বর্ষসেরা ওয়ানডে একাদশে সাকিব-মুস্তাফিজ-মুশফিক

বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেট সবচেয়ে ভালো খেলে। এই সংস্করণে তাদের দলগত ও ব্যক্তিগত সাফল্যও বেশি। আইসিসির বর্ষসেরা ওয়ানডে একাদশেও পড়েছে তার প্রভাব। টি-টোয়েন্টির বর্ষসেরা দলের পর মুস্তাফিজুর রহমান জায়গা করে নিয়েছেন ৫০ ওভারের একাদশেও। তার সঙ্গে আরও আছেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ও কিপার-ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম।

ক্রিকেটের বিশ্ব সংস্থার ওয়েবসাইটে বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হয়েছে ২০২১ সালের এই বর্ষসেরা একাদশ। বাংলাদেশেরই সবচেয়ে বেশি তিন জন খেলোয়াড় জায়গা পেয়েছেন। পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ডের আছেন দুজন করে।

বাকি বড় দলগুলোর কোনো খেলোয়াড়ের একাদশে না থাকাটা অবশ্যই কিছুটা অবাক করার। তবে এর পেছনে যথেষ্ট কারণও আছে। গত বছর ওই দলগুলো খুব বেশি ওয়ানডে খেলেনি, যা বাংলাদেশ, আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়দের পক্ষে গেছে।

২০২১ সালে সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে খেলেছে শ্রীলঙ্কা, ১৫টি। এরপর যথাক্রমে আয়ারল্যান্ড ১৪টি, বাংলাদেশ ১২টি, ওমান ও দক্ষিণ আফ্রিকা ১০টি করে। ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ খেলেছে সমান ৯টি করে ম্যাচ। ভারত ও পাকিস্তান ৬টি করে। অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ড খেলেছে মাত্র তিনটি করে ম্যাচ। 

ব্যাট-বল হাতে আরও একবার বছর জুড়ে আলো ছড়ান সাকিব। গত বছর ৫০ ওভারের এই সংস্করণে ৯ ম্যাচ খেলে তিনি ৩৯.৫৭ গড়ে রান করেন ২৭৭, আছে দুটি হাফ সেঞ্চুরি। আর বোলিংয়ে নেন ১৭ উইকেট, ১৭.৫২ গড়ে।

গত জানুয়ারিতে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমেই বাংলাদেশের জয়ের নায়ক ছিলেন সাকিব। ২০১৯ বিশ্বকাপের পর প্রথম ওয়ানডে খেলতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিনি ৮ রানে ৪ উইকেট নেওয়ার পর ব্যাটিংয়ে করেন ১৯ রান। পরে জিতে নেন সিরিজ সেরার পুরস্কারও। ঘরের মাঠে বাংলাদেশের ৩-০ ব্যবধানে জেতা সিরিজে ব্যাট হাতে ১১৩ রান করার পাশাপাশি বাঁহাতি স্পিনে নেন ৬ উইকেট।

ওয়ানডের বর্সসেরা খেলোয়াড় হওয়ার লড়াইয়েও আছেন ৩৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। সেখানে তার সঙ্গে লড়াইয়ে আছেন ইয়ানেমান মালান, বাবর আজম ও পল স্টার্লিং।

সাকিবের মতো মুশফিকও গত বছর খেলেছেন ৯ ম্যাচ। সবসময়ের মতোই নিজের ঘরানার ব্যাটিংয়ে দলকে পথ দেখিয়েছেন। রানের জন্য ছুটেছেন, মাঝে খেলেছেন চোখধাঁধানো কিছু শট। মোট রান করেছেন ৪০৭, ৫৮.১৪ গড়ে।

আগের দিন ঘোষিত টি-টোয়েন্টির বর্ষসেরা একাদশে জায়গা করে নেওয়া মুস্তাফিজের পারফরম্যান্সের বিচারে বর্ষসেরা ওয়ানডে দলেও থাকাটা একরকম প্রত্যাশিতই ছিল। রঙিন জার্সির এই সংস্করণেও বছর জুড়ে বল হাতে গতি-বৈচিত্র্যে দাপট দেখিয়েছেন তিনি।

ধারাবাহিকভাবে মিলেছে সাফল্যও। বাঁহাতি পেসার ১০ ম্যাচে নিয়েছেন ১৮ উইকেট, ২১.৫৫ গড়ে। তার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ব্যাটসম্যানদের রান নিতে ধুঁকতে হযেছে। ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন ৫.০৩।

পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম। ছবি: আইসিসি।

টি-টোয়েন্টি একাদশে অধিনায়কের মর্যাদা পাওয়া বাবর আজম ওয়ানডে দলেরও নেতৃত্ব পেয়েছেন। অবশ্য শুধু নেতৃত্বগুণে নয়, বছর জুড়ে দুর্দান্ত ব্যাটিং পারফরম্যান্স দেখিয়েই এখানে আছেন তিনি। গত বছর মাত্র ছয়টি ওয়ানডে খেললেও তাতেই উঠে আসেন সেরার কাতারে। দুটি সেঞ্চুরিসহ ৬৭.৫০ গড়ে তিনি করেন ৪০৫ রান।

বাবরের সঙ্গী হিসেবে আছেন তার জাতীয় দল সতীর্থ ফখর জামান। ছয় ম্যাচ খেলে ৬০.৮৩ গড়ে তার রান ৩৬৫, আছে দুটি সেঞ্চুরি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওই দুই সেঞ্চুরির একটি অনেক বছর ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে থাকবে। ৩৪২ রান তাড়ায় প্রায় একার চেষ্টায় দলকে জয়ের আশা জাগিযেছিলেন তিনি, শেষ পর্যন্ত অবশ্য সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারেননি তিনি, ইনিংস শুরু করে শেষ ওভারে আউট হন ১৯৩ রানে।

আয়ারল্যান্ডের দুই খেলোয়াড়ের একজন হলেন পল স্টার্লিং। আইরিশ ওপেনারের বছরটা কাটে স্বপ্নের মতো। গত বছরে ওয়ানডের সর্বোচ্চ স্কোরার তিনিই।

১৪ ম্যাচে স্টার্লিং ৭০৫ রান করেন, ৭৯.৬৬ গড়ে। করেন তিন সেঞ্চুরি ও দুটি হাফ-সেঞ্চুরি। প্রায় প্রতি ম্যাচেই দলকে দারুণ শুরু এনে দেন তিনি, যদিও বছর জুড়েই জয় পেতে ভুগেছে তার দল।

একাদশে ঠাঁই পাওয়া আরেক আইরিশ খেলোয়াড় হলেন স্পিনার সিমি সিং।

দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে জায়গা পাওয়া দুজন হলেন ইয়ানেমান মালান ও রাসি ফন ডার ডাসেন।

পেস আক্রমণে মুস্তাফিজের সঙ্গী লঙ্কান বোলার দুশমন্থ চামিরা। ১৪ ম্যাচে ২৯.৩০ গড়ে তিনি উইকেট নিয়েছেন ২০টি। একবার নিয়েছেন পাঁচ উইকেট।

শ্রীলঙ্কার আরেকজন হলেন ভানিন্দু হাসারাঙ্গা। টি-টোয়েন্টি একাদশেও জায়গা পাওয়া এই ক্রিকেটার ব্যাট-বল হাতে নিজেকে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যে পরিণত করেছেন। ২০২১-এ ব্যাট হাতে ১৪ ম্যাচে তিন অর্ধশতকে ৩৫৬ রান করেন তিনি, ২৭.৩৮ গড়ে। আর বল হাতে ওভারপ্রতি ৪.৫৬ রান দিয়ে উইকেট নেন ১২টি।

ওয়ানডের বর্ষসেরা একাদশ: পল স্টার্লিং (আয়ারল্যান্ড), ইয়ানেমান মালান (দক্ষিণ আফ্রিকা), বাবর আজম (অধিনায়ক, পাকিস্তান), ফখর জামান (পাকিস্তান), রাসি ফন ডার ডাসেন (দক্ষিণ আফ্রিকা), সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ), মুশফিকুর রহিম (উইকেটকিপার, বাংলাদেশ), ভানিন্দু হাসারাঙ্গা (শ্রীলঙ্কা), মুস্তাফিজুর রহমান (বাংলাদেশ), সিমি সিং (আয়ারল্যান্ড), দুশমন্থ চামিরা (শ্রীলঙ্কা)।