সিমন্স-ঝড়ের পর খুনে সেঞ্চুরিতে নায়ক তামিম

বিধ্বংসী ব‍্যাটিংয়ে লেন্ডল সিমন্সকে আড়াল করে দিলেন তামিমম ইকবাল। ভাগ‍্যকে পাশে পাওয়া ওপেনার দারুণ সঙ্গ পেলেন মোহাম্মদ শাহজাদের। দুই জনের চার-ছক্কার বৃষ্টিতে অনায়াসে সিলেট সানরাইজার্সের বড় সংগ্রহ ছাপিয়ে গেল মিনিস্টার ঢাকা।

জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে বিপিএলে শুক্রবার দ্বিতীয় ম‍্যাচে ৯ উইকেটে দুই সেঞ্চুরির ম্যাচে জয় মিনিস্টার ঢাকার।

ক‍্যারিয়ারের চতুর্থ ও বিপিএলে দ্বিতীয় সেঞ্চুরিতে এতে সবচেয়ে বড় অবদান তামিমের। আগের দিনই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে ৬ মাসের বিরতির ঘোষণা দেওয়া ব‍্যাটসম‍্যান ৬৪ বলে ১৭টি চার ও চারটি ছক্কায় করেন ১১১ রান।  

তামিমের আগেই এবারের বিপিএলে প্রথম সেঞ্চুরি উপহার দেন সিমন্স। মিরপুরের মতো এখানে সাবধানে খেলতে হয়নি ব‍্যাটসম‍্যানদের। ব‍্যাটে চমৎকারভাবে এসেছে বল। সেটা কাজে লাগিয়ে ৬৫ বলে ১৪ চার ও পাঁচ ছক্কায় সিমন্স খেলেন ক‍্যারিয়ার সেরা ১১৬ রানের ইনিংস।

তবে সিলেটের ১৭৫ রানের বড় সংগ্রহ তামিম ও শাহজাদের ঝড়ে যেন হয়ে যায় মামুলি। দুই ব‍্যাটসম‍্যানের সামনে পাত্তাই পায়নি সিলেটের বোলিং। তামিমের দারুণ ইনিংসের সঙ্গে শাহজাদের সহজাত ইনিংসে ১৮ বল বাকি থাকতেই লক্ষ‍্য ছুঁয়ে ফেলে ঢাকা।

দিনের প্রথম ম‍্যাচে একটু মন্থর ছিল উইকেট। দ্বিতীয় ম‍্যাচে হয়ে ওঠে পুরোপুরি ব‍্যাটিং স্বর্গ। সেখানে দারুণ সব শটের পসরা সাজিয়ে বোলারদের ওপর ছড়ি ঘুরান সিমন্স। ম‍্যাচ শেষ হওয়ার আগেই আরেকটি সেঞ্চুরি পেয়ে যায় বিপিএল। বাংলাদেশের প্রথম ব‍্যাটসম‍্যান হিসেবে বিপিএলে একাধিক সেঞ্চুরি করেন তিনি।

টস হেরে ব‍্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করে সিলেট। মাশরাফি বিন মুর্তজার প্রথম ওভারে জোড়া বাউন্ডারি মারেন এনামুল হক। অভিজ্ঞ পেসারকে তিনি পরের ওভারে ওড়ান ছক্কায়।

প্রথম তিন ওভারে যেন দর্শক হয়ে ছিলেন সিমন্স। চতুর্থ ওভারে রুবেল হোসেনকে জোড়া বাউন্ডারি মেরে ডানা মেলেন ক‍্যারিবিয়ান ওপেনার। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সতীর্থ আন্দ্রে রাসেলের পরের ওভারে মারেন তিন চার। এরপর কেবল এগিয়েই গেছেন তিনি।

পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে শুরুর জুটি বিচ্ছিন্ন করেন ইবাদত হোসেন। উড়িয়ে মেরে সীমানায় কাইস আহমেদের হাতে ধরে পড়েন এনামুল। ভাঙে ৩৫ বলে ৫০ রানের জুটি।

তিনে নেমে এক চার মেরেই ফেরেন মোহাম্মদ মিঠুন। দারুণ গুগলিতে তাকে বোল্ড করেন আসরে প্রথম খেলতে নামা আফগান লেগ স্পিনার কাইস।

সামনের দিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত ফিরতি ক‍্যাচে শূন‍্য রানে কলিন ইনগ্রামকে থামান মাশরাফি।

দ্রুত ৩ উইকেট নেওয়ার সুবিধা কাজে লাগাতে পারেনি ঢাকা। বলা ভালো, পারেনি সিমন্সের চমৎকার ব‍্যাটিংয়ের জন‍্য।কাইসকে ছক্কা হাঁকানোর পর রাসেলকে জোড়া চার মেরে এই ওপেনার পৌঁছান পঞ্চাশে। সেই ওভারেই অলরাউন্ডার রাসেলের বল উড়িয়ে মারেন সীমানার বাইরে।

কাইসকে ছক্কায় ওড়িয়ে ছাড়িয়ে যান বিপিএলে নিজের আগের সেরা ৭৩। ২০১৫ সালে বরিশাল বুলসের বিপক্ষে রংপুর রাইডার্সের হয়ে ওই ইনিংস খেলেছিলেন সিমন্স। মাঝে রবি বোপারা রান আউট হলেও নিজের মতো করে এগিয়ে যেতে থাকেন সিমন্স। অষ্টাদশ ওভারে ইবাদতকে টানা দুই বাউন্ডারে স্পর্শ করেন ক‍্যারিয়ারের সেঞ্চুরি।

২৮৬ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে সিমন্সের সেঞ্চুরি ছিল আগে একটিই। ২০১৪ আইপিএলে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে করেছিলেন অপরাজিত ১০০। সেটা ছাড়িয়ে থামেন ১১৬ রানে।

বড় রান তাড়ায় তৃতীয় বলেই ফিরতে পারতেন তামিম। তাসকিন আহমেদের বলে স্লিপে ডানদিকে ঝাঁপিয়ে ক‍্যাচ মুঠোয় জমাতে পারেননি মিঠুন। জীবন পেয়ে ঝড় তোলেন তামিম। অন‍্য প্রান্তে নিজের মতো করেই খেলে যান শাহজাদ।

আলাউদ্দিন বাবুকে ধ্রুপদি কাভার ড্রাইভে চার মারার পর তামিম মারেন আরেকটি চার ও ছক্কা। সানজামুল ইসলামকে সুইপ করে চার মারার পর বাঁহাতি স্পিনারের মাথার ওপর দিয়ে মারেন বিশাল ছক্কা।  তাসকিনের নান্দনিক স্ট্রেট ড্রাইভে চার মারার পর ইন সাইড আউটে কাভার দিয়ে যে ছক্কা মারেন তামিম ,সেটা টুর্নামেন্টেরই সেরা শটের একটি।    

পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে বোলিংয়ে আসেন অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন নিজেই। এই অফ স্পিনিং অলরাউন্ডারকে তিনটি চার মারেন তামিম। দ্বিতীয় চারে ২৮ বলে স্পর্শ করেন ফিফটি। চলতি আসরে পাঁচ ম‍্যাচে এটি তার তৃতীয় ফিফটি।

রবি বোপারাকে জোড়া চার মারার পর মুক্তার আলির ওভারে ৭১ রানে দুবার জীবন পান তামিম! প্রথমে ক‍্যাচ গ্লাভসে জমাতে পারেননি কিপার এনামুল। পরে শর্ট লেগে সহজ ক‍্যাচে ছাড়েন আলাউদ্দিন, ফিরে যাওয়ার বদলে ব‍্যাটসম‍্যান পান বাউন্ডারি। 

এরপর আর কোনো সুযোগ দেননি তামিম।  আলাউদ্দিনের ‘নো’ বলে চার মেরে স্পর্শ করেন সেঞ্চুরি। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের কারও যেখানে দুটির বেশি সেঞ্চুরি নেই সেখানে তামিমের হলো চারটি।

চারের পর ছক্কায় দলকে জয়ের কাছে নিয়ে যান তামিম। ১০ উইকেটেই হয়তো জেতা সম্ভব হতো, কিন্তু ছক্কায় ম‍্যাচ শেষ করার চেষ্টায় দলীয় ১৭৩ রানে ফিরে যান শাহজাদ। ৩৯ বলে সাত চার ও এক ছক্কায় ৫৩ রান এই আফগান কিপার-ব‍্যাটসম‍্যান।

বাউন্ডারিতে চার মেরে ঘরের মাঠে মাথা উঁচু করে মাঠ ছাড়েন তামিম।  

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

সিলেট সানরাইজার্স: ২০ ওভারে ১৭৫/৫ (সিমন্স ১১৬, এনামুল ১৮, মিঠুন ৬, ইনগ্রাম ০, বোপারা ১৩, মোসাদ্দেক ১৩*, আলাউদ্দিন ২*; মাশরাফি ৪-০-২৯-১, রুবেল ৪-০-৩১-০, রাসেল ৩-০-৪৫-১, ইবাদত ৪-০-২৯-১, কাইস ৪-০-২৬-১, শুভাগত ১-০-১১-০)

মিনিস্টার ঢাকা: ১৭ ওভারে ১৭৭/১ (তামিম ১১১*, শাহজাদ ৫৩, ইমরান ০*; তাসকিন ৩-০-২৮-০, সোহাগ ৪-০-৩৬-০, আলাউদ্দিন ২-০-৩২-১, সানজামুল ২-০-২৪-০, মোসাদ্দেক ২-০-২৩-০, বোপারা ৩-০-১৯-০, মুক্তার ১-০-১৫-০)

ফল: মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকা ৯ উইকেটে জয়ী

ম‍্যান অব দা ম‍্যাচ: তামিম ইকবাল