সিডনি সিক্সার্সকে গুঁড়িয়ে পার্থ স্কর্চার্সের রেকর্ড শিরোপা

টুর্নামেন্টের সফলতম দুই দলের লড়াইয়ে ছড়াল না তেমন কোনো উত্তেজনা। শুরুর বিপর্যয় সামলে ঝড়ো ইনিংসে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিলেন অ্যাশটন টার্নার ও লরি ইভান্স। বাকিটা সহজেই সারলেন বোলাররা। মধুর প্রতিশোধে সিডনি সিক্সার্সকে বিধ্বস্ত করে বিগ ব্যাশের শিরোপা উৎসব করল পার্থ স্কর্চার্স।

মেলবোর্নের ডকল্যান্ডস স্টেডিয়ামে একাদশ আসরের ফাইনালে শুক্রবার পার্থের জয় ৭৯ রানে। ১৭১ রান তাড়ায় গত দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন সিক্সার্স গুটিয়ে যায় ৯২ রানেই।

অস্ট্রেলিয়ার এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে আগের দশ আসরে এই দুই দলের শিরোপা ছিল সমান তিনটি করে। সিডনি সিক্সার্সকে ছাড়িয়ে রেকর্ডটা নিজেদের করে নিল পার্থ স্কর্চার্স।

ফাইনালে এই দুই দলের মুখোমুখি পাঁচবারের লড়াইয়ে পার্থ এগিয়ে গেল ৩-২ ব্যবধানে। এবারের আসরে চারবারের দেখায় প্রতিবারই সিক্সার্সকে হারাল তারা।

পার্থের জয়ের নায়ক বিপিএল খেলে যাওয়া ইভান্স। ছয় নম্বরে যখন তিনি ব্যাটিংয়ে নামেন, ২৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে দল। সেখান থেকে ৪১ বলে ৪টি করে চার-ছক্কায় অপরাজিত ৭৬ রানের খুনে ইনিংস খেলেন এই ইংলিশ ব্যাটসম্যান।

পাঁচ নম্বরে নেমে ৩৫ বলে ৫৪ রানের ইনিংস খেলেন অধিনায়ক টার্নার। পঞ্চম উইকেটে ইভান্সের সঙ্গে তিনি গড়েন ৫৯ বলে ১০৪ রানের জুটি।

গত আসরের দুই ফাইনালিস্টের লড়াইয়ে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ছয় ওভারের মধ্যেই প্রথম চার ব্যাটসম্যানকে হারায় পার্থ। দুই অঙ্কে যেতে পারেন কেবল জস ইংলিস (১৩)। আক্রমণে এসে নিজের প্রথম ওভারে মিচেল মার্শ ও কলিন মানরোকে ফিরিয়ে দেন স্পিনার ন্যাথান লায়ন।

এরপরই পাল্টা আক্রমণে শুরু হয় টার্নার ও ইভান্সের লড়াই।ড্যান ক্রিস্টিয়ানকে ছক্কায় উড়িয়ে ইভান্স ফিফটি পূর্ণ করেন মাত্র ২৫ বলে। ৪৩ রানে একবার জীবন পাওয়া টার্নারও পঞ্চাশে পা রাখেন ছক্কা মেরে, ৩২ বলে।

ওই ওভারেই টার্নারকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন স্টিভ ও’কিফ। ইভান্স টিকে থাকেন শেষ পর্যন্ত।

আগের ম্যাচে আসরে প্রথমবার ওপেনিংয়ে নেমে অপরাজিত ৯৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে সিক্সার্সের জয়ের নায়ক ছিলেন হেইডেন কার। আবারও তিনি সুযোগ পান একই পজিশনে। এবার অবশ্য তার ইনিংস শেষ ২ রানেই।

এরপর নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট হারায় সিক্সার্স। জয়ের আশা তারা জাগাতে পারেনি কখনোই। ড্যানিয়েল হিউজের ৩৩ বলে ৪২ রান ছাড়া উল্লেখ করার মতো কিছু করতে পারেননি আর কেউই।

বিগ ব্যাশে দুটি হ্যাটট্রিক করা অ্যান্ড্রু টাই এ দিন জাগান আরেকটির আশা। শেষ পর্যন্ত যদিও তা হয়নি। ১৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে দলের সফলতম বোলার অবশ্য তিনিই। ২০ রানে ২ উইকেট নেন আরেক পেসার জাই রিচার্ডসন।

১৩ ম্যাচে দুই সেঞ্চুরিতে ৫৭৭ রান করে আসরের সর্বোচ্চ স্কোরার হোবার্ট হারিকেন্সের বেন ম্যাকডারমট হয়েছেন টুর্নামেন্টের সেরা। এই পারফরম্যান্সেই কদিন আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের অস্ট্রেলিয়া দলে ফিরেছেন তিনি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পার্থ স্কর্চার্স: ২০ ওভারে ১৭১/৬ (প্যাটারসন ১, ইংলিস ১৩, মার্শ ৫, মানরো ১, টার্নার ৫৪, ইভান্স ৭৬*, রিচার্ডসন ১; অ্যাবট ৪-০-২৭-০, বার্ড ১-০-৬-১, হেইডেন ৩-০-২০-১, ও’কিফ ৪-০-৪৩-২, লায়ন ৩-০-২৪-২, ডোয়ারশাস ২-০-২২-০, ক্রিস্টিয়ান ৩-০-২৮-০) 

সিডনি সিক্সার্স: ১৬.২ ওভারে ৯২ (কার ২, বার্টাস ১৫, হিউজ ৪২, হেনরিকেস ৭, ক্রিস্টিয়ান ৩, অ্যাভেনডানো ১, অ্যাবট ১, ডোয়ারশাস ০, লেন্টন ১০*, লায়ন ৩, ও’কিফ ২; রিচার্ডসন ৩.২-০-২০-২, বেহরেনডর্ফ ২-০-১২-১, টার্নার ১-০-৬-১, অ্যাগার ৪-০-২৫-১, টাই ৩-০-১৫-৩)

ফল: ৭৯ রানে জিতে চ্যাম্পিয়ন পার্থ স্কর্চার্স

ম্যান অব দা ম্যাচ: লরি ইভান্স

ম্যান অব দা টুর্নামেন্ট: বেন ম্যাকডারমট।