ফন ডাসেন-বাভুমার সেঞ্চুরিতে ভারতকে হারাল দ. আফ্রিকা

ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়ের পর ওয়ানডে সিরিজের শুরুটাও দারুণ হলো দক্ষিণ আফ্রিকার। চাপের মধ্যে দলকে টানলেন টেম্বা বাভুমা ও রাসি ফন ডার ডাসেন। দুই জনই সেঞ্চুরি করে এনে দিলেন তিনশর কাছাকাছি পুঁজি। সম্মিলিত চেষ্টায় বাকিটা সারলেন বোলাররা। সহজ জয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা।

তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বুধবার দক্ষিণ আফ্রিকার জয় ৩১ রানে। পার্লে ২৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ভারত থমকে যায় ২৬৫ রানে।

পাঁচ নম্বরে নেমে ৯৬ বলে অপরাজিত ১২৯ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা ফন ডার ডাসেন। অধিনায়ক বাভুমা ১৪৩ বলে করেন ১১০ রান। চতুর্থ উইকেটে দুজন উপহার দেন ১৮৪ বলে ২০৪ রানের জুটি।

রান তাড়ায় ভারতের হয়ে ফিফটি করেন শিখর ধাওয়ান, বিরাট কোহলি ও শার্দুল ঠাকুর। তবু লক্ষ্যের ধারেকাছে যেতে পারেনি স্বাগতিকরা।

দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট সিরিজ হারের পরদিন আচমকা এই সংস্করণের নেতৃত্ব ছাড়েন কোহলি। বিশ্বকাপ দিয়ে টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব নিজ থেকে ছাড়ার পর তাকে সরিয়ে দেওয়া হয় ওয়ানডের নেতৃত্ব থেকে। দীর্ঘদিন পর ‘সাধারণ একজন ক্রিকেটার’ হিসেবে প্রথম ম্যাচে ব্যাট হাতে তিনি ৫১ রান করলেও ম্যাচটা মনে রাখার মতো হলো না।

টস হেরে বোলিং পেয়ে ভারতের শুরুটা হয় অবশ্য দারুণ। জাসপ্রিত বুমরাহ, ভুবনেশ্বর কুমাররা আঁটসাঁট বোলিংয়ে চেপে ধরেন স্বাগতিকদের।

পঞ্চম ওভারে ইয়ানেমান মালানকে কট বিহাইন্ড করে দলকে প্রথম সাফল্য এনে দেন বুমরাহ। ২০১৯ বিশ্বকাপের পর প্রথম পাওয়ার প্লেতে ডানহাতি এই পেসারের প্রথম উইকেট এটি।

কিছুদিন আগে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানানো কুইন্টন ডি কক পারেননি ইনিংস টেনে নিতে। ২৭ রানে তাকে বোল্ড করে দেন ২০১৭ সালের জুনের পর ওয়ানডে খেলতে নামা অফ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। অভিষিক্ত ভেঙ্কাটেশ আইয়ারের সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট হয়ে বিদায় নেন এইডেন মারক্রাম।

১৮তম ওভারে তখন ৬৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে দক্ষিণ আফ্রিকা। সেখান থেকেই বাভুমা ও ফন ডার ডাসেনের ওই জুটি।

দুজনই খেলেন দারুণ কিছু শট। বাভুমা ফিফটি পূর্ণ করেন ৭৮ বলে। ফন ডার ডাসেনের লাগে কেবল ৪৯ বল।  

বাভুমা দ্বিতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নেন ১৩৩ বলে। একটু পর ফন ডার ডাসেন তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন মাত্র ৮৩ বলে। ৩২ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যানেরও এটি দ্বিতীয় সেঞ্চুরি।   

শেষের আগের ওভারে বাভুমার বিদায়ে ভাঙে জুটিটি। তার ১১০ রানের ইনিংস গড়া ৮টি চারে। শেষ ওভারে শার্দুলকে ছক্কা-চারে স্কোর তিনশর কাছে নিয়ে যাওয়া ফন ডার ডাসেনের ১২৯ রানের ইনিংস সাজানো ৯ চার ও ৪ ছক্কায়।

রান তাড়ায় ভারতের দুই ওপেনার করেন সতর্ক শুরু। প্রথম আট ওভারে আসে ৪৪ রান। পরের ওভারেই লোকেশ রাহুলকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন মারক্রাম। রোহিত শর্মার চোটে সিরিজে নেতৃত্ব পাওয়া রাহুল করেন ১২ রান।

পাঁচ মাসের বেশি সময় পর জাতীয় দলের হয়ে খেলতে নামা ধাওয়ান ও কোহলি এগিয়ে নেন দলকে। ধাওয়ান ফিফটি করেন ৫১ বলে। দুজনের জুটিতে ভারত ম্যাচে ছিল ভালোভাবেই। কিন্তু ১০২ বলে ৯২ রানের এ জুটি ভাঙার পরই তাদের পথ হারানোর শুরু।

ধাওয়ানকে বোল্ড করে থামান স্পিনার কেশভ মহারাজ। ৮৪ বলে ১০ চারে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান করেন ৭৯ রান। ফিফটির পরপরই তাবরাইজ শামসিকে সুইপ করার চেষ্টায় মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন কোহলি। তার ৬৩ বলের ইনিংসে চার ৩টি।

শ্রেয়াস আইয়ার, রিশাভ পান্ত, ভেঙ্কাটেশ পারেননি তেমন কিছু করে দেখাতে। ১৩ বলের মধ্যে বিদায় নেন এই তিন জন। অশ্বিন ও ভুবনেশ্বরও ফেরেন দ্রুতই।

তখন ২১৪ রানে ৮ উইকেট হারানো ভারতের সামনে অলআউট হওয়ার শঙ্কা। সেখান থেকে নবম উইকেটে শার্দুল ও বুমরাহর অবিচ্ছিন্ন ৫১ রানের জুটিতে পরাজয়ের ব্যবধানই কমে শুধু। শেষ বলে প্রথম ফিফটি করা শার্দুল ৪৩ বলে ৫ চার ও একটি ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ৫০ রানে।

আগামী শুক্রবার একই মাঠে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ভারতের সামনে সিরিজ বাঁচানোর চ্যালেঞ্জ। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

দক্ষিণ আফ্রিকা: ৫০ ওভারে ২৯৬/৪ (ডি কক ২৭, মালান ৬, বাভুমা ১১০, মারক্রাম ৪, ফন ডার ডাসেন ১২৯*, মিলার ২*; বুমরাহ ১০-০-৪৮-২, ভুবনেশ্বর ১০-০-৬৪-০, শার্দুল ১০-১-৭২-০, অশ্বিন ১০-০-৫৩-১, চেহেল ১০-০-৫৩-০)

ভারত: ৫০ ওভারে ২৬৫/৮ (রাহুল ১২, ধাওয়ান ৭৯, কোহলি ৫১, পান্ত ১৬, শ্রেয়াস ১৭, ভেঙ্কাটেশ ২, অশ্বিন ৭, শার্দুল ৫০*, ভুবনেশ্বর ১৪*; মারক্রাম ৬-০-৩০-১, ইয়ানসেন ৯-০-৪৯-০, মহারাজ ১০-০-৪২-১, এনগিডি ১০-০-৬৪-২, শামসি ১০-১-৫২-২, ফেলুকওয়ায়ো ৫-০-২৬-২)

ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৩১ রানে জয়ী

সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটি শেষে দক্ষিণ আফ্রিকা ১-০ তে এগিয়ে

ম্যান অব দা ম্যাচ: রাসি ফন ডার ডাসেন