‘অস্ট্রেলিয়া হারাল আরেক নায়ককে’

অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস (‌১৯৭৫-২০২২)। ছবি: আইসিসি।
‘এই দুনিয়ায় এসব কী হচ্ছে… বিশ্বাস করতে পারছি না”, ধারাভাষ্যকার ও সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার লিসা স্টালেকার টুইটারে যা লিখলেন, একই প্রতিক্রিয়া আর ভাবনা নিশ্চিতভাবে অনেকেরই। রডনি মার্শ, শেন ওয়ার্নের মতো কিংবদন্তির মৃত্যুর পর এবার চলে গেলেন অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস। দুর্দান্ত এক ক্রিকেটার ও বর্ণময় চরিত্রকে হারিয়ে শোকে মূহ্যমান ক্রিকেটবিশ্ব।

সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান, ওয়ানডে ক্রিকেটের সেরা ফিনিশারদের একজন মাইকেল বেভানের টুইটে ফুটে উঠল একের পর এক অস্ট্রেলিয়ান গ্রেটকে হারানোর বেদনা।

“হৃদয় ভেঙে যাওয়ার মতো… অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট হারাল আরেকজন নায়ক। আমি স্তম্ভিত, ২০০৩ বিশ্বকাপে আমার সতীর্থ। অসাধারণ প্রতিভা।”

সাইমন্ডসের চলে যাওয়ার খবরে স্টালেকারের মতো বিশ্বাস-অবিশ্বাসের ঘোরে পড়ে গেছেন যেন আইপিএল খেলতে ভারতে থাকা অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।

“ঘুম থেকে উঠেই যা শুনতে পেলাম, বিশ্বাসই করতে পারছি না। তার পরিবার, সতীর্থরা এবং ক্রিকেট পরিবারের সবার কথা ভাবছি। আমাদের আরও এক নায়ককে হারিয়ে ফেললাম আমরা।”

সকালে ঘুম ভাঙার পর দুঃস্বপ্নের অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন সাবেক ফাস্ট বোলার ও এখনকার কোচ জেসন গিলেস্পি, “ঘুম থেকে উঠে ভয়ানক খবর পেলাম। পুরোপুরি বিধ্বস্ত আমি। আমরা সবাই তোমাকে মিস করব।”

সতীর্থই শুধু নয়, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, ম্যাথু হেইডেন, মাইকেল ক্লার্কদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন সাইমন্ডস। টুইটারে ছোট্ট প্রতিক্রিয়ায় গিলক্রিস্ট বুঝিয়ে দিলেন তার মানসিক অবস্থা, “এটা সত্যিই বেদনাদায়ক।”

ঘণ্টা দেড়েক পরে আরেকটি টুইটে গিলক্রিস্ট তুলে ধরলেন বন্ধু হিসেবে কতটা দারুণ ছিলেন সাইমন্ডস, “আপনার সবচেয়ে বিশ্বাস, মজার ও ভালোবাসার বন্ধুর কথা ভাবুন, যে কোনো বিপদে যে আপনার জন্য সবকিছুই করবে। রয় ছিল এমনই একজন।”

সাইমন্ডসকে কখনও ‘রয়’, কখনও ‘সাইমো’ নামে ডাকতেন সতীর্থ-বন্ধু-পরিজনরা। সাবেক পেসার ডেমিয়েন ফ্লেমিংও বললেন সাইমন্ডসের মজাপ্রিয় ধরনের কথা, “এটা এতটাই ভয়ঙ্কর…রয়ের পাশে থাকাটাই ছিল দারুণ মজার। তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা।”

সাইমন্ডসের সঙ্গে ২০০৩ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ও এখনকার কোচ ড্যারেন লিমান বললেন, কতটা পছন্দ করতেন তিনি সাইমন্ডসকে।

“ওপরে নিজের দেখভাল ঠিকমতো করো, গ্রেট ম্যান! আমার হৃদয় ভেঙে গেছে, এতটা ভালোবাসতাম ওকে!”

আগ্রাসী ও ভয়ডরহীন ব্যাটিং, মিডিয়াম পেস ও অফ স্পিন মিলিয়ে কার্যকর বোলিং তো ছিলই, সাইমন্ডস ক্রিকেট ইতিহাসে আলাদা জায়গা নিয়ে থাকবেন তার ফিল্ডিংয়ের জন্য। সর্বকালের সেরা ফিল্ডার মনে করা হয় যাকে, সেই জন্টি রোডসের প্রতিক্রিয়া বুঝিয়ে দেবে, কতটা ভালো ছিলেন সাইমন্ডস।

“আইপিএলে কিছু বড় নাম ও দারুণ কিছু চরিত্রের ক্রিকেটারের সঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে। অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস ছিল ভয়ঙ্কর এক প্রতিপক্ষ ও খুবই উদার সতীর্থ। ব্যাটে-বলে ভূমিকা তো ছিলই, সঙ্গে তর্কসাপেক্ষে সবর্কালের সেরা অলরাউন্ড ফিল্ডার।”

২০০৮ সালের সিডনি টেস্টে কুখ্যাত ‘মাঙ্কিগেট’ বিতর্কের জের ধরে যার সঙ্গে সাপে-নেউলে সম্পর্ক হয়ে গিয়েছিল সাইমন্ডসের, সেই ভারতীয় অফ স্পিনার হরভজন সিং মানতে পারছেন না এমন মৃত্যু।

“অ্যান্ড্র সাইমন্ডসের আচমকা চলে যাওয়ার খবরে স্তম্ভিত। অনেক দ্রুতই চলে গেলেন। তার পরিবার ও পরিজনের প্রতি হৃদয়ের ভেতর থেকে সমবেদনা। বিদেহী আত্মার জন্য প্রার্থনা।”

আইপিএলে একসঙ্গে খেলার সময়ের স্মৃতি মনে করলেন ভারতীয় কিংবদন্তি শচিন টেন্ডুলকার।

“অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসের চলে যাওয়া আমাদের সবার জন্যই মেনে নেওয়া কঠিন। অসাধারণ এক ফিল্ডারই শুধু ছিল না সে, মাঠে ছিল প্রাণশক্তির উৎস। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে একসঙ্গে কাটানোর সময়কার দারুণ সব স্মৃতি আছে আমার।”

সাবেক শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক মাহেলা জয়াবর্ধনে তুলে ধরলেন মাঠের ভেতরে-বাইরের সাইমন্ডসকে।

“সকালে খবরটি জেনে খুবই খারাপ লাগল। কঠিন এক প্রতিদ্বন্দ্বী, যে কিনা মাঠের বাইরে ছিল দারুণ মজার।”

অস্ট্রেলিয়ার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভনের ছোট্ট প্রতিক্রিয়া, “সাইমো… মনে হচ্ছে, এটা সত্যি নয়।”

তার স্মরণে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা টেস্ট ম্যাচ শুরুর আগে নীরবতা পালন করা হয় এক মিনিট।