তারুণ্যের চট্টগ্রামের কাছে পাত্তা পেল না অভিজ্ঞদের ঢাকা

অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ আর তারকায় ঠাসা দল মিনিস্টার ঢাকা। উঠতি ক্রিকেটারদের দিয়ে গড়া তারুণ্য নির্ভর দল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। প্রজন্মের সেই লড়াইয়ে জয় হলো নবীনদের। ব্যাটিংয়ে সম্মিলিত পারফরম্যান্সের পর নাসুম আহমেদ ও শরিফুল ইসলামের দারুণ বোলিংয়ে টুর্নামেন্টে প্রথম জয়ের দেখা পেল চট্টগ্রাম।

বিপিএলের দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে মিনিস্টার ঢাকার বিপক্ষে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের জয় ৩০ রানে।

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শনিবার ২০ ওভারে চট্টগ্রাম তোলে ১৬১ রান।

ওপেনিংয়ে ইংলিশ ব্যাটসম্যান জ্যাকস বিশাল দুটি ছক্কায় ২৪ বলে করেন ৪১। নিজেকে ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে থাকা সাব্বির রহমান খেলেন ১৭ বলে ২৯ রানের ইনিংস। প্রথম ম্যাচে চট্টগ্রামের ব্যাটিং নায়ক বেনি হাওয়েলের ব্যাট থেকে এবার আসে ৩ ছক্কায় ১৯ বলে ৩৭।

ঢাকার রান তাড়ায় তামিম ইকবাল ফিফটি করলেও তাল মেলাতে পারেননি ম্যাচের গতির সঙ্গে। অন্যরাও পারেননি কার্যকর ব্যাটিং করতে। ঢাকা যেতে পারে ১৩১ পর্যন্ত।

দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৪ ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা নাসুম। একটু খরুচে হলেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেটসহ শরিফুলের শিকার ৪টি। ৫৭ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে প্রথমবার ৪ উইকেটের স্বাদ পেলেন বাঁহাতি এই পেসার।

এবারের আসরের দ্বিতীয় ম্যাচে চট্টগ্রামের প্রথম জয় এটি, ঢাকা হারল দুই ম্যাচের দুটিই।

চট্টগ্রামের কৃতিত্ব আরেকটু বেশি, টুর্নামেন্টের চার ম্যাচে এই প্রথমবার জিতল টস হারা ও আগে ব্যাট করা দল।

দারুণ বোলিং করে চট্টগ্রামের জয়ের নায়ক নাসুম আহমেদ। ছবি: চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স।

ব্যাটিংয়ে নেমে চট্টগ্রাম শুরুতে হারায় কেনার লুইসকে। বিপজ্জনক এই ক্যারিয়ার ব্যাটসম্যানকে ফেরান রুবেল হোসেন।

তিনে নেমে আফিফ হোসেন ১ রানে জীবন পান আন্দ্রে রাসেলের হাতে, ২ রানে সহজ ক্যাচ ছাড়েন তামিম ইকবাল। তবে সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। আরাফাত সানির বলে স্টাম্পড হন ১২ বলে ১২ করে।

আফিফ ধুঁকতে থাকার সময়টায় দলের রান বাড়ান জ্যাকস। রাসেলের বলে একটি ছক্কায় বল পাঠান তিনি গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের দোতলায়। তবে আফিফ আউট হওয়ার পরের ওভারেই জ্যাকস বোল্ড হয়ে যান শুভাগত হোমকে জায়গা বানিয়ে খেলতে গিয়ে।

সাব্বির অনেকদিন পর নিজের সেরা চেহারায় ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। দুটি ছক্কা মারেন তিনি শুভাগত ও মাহমুদউল্লাহকে। তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি, বোল্ড হয়ে যান রুবেলকে ক্রস ব্যাটে খেলতে গিয়ে।

মিডল অর্ডারে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ২৫ রান করতে খেলে ফেলেন ২৫ বল। পরে শামীম হোসেন পারেননি কোনো ছাপ রাখতে। শেষ দিকে হাওয়েলের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ১৬০ ছাড়ায় চট্টগ্রাম।

ঢাকার হয়ে রুবেল দুর্দান্ত বোলিং করেন প্রথম ৩ ওভারে। মাত্র ১২ রান দিয়ে ওই সময়টায় উইকেট নেন ৩টি। তার বলে ক্যাচও পড়ে দুটি। তবে শেষ ওভারে তিনি হজম করেন ১৪ রান।

ঢাকার রান তাড়ার শুরুটা হয় একটু মন্থর। তামিম প্রথম ১৫ বল খেলে করতে পারেন কেবল ৩ রান। আরেক পাশে মোহাম্মদ শাহজাদ টাইমিংই করতে পারছিলেন না।

তামিম পরে রানের গতি একু বাড়ান মিরাজকে ছক্কায় উড়িয়ে, শরিফুলের টানা তিন বলে দুই চার, এক ছক্কা মেরে।

পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ঢাকা কোনো উইকেট না হারিয়ে তোলে ৪২ রান। পাওয়ার প্লে শেষেই থামে শাহজাদের ভোগান্তি (১২ বলে ৯)।

তামিম ফিফটি স্পর্শ করেন ৪২ বলে। প্রয়োজনীয় রান রেট তখন বেড়ে গেছে অনেকটাই। যখন তা পুষিয়ে দেওয়ার পালা, তখনই তিনি আউট হয়ে যান শরিফুলকে তেঁড়েফুঁড়ে মারতে গিয়ে।

শরিফুল ওই ওভারে দারুণ এক বাউন্সারে আউট করে দেন জহুরুল ইসলামকেও। ওই ওভার থেকেই ক্রমে পথ হারাতে থাকে ঢাকা। নাসুম আক্রমণে ফিরে এক ওভারেই বিদায় করেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও মাহমুদউল্লাহকে।

আন্দ্রে রাসেল যখন উইকেটে গেলেন, ওভারপ্রতি রান প্রয়োজন তখন প্রায় ১২ করে। শরিফুলের টানা দুই বলে চার ও ছক্কায় কিছুটা আশা জাগান তিনি। তবে ১২ রানেই আউট হয়ে যান নাসুমকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে। অনেক উঁচুতে ওঠা বল দারুণ ক্যাচে পরিণত করেন শামীম আহমেদ।

এরপর আর জয়ের অবস্থা ছিল না ঢাকার। ইসুরু উদানার দুই ছক্কায় ব্যবধান কিছুটা কমে। তার পরও চট্টগ্রাম জিতে যায় পরিষ্কার ব্যবধানেই।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স: ২০ ওভারে ১৬১/৮ (লুইস ২, জ্যাকস ৪১, আফিফ ১২, সাব্বির ২৯, মিরাজ ২৫, হাওয়েল ৩৭, শামীম ১, নাঈম ০, নাসুম ৮*; রুবেল ৪-০-২৬-৩, সানি ৪-০-২৩-১, উদানা ৪-০-৩৯-১, ইবাদত ৪-০-২৬-০, রাসেল ১-০-১৭-০, শুভাগত ২-০-১৫-১, মাহমুদউল্লাহ ১-০-১২-১)।

মিনিস্টার ঢাকা: ১৯.৫ ওভারে ১৩১ (তামিম ৫২, শাহজাদ ৯, জহুরুল ১০, নাঈম ৪, মাহমুদউল্লাহ ৫, রাসেল ১২, শুভাগত ১৩, উদানা ১৬, সানি ০, ইবাদত ০*, রুবেল ৬; নাসুম ৪-০-৯-৩, মিরাজ ৪-০-৩১-০, শরিফুল ৪-০-৩৪-৪, মুকিদুল ৩-০-২২-১, হাওয়েল ৪-০-২৭-০, নাঈম ০.৫-০-৭-১)।

ফল: চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ৩০ রানে জয়ী।

ম্যান অব দা ম্যাচ: নাসুম আহমেদ।