সাকিব যা পারলেন, নাঈমদের যা পারতে হবে

উইকেটে প্রাণের ছোঁয়া নেই। কন্ডিশনের স্বস্তি নেই। তাতেই কি রুদ্ধ সব দুয়ার? সাকিব আল হাসান দেখালেন, ক্রিকেট জানলে ও বুঝলে, স্কিল থাকলে ঠিকই পথ বের হয়। এমন নয় যে অসাধারণ কিছু করে ফেলেছেন তিনি। তবে প্রাণহীন উইকেটে কীভাবে বোলিং করতে হয়, সেটির আদর্শ নমুনা ঠিকই মেলে ধরলেন সাকিব। চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিনে বাংলাদেশের অন্য বোলাররা যা পারেননি খুব একটা।

১৯-৭-২৭-১, সাকিবের এই বোলিং ফিগারই বলে দিচ্ছে, দিনের সেরা বোলার তিনি। উইকেট যদিও একটি বেশি নিয়েছেন নাঈম হাসান, তবে এই অফ স্পিনার রান গুনেছেন ওভারে প্রায় সাড়ে চার করে।

এই বোলিং ফিগারকে স্পেশাল করে তুলেছে আসলে এটির রেসিপি। যেসব উপকরণ দিয়ে উপহার দিয়েছেন এমন কিছু। বোলিংয়ে আনা হয় তাকে ৩৫ ওভারের পর। ততক্ষণ হয়তো পরখ করছিলেন উইকেটের চরিত্র। তিনি বোলিংয়ে আসার পর একটুও সময় লাগেনি সঠিক লেংথে বল ফেলতে।

লাইন-লেংথ তার তো বরাবরই ভালো। এ দিন আলাদা ছিল তার বলের গতি। এই ধরনের ব্যাটিং উইকেটে যে বলের গতি কমিয়ে ঝুলিয়ে দিতে হবে, উইকেটে সামান্য কিছু সহায়তা থাকলেও সেটি আদায় করতে ফ্লাইট দিতে হবে, ব্যাটসম্যানদের কাজ যতটা সম্ভব কঠিন করার চেষ্টা করতে হবে, সেটা বুঝেই তিনি করতে থাকেন একের পর এক ডেলিভারি। সফলও হন তাতে।

মাঝেমধ্যে কিছু ডেলিভারি ছাড়া টার্ন এমনিতে খুব একটা করেনি বল। তবে বলের গতি কমিয়ে বাতাসে ভাসিয়ে দেওয়ার কারণে কিছুটা বাউন্স সাকিব আদায় করতে পেরেছেন। বেশ কয়েকটি বল ছোবল দিয়েছে বিপজ্জনকভাবে।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বেশি খেলার কারণেই হয়তো, গত কয়েক বছরে তার বলের স্বাভাবিক গতি একটু বেড়ে গিয়েছিল। রান আটকানোর জন্য জোরে বোলিং করতেই বেশি দেখা যেত তাকে। কিন্তু এ দিন দেখা গেল সেই পুরনো সাকিবকে। বেশির ভাগ সময় তার বলের গতি ছিল ঘণ্টায় আশি কিলোমিটারের নিচে, গড় গতি আশির আশেপাশে।

যে কাজটি করতে পারেননি নাঈম হাসান ও তাইজুল ইসলাম। প্রথম স্পেলে দারুণ দুটি ডেলিভারিতে উইকেট পান নাঈম। দুটিই ছিল একটু জোরের ওপর করা ডেলিভারি। এতেই হয়তো আরও বেশি করে জোরে বল করার চেষ্টা করতে থাকেন নাঈম। সেটির খেসারত দিতে হয় তাকে ও দলকে। হজম করেন তিনি প্রচুর রান।

তাইজুল অবশ্য নাঈমের মতো অতটা অগোছালো ছিলেন না। বিভিন্ন গতিতেই বল করতে দেখা গেছে তাকে। তবে ধ্রুপদি ঘরানার বোলার হিসেবে উইকেট বুঝে ঝুলিয়ে বোলিং করাই তার কাছে ছিল বেশি প্রত্যাশিত। সেখানে তিনি যথেষ্ট ধারাবাহিক হতে পারেননি।

বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ রঙ্গনা হেরাথ অবশ্য তাইজুলের বোলিংয়ে অখুশি নন। তবে নাঈমকে যে দ্রুত শিখতে হবে, এটাও তিনি তুলে ধরলেন দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে।

“এটা অনেকটাই নির্ভর করে অ্যাকশনের ওপর (মন্থর গতিতে বল করা)। সাকিব তার অ্যাকশনে সবসময় সহজেই ধীরে বল করতে পারে। তাইজুলের কথা অবশ্য বলতেই হবে আমাকে, গতি বৈচিত্র বেশ ভালোভাবেই ব্যবহার করেছে সে। নাঈমকে ম্যাচের পরিস্থিতি ও নিজের ভূমিকা আরেকটু বুঝতে ও শিখতে হবে। তাহলে সে উন্নতি করবে। তবে কালকেই সুযোগ আছে নিজেকে মেলে ধরার।”