মুশফিকের চাওয়া ম্যাচ জেতানো ইনিংস আর ট্রফি

বিপিএল মানে মুশফিকুর রহিমের কাছে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির মেলবন্ধন। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে এখানে তিনি সবার ওপরে। কিন্তু দলীয় অর্জনের ঝুলি এখনও ফাঁকা। শিরোপা জয়ের স্বাদ পাননি একবারও। এবার সেই আক্ষেপটুকু ঘোচাতে চান মুশফিক। নিজের রানের রথ ছুটিয়ে পৌঁছাতে চান টুর্নামেন্টের ট্রফি জয়ের ঠিকানায়।

৮১ ইনিংসে ২ হাজার ২৭৪ রান করে বিপিএলের সফলতম ব্যাটসম্যান মুশফিক। শুধু রানসংখ্যাতেই নয়, তার কার্যকারিতার প্রমাণ পরিসংখ্যানের অন্যান্য জায়গায়ও। ব্যাটিং গড় ৩৭.২৭, টি-টোয়েন্টিতে যা দারুণ। ১৩৩.৯২ স্ট্রাইক রেটও বাংলাদেশ বিবেচনায় বেশ ভালো।

বিপিএলের সবশেষ আসরে ৭০.১৪ গড় ও ১৪৭ স্ট্রাইক রেটে ৪৯১ রান ছিল তার। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান স্কোরার ছিলেন তিনি, তেমনি দলীয় প্রাপ্তিতেও ছিলেন দুইয়ে। বিপিএলে ট্রফির আক্ষেপ মুছে দেওয়ার কাছাকাছি যেতে পেরেছিলেন। কিন্তু ফাইনালে তার খুলনা টাইগার্স হেরে যায় রাজশাহী রয়্যালসের কাছে।

এবার আসর শুরুর আগের দিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুশফিক জানালেন তার ব্যক্তিগত লক্ষ্যের কথা।

“অন্তত ১০টি ম্যাচ তো খেলার সুযোগ পাব (প্রাথমিক পর্বে)। চেষ্টা করব যাতে ১২-১৩টা ম্যাচ খেলা যায় (প্লে অফে উঠে) আর যতবার সম্ভব যেন ব্যাট ওপরে ওঠানো যায়।”

তবে ব্যক্তিগত লক্ষ্য পূরণের চেয়ে দলীয় অর্জনের ভাবনাই তার বেশি, সেটিও বললেন বারবার।

“সবাই তো প্রতিবছরই চায়, টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে ভালো রান করতে। তবে আমার কাছে ব্যক্তিগত লক্ষ্যের চেয়ে দল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গতবার রানার্সআপ হয়েছিলাম। দুইবার একশর কাছে গিয়েও পাইনি, কিন্তু ম্যাচ দুটি জিতেছিলাম। সেটিই আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”

“এবারও সেইরকম চ্যালেঞ্জ থাকবে। চেষ্টা করব সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার এবং ম্যাচ উইনিং কিছু নক খেলার। ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলতে চাই যাতে দল ভালো ফলাফল পায়। ব্যক্তিগত লক্ষ্যের চেয়েও দলীয় লক্ষ্য যেন বেশি অর্জন করতে পারি।”

মুশফিকের আপাতত লক্ষ্য শুরুটা ভালো করে প্রাথমিক পর্বে সেরা দুইয়ে থেকে শেষ করা। এরপর শেষ বাধাটি টপকে ট্রফি জয়ের উল্লাসে মেতে ওঠা।

“টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটই আসলে চ্যালেঞ্জিং। আমাদের এটাই এই ফরম্যাটে সবচেয়ে বড় লিগ। বিশ্বজুড়েও বিপিএলের একটা সুনাম আছে, আমার যা মনে হয়। এখানে মানসম্পন্ন ক্রিকেট হয়, অনেক কোয়ালিটি বিদেশি ক্রিকেটার আসেন। তো একটা চ্যালেঞ্জ তো থাকেই। আর সব দলই চায় চ্যাম্পিয়ন হতে। আমরাও চাই।”

“তবে শুরুটা গুরুত্বপূর্ণ। কালকে শুরু হচ্ছে। চেষ্টা করব আমরা যেন সেরা দুইয়ের মধ্যে থাকতে পারি (প্রাথমিক পর্বে), এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এরপর আশা তো আছেই যেন একটা ট্রফি জিততে পারি এবং সেটা যেন এই বছরই হয়।”

এবারের বিপিএলে মুশফিকের দিকে বাড়তি নজর থাকতে পারে আরেকটি বাস্তবতার কারণেও। বাংলাদেশের সবশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজে দলে ছিলেন না তিনি। নির্বাচকরা যদিও বলেছিলেন তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে, তিনি নিজে এটিকে নিয়েছিলেন ‘বাদ’ হিসেবেই। এবারের বিপিএলে তার পারফরম্যান্স নিয়ে আগ্রহ তার থাকতেই পারে।

তার নিজের যদিও দাবি, তার ভাবনার সীমানায় এখন ওসব নেই।

“আমি কামব্যাক বা জাতীয় দল নিয়ে চিন্তা করছি না। চিন্তা করছি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট নিয়ে। খেয়াল করে যদি দেখেন, বিপিএলে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক আমি। আমার কাছে এটা অন্যরকম চ্যালেঞ্জ এটা নিশ্চিত করা যেন এই জায়গাটা ধরে রাখতে পারি। ভবিষ্যতে কী আসবে, না আসবে তা নিয়ে একদমই ভাবি না। যতদিন আমি শতভাগ দিচ্ছি এবং চেষ্টা করছি দলের জন্য, সেটুকুই আমার জন্য যথেষ্ট।”