ক্রিজে সময় কাটাতে পেরে খুশি মুশফিক

বিপিএলে মিরপুর পর্ব একদমই ভালো কাটেনি মুশফিকুর রহিমের। দুটি ইনিংস খেলেন সেখানে দিনের দ্বিতীয় ম‍্যাচে, যখন ব‍্যাটিং তুলনামূলক সহজ। তার পরও ছিলেন ব্যর্থ। তবে চট্টগ্রামে এসেই পেলেন রানের দেখা, ক্রিজে কাটালেন অনেকটা সময়। খুলনা টাইগার্স অধিনায়ক জানালেন, উপভোগ করেছেন নিজের ব‍্যাটিং। 

শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে দুই ম‍্যাচে মুশফিক আউট হন কেবল ৬ ও ১১ রান করে। সেই ব‍্যর্থতায় হয়তো অনুভব করছিলেন রানে ফেরার বাড়তি তাগিদ। চট্টগ্রামে এসে বৃহস্পতিবার নেটে সময় কাটান আড়াই ঘণ্টা!

সেটা কাজে লাগল ভালোভাবেই। পেলেন রানের দেখা। ব্যাট হাতে ক্রিজে নেমে ফিরলেন দলের জয়কে সঙ্গী করে।

জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে চট্টগ্রাম চ‍্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে প্রিমিয়ার ব‍্যাংক খুলনা টাইগার্সকে জয় এনে দেওয়ার পথে মুশফিকের শুরুটা ছিল সাবধানী। প্রথম ১৪ বলে করেন ১০। রান বাড়ানোর কাজটা তখন করছিলেন মূলত আন্দ্রে ফ্লেচার।

ফ্লেচার ফিফটি পূর্ণ করার পর জেগে ওঠেন মুশফিকও। রেজাউর রহমান রাজাকে চোখধাঁধানো ফ্লিকে ছক্কা মারার পর পয়েন্ট দিয়ে দারুণ শটে মারেন চার।

পরে ফ্লেচার আউট হওয়ার পর যখন সমীকরণ হয়ে উঠছিল একটু কঠিন, বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলামের ওভারে মারেন তখন তিনটি চার। প্রথমটিতে চমৎকার ড্রাইভে ফাঁকি দেন মিড অনের ফিল্ডারকে। পরেরটিতে শর্ট বলে জোরাল পুলে মিডউইকেট ও স্কয়ার লেগ ফিল্ডারের মাঝ দিয়ে খুঁজে নেন সীমানা। 

শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৩০ বলে চারটি চার ও একটি ছক্কায় ৩০ বলে ৪৪ রানে।

৭ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে জয় পাওয়ার পর শুক্রবার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মুশফিক জানান নিজেকে ফিরে পাওয়ার স্বস্তির কথা।

“নিজের ব্যাটিং আজ উপভোগ করেছি। সবশেষ কয়েকটি ইনিংসে আমি খুব বেশি সময় পাইনি। অন্য প্রান্ত থেকে আন্দ্রে ফ্লেচার ভালো করেছে। সে আমার কাজটা সহজ করে দিয়েছে। ভালো লাগছে।”

দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পেরে তৃপ্ত মুশফিক তাকাচ্ছেন সামনের দিকে। শনিবারের দ্বিতীয় ম‍্যাচে তারা মুখোমুখি হবেন সাকিব আল হাসানের ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে।

মুশফিক চাওয়া, এই ম্যাচের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে সামনেও যেন ভালো করে দল।

“ছেলেরা এই উইকেটে যেভাবে বোলিং করেছে, সেটা এক কথায় অসাধারণ। ফিল্ডিংও দারুণ ছিল। আমরা জানতাম, এই উইকেট সহজ হবে না। তাই আমরা ওদের যত কম রানে সম্ভব বেধে রাখার চেষ্টা করেছি। আমাদের ব্যাটসম্যানরাও ভালো করেছে।”

“টি-টোয়েন্টিতে একজন বোলার কিংবা একজন ব্যাটসম্যান সবসময় ম্যাচ জেতাতে পারে না। সম্মিলিতভাবে সবাই ভালো করলে ধারাবাহিকভাবে জেতা যায়। আজ আমাদের তিন-চার জন বোলার শুরুতে ও মাঝের ওভারে ভালো বোলিং করেছে। আমরা ওদের উইকেট নিতে পেরেছি। ওদের ইনিংসে ওরা খুব বড় জুটি গড়তে পারেনি। আমাদের সামনে আরও অনেক ম্যাচ আছে। কালও একটি বড় ম্যাচ আছে। আমরা সেটার জন্য প্রস্তুত হচ্ছি।”