকদের এখন প্রথম পছন্দের কিপার-ব্যাটসম্যান।

ক্রিকেটের সবচেয়ে অভিজাত আঙিনায় পা ফেলার সম্ভাবনায় রোমাঞ্চ ছুঁয়ে গেলেও সেসব নিয়ে খুব বেশি ভাবছেন না কেয়ারি।

অ্যাশেজ সিরিজের প্রথম দুই টেস্টের জন্য প্রথমে অস্ট্রেলিয়ার ঘোষিত ১৫ সদস্যের দলে একমাত্র কিপার-ব্যাটসম্যান ছিলেন টিম পেইন। কিন্তু চার বছরের পুরনো বিতর্কিত এক ঘটনা পুনরায় সামনে চলে আসায় তিনি সম্প্রতি ছেড়ে দেন টেস্ট অধিনায়কত্ব। পরে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন ক্রিকেট থেকেও।

এরপরই জোরেসোরে আসতে থাকে কেয়ারি ও জশ ইংলিসের নাম। ব্রিজবেন টেস্ট শুরুর পরদিনই মাঠে গড়াবে ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের চার দিনের ম্যাচ। সেই ম্যাচের জন্য অ্যাশেজ দলের সঙ্গেই একটি একাদশ ঘোষণা করে অস্ট্রেলিয়া। যেখানে আছেন এই দুই কিপার-ব্যাটসম্যান।

অ্যাশেজের মাঝপথে দলে ক্রিকেটারের প্রয়োজন মেটাতে মূলত এই ১১ জনকে সঙ্গে রেখেছে অস্ট্রেলিয়া। দলটির সেই প্রয়োজন পড়ে যায় সিরিজ শুরুর আগেই। পেইন সরে যাওয়ায় কিপার-ব্যাটসম্যানের জায়গার লড়াইয়ে ছিলেন কেয়ারি ও ইংলিস।

অভিজ্ঞতার কারণে এগিয়ে ছিলেন কেয়ারিই। ২০১৮ সালে ওয়ানডে দিয়ে পা রাখেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। এই সংস্করণে খেলেছেন ৪৫ ম্যাচ, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ৩৮টি।

ইংলিসও ভালোভাবেই ছিলেন বিবেচনায়। কেয়ারিকে টপকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলেও জায়গা পেয়েছিলেন তিনি। তবে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ইংলিস জৈব সুরক্ষা বলয় ছেড়ে মঙ্গলবার পার্থের উদ্দেশে রওনা দেওয়ায় কেয়ারির সামনে টেস্ট অভিষেকের পথ অনেকটাই সুগম করে দিয়েছে।

সম্ভাবনা প্রবল হলেও অস্ট্রেলিয়ার ৪৬৩তম টেস্ট ক্রিকেটার ও ৩৪তম কিপার-ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি খেলতে যাচ্ছেন কি-না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। পেইনের সঙ্গে দেখা করতে তাসমানিয়ায় গেছেন কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার। তার ফেরার পরই জানা যাবে আগামী ৮ ডিসেম্বর শুরু হতে যাওয়া ম্যাচে কে হচ্ছেন স্বাগতিকদের উইকেটরক্ষক।

স্থানীয় রেডিও চ্যানেল আরএসএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ৩০ বছর বয়সী কেয়ারি বলেন, অভিষেকের ভাবনায় কাতর নন তিনি।

“দলে জায়গা পাওয়া না পাওয়ার বিষয়টি পুরোপুরিভাবে আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এটা এমন একটা বিষয়, যা নিয়ে চিন্তা করে আমার সময় নষ্ট করা উচিত নয়। বাচ্চারা বাড়িতে আছে-একজন ১২ সপ্তাহের, আরেকজন তিন বছর বয়সী। এখানে ব্রিজবেনে শেষ কয়েক রাত্রি সত্যিই দুর্দান্ত ঘুম হয়েছে।”

“আশা করি, আমরা শিগগিরই (দল নিয়ে) চূড়ান্ত কিছু শুনতে পাব। সুযোগটি পেলে সত্যিই গর্বিত বোধ করব ও কৃতজ্ঞ থাকব…একজন তরুণ ছেলের স্বপ্ন সত্যি হবে।”

ঘরোয়া চলতি মৌসুমে লাল বলে সময় ভালো কাটছে না কেয়ারির। এবারের শেফিল্ড শিল্ডে আট ইনিংসে স্রেফ রান করেছেন তিনি ১৫৩। যেখানে সবশেষ পাঁচ ইনিংসে যেতে পারেননি দুই অঙ্কে। ফিফটি ছোঁয়া ইনিংস কেবল একটি।

এরপরই সাদা বলের ক্রিকেটে ব্যাট হাতে আলো ছড়ান তিনি। ব্রিজবেনে অ্যাশেজ দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আগে মার্শ কাপে কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে করেন ১০১ রান।

এমনিতে প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ার ভালোই সমৃদ্ধ কেয়ারির। এই সংস্করণে ৪৫ ম্যাচে ৩৪.৭৩ গড়ে রান করেছেন ২ হাজার ৪৬৬। ১৩ ফিফটির সঙ্গে সেঞ্চুরি আছে ৫টি।

চলতি মৌসুমে সেভাবে রান না পেলেও নিজেকে নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী কেয়ারি।

“খুব ভালো অবস্থানে ছিলাম বলেই মনে হচ্ছে। শেফিল্ড শিল্ডের প্রথম ভাগে প্রত্যাশা অনুযায়ী রান না পেলেও আমার মনে হয়, বল বেশ ভালোভাবে খেলেছে। আমার মনে হয়, গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে আমি বেশ ভালোই খেলেছি।”