বাউন্সি উইকেটে হোল্ডারের বোলিংয়ে নাকাল ইংল্যান্ড

আয়ারল্যান্ডের কাছে ওয়ানডে সিরিজ হারের ক্ষত এখনও দগদগে। সমালোচনার তীব্র রেশও শেষ হয়নি। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ তো এই সময়ের সবচেয়ে অননুমেয় দল! প্রচণ্ড চাপের আবহেই দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল তারা। সহায়ক উইকেটে বাউন্স ও সুইংয়ে জ্বলে উঠলেন জেসন হোল্ডার। দুর্দান্ত বোলিং-ফিল্ডিংয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ এগিয়ে গেল ক্যারিবিয়ানরা।

পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ৯ উইকেটে।

বারবাডোজে শনিবার ইংল্যান্ডকে মাত্র ১০৩ রানে আটকে রেখে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনায়াস রান তাড়ায় ঠাণ্ডা মাথার ব্যাটিংয়ে জিতে যায় ১৭ বল বাকি রেখে।

ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে মাত্র ৭ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ক্যারিবিয়ানদের জয়ের নায়ক হোল্ডার।

নতুন বলে দুটি উইকেট নিয়ে বড় অবদান রাখেন শেলডন কটরেলও। ম্যাচের নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহের শুরু বাঁহাতি এই পেসারের হাত ধরেই।

কেনসিংটন ওভালের উইকেটে ছিল অসম বাউন্স, মুভমেন্টও মিলেছে বেশ। টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ নামে বোলিংয়ে। ম্যাচের প্রথম ওভারে কটরেলকে দুর্দান্ত পুল শটে ছক্কায় শুরু করেন জেসন রয়। পরের বলেই জবাব দিয়ে দেন কটরেল। বাতাসে সুইং করে ভেতরে ঢোকা বলে বোল্ড করে দেন তিনি ইংলিশ ওপেনারকে।

পরের ওভারে টম ব্যান্টন রানের খাতা খোলেন হোল্ডারকে বাউন্ডারি মেরে। এবার হোল্ডারও শোধ তুলে নেন পরের বলে। বাড়তি বাউন্স আর সুইংয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ব্যান্টন। চারে নেমে মইন আলি প্রথম বলেই আলগা শটে ক্যাচ দেন পয়েন্ট।

দুই ওভারেই ইংল্যান্ড হারিয়ে বসে তিন উইকেট।

শেলডন কটরেলের উইকেট শিকারের উল্লাস। ছবি: উইন্ডিজ ক্রিকেট।

বাউন্ডারি ও আউটের সেই ধারা চলতে থাকে পরেও। পঞ্চম ওভারে কটরেলকে দুটি চার ও একটি ছক্কায় পাল্টা আক্রমণ করেন জেমস ভিন্স। এবারও কটরেল জিতে যান সেই লড়াইয়ে। ছক্কার পরের বলেই ভিন্স ক্যাচ দেন শর্ট কাভারে।

এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের অন্য বোলাররাও আক্রমণে হাত বাড়ালে ইংলিশরা হারাতে থাকে একের পর এক উইকেট। ২৯ বলে ১৭ করে যখন আউট হলেন অধিনায়ক ওয়েন মর্গ্যান, দলের রান তখন দ্বাদশ ওভারে ৭ উইকেটে ৪৯!

বিব্রতকর সেই অবস্থা থেকে ইংল্যান্ডকে কিছুটা উদ্ধার করেন আদিল রশিদ ও ক্রিস জর্ডান। দুই বোলার মিলে অষ্টম উইকেটে যোগ করেন ৩৬ রান।

জর্ডান ৩ ছক্কায় ২৩ বলে করেন ২৮। রশিদ করেন ৩ চারে ১৮ বলে ২২।

পরপর দুই বলে সাকিব মাহমুদ ও রশিদকে ফিরিয়ে ইংলিশ ইনিংস শেষ করে দেন হোল্ডার। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো দেখা পান তিনি চার উইকেটের।

রান তাড়ায় কোনো চাপেই পড়তে হয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে ৯ ওভারে ৫২ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন ব্র্যান্ডন কিং ও শেই হোপ।

২৫ বলে ২০ রান করে হোপ আউট হওয়ার পর কিং ও নিকোলাস পুরান বাকি পথ পাড়ি দেন সহজেই। ৪৯ বলে ৫২ রানে অপরাজিত থাকেন কিং, ২৯ বলে ২৭ রানে পুরান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ইংল্যান্ড: ১৯.৪ ওভারে ১০৩ (রয় ৬, ব্যান্টন ৪, ভিন্স ১৪, মইন ০, মর্গ্যান ১৭, বিলিংস ২, ডসন ২, জর্ডান ২৮, রশিদ ২২, সাকিব ৫, মিলস ০*; কটরেল ৪-১-৩০-২, হোল্ডার ৩.৪-১-৭-৪, আকিল ৪-০-১৬-১, শেফার্ড ৩-০-২৫-১, স্মিথ ১-০-৪-০, পোলার্ড ২-০-১১-০, অ্যালেন ২-০-১০-১)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৭.১ ওভারে ১০৪/১ (কিং ৫২*, হোপ ২০, পুরান ২৭*; সাকিব ৩-০-২৪-০, জর্ডান ২-০-১৫-০, রশিদ ৪-০-২১-১, ডসন ৪-০-১২-০, মিলস ৩.১৪-০-২০-০, মইন ১-০-৭-০)।

ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৯ উইকেটে জয়ী।

সিরিজ: ৩ ম্যাচ সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১-০তে এগিয়ে।

ম্যান অব দা ম্যাচ: জেসন হোল্ডার।