উইন্ডিজের বিপক্ষে আইরিশদের প্রথম সিরিজ জয়

দারুণ শুরুর পর পথ হারাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্রেইগ ইয়াং ও অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইনের দুর্দান্ত বোলিংয়ে এলোমেলো হয়ে গেল তাদের ব্যাটিং লাইন-আপ। দুইশর একটু বেশি রান তাড়ায় আয়ারল্যান্ডও শেষ দিকে পড়ে বিপাকে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে তারা। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে প্রথমবারের মতো ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে জয়ের স্বাদ পেল আইরিশরা।

জ্যামাইকায় তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২ উইকেটে হারিয়েছে আয়ারল্যান্ড। ২১৩ রানের লক্ষ্য সফরকারীরা ছুঁয়ে ফেলে ৩১ বল বাকি থাকতে।

প্রথম ম্যাচ হারার পর টানা দুই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজটি জিতল আয়ারল্যান্ড। ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে তাদের এটা প্রথম জয়। আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের পর টেস্ট খেলুড়ে কোনো দলের বিপক্ষে এটি তাদের প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয়।

আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ সুপার লিগে ৬৮ পয়েন্ট নিয়ে তিনে উঠেছে আয়ারল্যান্ড। শীর্ষে থাকা ইংল্যান্ডের পয়েন্ট ৯৫। বাংলাদেশ ৮০ পয়েন্ট নিয়ে আছে দুইয়ে।

অলরাউন্ড নৈপুণ্যে আইরিশদের দারুণ এই জয়ের নায়ক ম্যাকব্রাইন। ২৮ রানে ৪ উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতে তিনি খেলেন ৫৯ রানের ইনিংস। ম্যাচ সেরা ও সিরিজ সেরার পুরস্কার ওঠে তার হাতে।

হ্যারি টেক্টরের ব্যাট থেকে আসে ৫২ রান। কোভিড-১৯ পজিটিভ হওয়া অ্যান্ডি বালবার্নির অনুপস্থিতিতে নেতৃত্ব দেওয়া পল স্টার্লিং করেন ৪৪ রান।

সাবিনা পার্কে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা ছিল বেশ ভালো। উদ্বোধনী জুটিতে শেই হোপ ও জাস্টিন গ্রিভস এনে দেন ৭২ রানের জুটি। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ৩৭ বলে ফিফটি করা হোপকে ফিরিয়ে প্রতিরোধ ভাঙেন ইয়াং। আইরিশ পেসারের শর্ট বল হুক শট খেলে ফাইন লেগে ধরা পড়েন ৯ চার ও এক ছক্কায় ৩৯ বলে ৫৩ করা হোপ।

ইয়াং পরের ওভারে এসে নেন গ্রিভসের উইকেট। নিজের পরপর দুই ওভারে নিকোলাস পুরান ও শামার ব্রুকসকে এলবিডব্লিউ করে দেন ম্যাকব্রাইন। দুইজনের কেউই যেতে পারেননি দুই অঙ্কে।

ম্যাকব্রাইনের অফ স্পিনে দ্রুত ফিরে যান কাইরন পোলার্ডও। বিনা উইকেটে ৭২ থেকে ৪৭ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে দেড়শর আগে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় তখন স্বাগতিকরা। তখন দলের হাল ধরেন জেসন হোল্ডার; ৬ চারে করেন ৪৪ রান। আকিল হোসেন ও ওডিন স্মিথের ব্যাটে দুইশ পার করে দলটি।

জবাব দিতে নেমে প্রথম বলেই উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডকে হারায় আয়ারল্যান্ড। আলজারি জোসেফের বলে থার্ডম্যানে তার ক্যাচ নেন আকিল।

শুরুর ধাক্কা আইরিশরা কাটিয়ে ওঠে স্টার্লিংয়ের ব্যাটে। ৫ চার ও এক ছক্কায় ৩৮ বলে ৪৪ রান করা এই ব্যাটসম্যান ফেরেন আকিলের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে। ভাঙে ম্যাকব্রাইনের সঙ্গে তার ৭২ রানের জুটি।

দেখেশুনে খেলে ম্যাকব্রাইন ও হ্যারি টেক্টর দলকে এগিয়ে নেন জয়ের দিকে। দুইজনেই তুলে নেন ফিফটি। ম্যাকব্রাইন ৫০ স্পর্শ করেন ৮৯ বলে, টেক্টর ৭২ বলে।

তাদের ৭৯ রানের প্রতিরোধ ভাঙে ৬ চার ও এক ছক্কায় ৫৯ রান করা ম্যাকব্রাইনের বিদায়ে। এরপর দ্রুত আরও কয়েকটি উইকেট হারিয়ে ফেলে আইরিশরা। কাজ শেষ করে আসতে পারেননি ৩ চারে ৫২ করা টেক্টরও।

২ উইকেটে ১৫২ থেকে আয়ারল্যান্ডের স্কোর হয়ে যায় ৮ উইকেটে ২০৮ রান। লক্ষ্য ছোট থাকায় অবশ্য জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে বেগ পেতে হয়নি তাদের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৪৪.৪ ওভারে ২১২ (হোপ ৫৩, গ্রিভস ১২, পুরান ২, ব্রুকস ১, চেইস ১৯, পোলার্ড ৩, হোল্ডার ৪৪, শেফার্ড ১৩, আকিল ২৩, স্মিথ ২০*, জোসেফ ৬; লিটল ৯-১-৫৫-০, অ্যাডায়ার ৭-১-৩৮-০, ইয়াং ৭.৪-০-৪৩-৩, ম্যাকব্রাইন ১০-২-২৮-৪, ক্যাম্পার ৪-০-১৪-১, ডকরেল ৩-০-১১-১, স্টার্লিং ৪-০-১৬-০)

আয়ারল্যান্ড: ৪৪.৫ ওভারে ২১৪/৮ (পোর্টারফিল্ড ০, স্টার্লিং ৪৪, ম্যাকব্রাইন ৫৯, টেক্টর ৫২, রক ২, ক্যাম্পার ১১, ডকরেল ৭, ডেলানি ১০, অ্যাডায়ার ১*, ইয়াং ৫*; জোসেফ ১০-১-৩৫-১, শেফার্ড ৬.৫-০-২৮-০, স্মিথ ৩-০-২৩-১, আকিল ১০-০-৫৯-৩, হোল্ডার ২-০-১৬-০, পোলার্ড ৩-০-৮-০, চেইস ১০-০-৪৪-৩)

ফল: আয়ারল্যান্ড ২ উইকেটে জয়ী

সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছে আয়ারল্যান্ড

ম্যান অব দা ম্যাচ: অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন

ম্যান অব দা সিরিজ: অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন