সাড়ে ৩ বছর নিষিদ্ধ টেইলর

স্পট ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পাওয়ার পর তা দীর্ঘদিন গোপন করায় ব্রেন্ডন টেইলরের নিষেধাজ্ঞা পাওয়া অনুমিতই ছিল। এবার এলো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। জিম্বাবুয়ের সাবেক অধিনায়ককে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে সাড়ে তিন বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি।

বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্তা সংস্থা শুক্রবার এই ঘোষণা দেয়। বিবৃতিতে জানানো হয়, দুর্নীতি বিরোধী বিধিমালার চারটি ধারা ভাঙার অভিযোগ মেনে নিয়েছেন টেইলর। সঙ্গে আলাদাভাবে একটি অ্যান্টি-ডোপিং ধারাও ভেঙেছেন তিনি।

টেইলরের ওপর আনিত অভিযোগগুলোর প্রথমটি হলো, দুর্নীতি বিরোধী ধারা ভঙ্গ হচ্ছে জেনেও কোনো ধরনের উপহার, অর্থগ্রহণের সম্পর্কে আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিটকে অবগত না করা।

৭৫০ ইউএস ডলার বা এর বেশি মূল্যের উপহার প্রাপ্তি সম্পর্কে আইসিসিকে না জানানো। শ্রীলঙ্কা বা বাংলাদেশ সিরিজে সম্ভাব্য দুর্নীতির জন্য নেওয়া পদক্ষেপের সম্পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ না করা। আর দুর্নীতি দমন বিরোধী ইউনিটের তদন্তে বিলম্ব করানো।

দুর্নীতি দমন ট্রাইবুনালের শুনানিতে সব অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছেন টেইলর। একই সঙ্গে শাস্তিও মেনে নিয়েছেন তিনি।

বিশাল এক বিবৃতিতে গত সোমবার টেইলর নিজেই পেছনের পুরো ঘটনা তুলে ধরেন। শাস্তি পেতে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি। ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেন তার অবস্থান।

তিনি দাবি করেন, স্পন্সরশিপ ও জিম্বাবুয়েতে একটি টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা চালু করার বিষয়ে আলোচনার জন্য ২০১৯ সালের অক্টোবরে তাকে ভারতে ডেকেছিল এক ব্যবসায়ী। সেখানে ‘ব্ল্যাকমেইল করে’ তাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্পট ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

কিন্তু বিষয়টি তিনি আইসিসিকে জানান চার মাস পর। গত সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া টেইলর আরও দাবি করেন, প্রস্তাব পেলেও তিনি কোনো ফিক্সিংয়ে জড়িত হননি।

বিবৃতিতে টেইলর আরও বলেন, ভারতে গিয়ে সেই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পানীয় পানের পর কোকেনও নিয়েছিলেন তিনি। সবশেষে, নিজের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমাও চান।

গত ৮ সেপ্টেম্বর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের ম্যাচের পর একটি ইন-কম্পিটিশন পরীক্ষা করানো হয়। যেখানে তার শরীরে মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

খেলার বাইরে থাকার সময় ওই ড্রাগ নিয়েছেন বলে প্রমাণ করতে পারেন টেইলর। এছাড়া তা পারফরম্যান্সে প্রভাব রাখার মতোও কিছু নয়, এসব কারণে কেবল অ্যান্টি-ডোপিং ধারা ভাঙার অপরাধে তাকে এক মাসের শাস্তি দেয় আইসিসি। যা মেনে নেন টেইলর। এখন পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে আছেন জিম্বাবুয়ের এই সাবেক কিপার-ব্যাটসম্যান।

এই এক মাসের স্থগিতাদেশ সাড়ে তিন বছরের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই চলবে। শাস্তি শেষে ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই মুক্ত হবেন টেইলর, ইচ্ছে করলে ফিরতে পারবেন ক্রিকেট কর্মকাণ্ডে। তবে এখন বয়স ৩৫, বাস্তবিক অর্থে তাই পুনরায় তার ক্রিকেটার হিসেবে ফেরার তেমন সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

জিম্বাবুয়ের হয়ে টেইলের ক্যারিয়ারের দারুণ সমৃদ্ধ। ২০৫ ওয়ানডেতে ৩৫.৫৫ গড়ে তার রান ৬ হাজার ৬৮৪, দলটির হয়ে যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এই সংস্করণে তার ১১ সেঞ্চুরি দেশটির রেকর্ড। তাদের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির রেকর্ডও তার (১৭টি)।

টেস্ট খেলেছেন তিনি ৩৪টি। ৩৬.২৫ গড়ে রান ২ হাজার ৩২০, জিম্বাবুয়ের হয়ে যা চতুর্থ সর্বোচ্চ। এই সংস্করণে তার ৬ সেঞ্চুরির পাঁচটিই বাংলাদেশের বিপক্ষে। ৪৫ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তার রান ৯৩৪।

২০১১ থেকে ২০২১ পর্যন্ত তিন সংস্করণ মিলিয়ে টেইলর জিম্বাবুয়েকে নেতৃত্ব দেন ৭১ ম্যাচে। প্রথম দফায় জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক ছিলেন ২০১১ এর মাঝমাঝি থেকে ২০১৪ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত। ২০১৫ বিশ্বকাপের পর তিনি জাতীয় দল থেকে সরে গিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেট দল নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে তিন বছরের কোলপ্যাক চুক্তি করে। পরে ২০১৭ সালে আবার ফেরেন জাতীয় দলে।

১০ মাসের কম সময়ের মধ্যে আইসিসি কর্তৃক জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে নিষিদ্ধ হলেন টেইলর। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থার দুর্নীতি বিরোধী বিধির বেশ কয়েকটি ধারা ভঙ্গের দায়ে গত বছরের এপ্রিলে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে ৮ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয় দেশটির আরেক সাবেক অধিনায়ক ও বাংলাদেশের একসময়কার বোলিং কোচ হিথ স্ট্রিককে।