তাইজুলের দারুণ লড়াইয়ের পরও ড্র চট্টগ্রাম টেস্ট

দুর্দান্ত বোলিংয়ে আলো ছড়ালেন তাইজুল ইসলাম। বাঁহাতি এই স্পিনারের ছোবলে একটা সময় জমে গিয়েছিল ম্যাচ। সম্ভাবনা জেগেছিল ফল বেরুনোর। কিন্তু নিরোশান ডিকভেলা ও দিনেশ চান্দিমালের চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞার ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত ড্র হলো বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার চট্টগ্রাম টেস্ট।

পঞ্চম দিন

শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ৩৯৭

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১৭০.১ ওভারে ৪৬৫

শ্রীলঙ্কা ২য় ইনিংস: ৯০.১ ওভারে ২৬০/৬

 

ড্র চট্টগ্রাম টেস্ট

চতুর্থ দিনে দুই দলের কেবল প্রথম ইনিংস শেষ হওয়ায় ড্র-ই ছিল সবচেয়ে সম্ভাব্য ফল। যদিও তাইজুলের বল হাতে লড়াই কিছু আশা জাগায় বাংলাদেশের মনে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আশার বাতি নিভিয়ে দেন ডিকভেলা ও চান্দিমাল।

পঞ্চম দিন বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করা শ্রীলঙ্কার রান যখন ৬ উইকেটে ২৬০, ড্র মেনে নেন দুই দলের সদস্যরা। তখনও দিনের খেলা বাকি ছিল ১৫ ওভার।

দুই টেস্টের সিরিজটি এখনও সমতায়। আগামী সোমবার মিরপুরে শুরু হবে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।

চতুর্থ দিন দুই উইকেট হারানো শ্রীলঙ্কা পঞ্চম দিনের প্রথম সেশনে হারায় আরও দুটি। পরে দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে দিমুথ করুনারত্নে ও ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা ফিরলে আশা জাগে বাংলাদেশের মনে।

কিন্তু দুর্দান্ত ব্যাটিং উপহার দিয়ে দলকে পথ দেখান ডিকভেলা ও চান্দিমাল। এক প্রান্ত আগলে রেখে সতর্ক ব্যাটিং উপহার দেওয়া চান্দিমাল শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন এক ছক্কা ও ৪ চারে ১৩৪ বলে ৩৯ রান নিয়ে।

কিছুটা দ্রুত রান তোলা ডিকভেলা করেন ক্যারিয়ারের ২০তম ফিফটি। ৬ চারে ৯৫ বলে ৬১ রানে খেলছিলেন তিনি।

প্রথম ইনিংসে এক উইকেট নেওয়া তাইজুল জ্বলে ওঠেন দ্বিতীয়ভাগে। ৮২ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নেন তিনি। সাকিবের শিকার একটি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ৩৯৭

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৪৬৫

শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় ইনিংস: ৯০.১ ওভারে ২৬০/৬ (আগের দিন ৩৯/২) (করুনারত্নে ৫২, মেন্ডিস ৪৮, ম্যাথিউস ০, ধনাঞ্জয়া ৩৩, চান্দিমাল ৩৯*, ডিকভেলা ৬১*; নাঈম ২৩-৫-৭৯-০, খালেদ ৭-২-৩৭-০, সাকিব ২৫-৫-৫৮-১, তাইজুল ৩৪-৯-৮২-৪, শান্ত ১-০-২-০)

ফল: ম্যাচ ড্র

বাংলাদেশের ব্যর্থ রিভিউ

উইকেট মিলছে না, তেমন কোনো সুযোগও তৈরি হচ্ছে না। যেন ইস্পাত কঠিন দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছেন নিরোশান ডিকভেলা ও দিনেশ চান্দিমাল।

তাদের প্রতিরোধ ভাঙতেই হয়তো অনেকটা নিশ্চিত নট আউট জেনেও রিভিউ নিলেন মুমিনুল হক। তাতে নিজেদের প্রথম রিভিউ হারাল বাংলাদেশ।

নাঈম হাসানের বলে চান্দিমালের কট বিহাইন্ডের আবেদন করে বাংলাদেশ। কিন্তু সাড়া দেননি আম্পায়ার। পরে রিপ্লেতে দেখা যায় বল ব্যাট স্পর্শ করেনি। তখন ২৮ রানে খেলছিলেন চান্দিমাল।

ডিকভেলার ফিফটি

দলের বিপর্যয়ে দারুণ ব্যাটিংয়ে নিজেকে মেলে ধরলেন নিরোশান ডিকভেলা। ক্যারিয়ারের ২০তম ফিফটি তুলে নিলেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।

তাইজুল ইসলামের ফুল লেংথ বল কাভারে ঠেলে সিঙ্গেল নিয়ে ৮৩ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন ডিকভেলা। বাংলাদেশের বিপক্ষে লঙ্কান এই কিপার-ব্যাটসম্যানের এটি চতুর্থ অর্ধশত।

কিপিংয়ে সোহান

৮২তম ওভার শেষে মাঠ ছেড়ে উঠে গেলেন লিটন কুমার দাস। তার জায়গায় গ্লাভস হাতে নামলেন নুরুল হাসান সোহান।

জুটির পঞ্চাশ

সপ্তম উইকেটে পঞ্চাশ রানের জুটি গড়ে শ্রীলঙ্কাকে টানছেন নিরোশান ডিকভেলা ও দিনেশ চান্দিমাল। ১১৭ বলে তাদের জুটি এখন ৫১ রানের।

জুটিতে অগ্রণী ডিকভেলা। যেখানে তার রান ৫৯ বলে ৩৩ রান, আর চান্দিমালের ৫৮ বলে ১৬।

৭৭ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার রান ৬ উইকেটে ২১২। লিড নিয়েছে তারা ১৪৪ রানের।

দ্বিতীয় সেশনেও বাংলাদেশের প্রাপ্তি দুই উইকেট

প্রথম সেশনের পর দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে দুটি উইকেট তুলে নিয়ে ফল বের করার সম্ভাবনা জাগায় বাংলাদেশ। কিন্তু মুমিনুলদের সেই আশার সামনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন নিরোশান ডিকভেলা ও দিনেশ চান্দিমাল।

চা-বিরতিতে যাওয়ার সময় শ্রীলঙ্কার রান ৬ উইকেট হারিয়ে ২০৫। লিড নিয়েছে তারা ১৩৭ রানের।

সাবধানী ব্যাটিংয়ে এক প্রান্ত আগলে রেখেছেন চান্দিমাল। এক চারে ৭৮ বলে ১৪ রানে খেলছেন তিনি। কিছুটা দ্রুত রান বাড়াচ্ছেন ডিকভেলা। ৩ চারে ৪৯ বলে  বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানের রান ৩২।

সপ্তম উইকেটে ১০০ বল স্থায়ী এই দুইজনের অবিচ্ছিন্ন জুটি ৪৪ রানের।

দ্বিতীয় সেশনে খেলা হয়েছে ২৯ ওভার। এই সময়ে রান এসেছে ৭৭।

দুর্দান্ত বোলিং করে যাচ্ছেন তাইজুল ইসলাম। দেয়াল হয়ে দাঁড়ানো দিমুথ করুনারত্নেকে ফেরান বাঁহাতি এই স্পিনার। এই নিয়ে তার উইকেট হলো ৪টি। পরে ধনাঞ্জয়া ডি সিলভাকে বিদায় করেন সাকিব আল হাসান।

চান্দিমাল-ডিকভেলা দেয়াল

দ্রুত কিছু উইকেট নিয়ে ম্যাচ জমিয়ে দেওয়া বাংলাদেশের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন নিরোশান ডিকভেলা ও দিনেশ চান্দিমাল। বিপদে পড়া শ্রীলঙ্কাকে টানছেন এই দুই ব্যাটসম্যান।

তাদের জুটি এরই মধ্যে খেলে ফেলেছে ৮৮ বল। রান এসেছে ৪২।

৪৪ বলে ৩১ রান নিয়ে খেলছেন ডিকভেলা। চান্দিমালের রান ১৩।

দলীয় দুইশ রানও হয়ে গেছে শ্রীলঙ্কার। ৭১ ওভার শেষে সফরকারীদের রান ৬ উইকেটে ২০৩। তাদের লিড ১৩৫ রানের।

তাইজুলের দুর্দান্ত টার্ন

ঠিক যেন আগের দিনে লাসিথ এম্বুলদেনিয়াকে বোল্ড করা বলটি করলেন তাইজুল ইসলাম। তবে এবার অল্পের জন্য পেলেন না উইকেট।

৬৪তম ওভারের চতুর্থ বলটি অফ স্টাম্পের অনেক বাইরে পড়ে টার্ন করে ভেতরে ঢোকে বেশ খানিকটা। পা বাড়িয়ে ডিফেন্স করেন নিরোশান ডিকভেলা। কিন্তু ব্যাট ফাঁকি দিয়ে বল প্যাডে লেগে বাঁহাতি ডিকভেলার লেগ স্টাম্পের পাশ দিয়ে যায়। তখন ১২ রানে খেলছিলেন তিনি।

বেঁচে গেলেন ডিকভেলা

সাকিব আল হাসানের নামের পাশে যোগ হতে পারত আরেকটি উইকেট। কিন্তু অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন নিরোশান ডিকভেলা।

৬৩তম ওভারের শেষ বলটি ব্যাটসম্যানের পায়ের ওপর করেন সাকিব। লেগ সাইডে খেলেন ডিকভেলা। তার ব্যাট থেকে বল যায় লেগ গালিতে। কিন্তু একটুর জন্য হয়নি ক্যাচ।

সামনে নুইয়ে বল হাতে জমান মাহমুদুল হাসান জয়। কিন্তু তার একটু সামনে মাটিতে লেগে যায় বল। বোলার সাকিব, কিপার লিটন কুমার দাসসহ বাংলাদেশের সবাই মাথায় হাত দিয়ে আক্ষেপ করেন।

১২ রানে খেলছিলেন তখন ডিকভেলা।

ধনাঞ্জয়াকে ফেরালেন সাকিব

অনেকক্ষণ ধরেই লেগে টেনে খেলছিলেন ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা। একবার বেঁচে যান একটুর জন‍্য ক‍্যাচ ফিল্ডারের কাছে না যাওয়ায়। এবার আর টিকলেন না, সাকিব আল হাসানকে পুল করার চেষ্টায় মিডউইকেটে ধরা পড়লেন মুশফিকুর রহিমের হাত।

শর্ট বল ঠিক মতো খেলতে পারেননি ধনাঞ্জয়া, যতটা তুলতে চেয়েছিলেন পারেননি। সহজ ক‍্যাচ নেন মুশফিক।  ভাঙে ৫৫ বল স্থায়ী ১৮ রানের জুটি।

তিন চার ও এক ছক্কায় ৬০ বলে ৩৩ রান করেন ধনাঞ্জয়া।

পরের বলেই মিলতে পারতো আরেকটি উইকেট। সুইপ করে ক‍্যাচের মতো দেন নতুন ব‍্যাটসম‍্যান নিরোশার ডিকভেলা। তবে স্কয়ার লেগে লাফিয়ে তাইজুল ইসলাম কেবল আঙুল ছোঁয়াতে পারেন। বাউন্ডারি পেয়ে যান লঙ্কান কিপার-ব‍্যাটসম‍্যান। দুই বল পর সুইপ করে তিনি মারেন আরেকটি চার।

ক্রিজে তার সঙ্গী অভিজ্ঞ দিনেশ চান্দিমাল।

একটুর জন্য বাঁচলেন ধনাঞ্জয়া

পরের ওভারেই নিজের পঞ্চম উইকেটটি পেয়ে যেতে পারতেন তাইজুল ইসলাম। কিন্তু একটুর জন্য বেঁচে গেলেন ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা।

৫০তম ওভারের পঞ্চম বল লেগ সাইডে খেলেন ধনাঞ্জয়া। কিন্তু মাটিতে রাখতে পারেননি বল। মিডউইকেটে মুশফিকুর রহিমের সামান্য সামনে পড়ে। বল হাতে জমালেও আগেই তা মাটি স্পর্শ করায় হয়নি ক্যাচ।

তখন ২২ রানে খেলছিলেন ধনাঞ্জয়া।

শ্রীলঙ্কার পড়া পাঁচ উইকেটই এসেছে তাইজুলের হাত ধরে। একটি তার চমৎকার ফিল্ডিংয়ে রান আউট।

ফিফটি পর ফিরলেন করুনারত্নে

দুর্দান্ত বোলিং উপহার দিয়ে একের পর এক উইকেট তুলে নিচ্ছেন তাইজুল ইসলাম। এবার বাঁহাতি এই স্পিনারের শিকার দিমুথ করুনারত্নে।

ফিফটির পর একটু আগ্রাসী হতে চেয়েছিলেন এক প্রান্ত আগলে রাখা লঙ্কান অধিনায়ক। তাইজুলের করা ৪৮তম ওভারের প্রথম বলটি উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে এসে খেলেন তিনি।

কিন্তু ব্যাটে-বলে করতে পারেননি ঠিকমতো। বল উড়ে যায় মিড-উইকেটে। ডানদিকে ঝাঁপিয়ে দারুণ ক্যাচ মুঠোয় জমান বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হক।

শেষ হয় ২ চারে ১৩৮ বল স্থায়ী করুনারত্নের ৫২ রানের ইনিংস।

১৯ রানে খেলছেন ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা। উইকেটে তার সঙ্গী দিনেশ চান্দিমাল।

করুনারত্নের ফিফটি

সতীর্থের আসা-যাওয়ার মাঝে এক প্রান্ত আগলে রেখেছেন দিমুথ করুনারত্নে। ১৩২ বলে শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক স্পর্শ করেছেন ফিফটি।

টেস্ট ক্যারিয়ারে বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানের এটি ২৮তম পঞ্চাশ। বাংলাদেশের বিপক্ষে করলেন তৃতীয়বার।

ছিটকে গেলেন শরিফুল

ব্যাটিংয়ের সময় পাওয়া চোট লম্বা সময়ের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে দিল শরিফুল ইসলামকে। চট্টগ্রাম টেস্টের শেষ দিন তো বটেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মিরপুর টেস্টেও খেলতে পারবেন না বাঁহাতি এই পেসার।

বিসিবির ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম জানান, মাঠে ফিরতে পাঁচ সপ্তাহের মতো সময় লাগবে শরিফুলের।

চলতি টেস্টের চতুর্থ দিন দশম ব্যাটসম্যান হিসেবে উইকেটে যান শরিফুল। ১৬৭তম ওভারে লঙ্কান পেসার কাসুন রাজিথার একটি শর্ট বলে হাতে চোট পান তিনি। পরে ফিজিও তখন মাঠে ঢুকে কিছুটা চিকিৎসাও দিলে ব্যাটিং চালিয়ে যান। ১৭১তম ওভারে আরেকটি শর্ট বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে ব্যাথা। এরপর আর মাঠ ছাড়েন তিনি। শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস।

দিনের শেষ বেলায় বোলিংও করেননি এই পেসার। তার ছিটকে যাওয়ায় একজন পেসার নিয়ে শেষ দিনে লড়াই করতে হবে বাংলাদেশকে।

প্রথম সেশনে বাংলাদেশের দুই উইকেট

দিনের শুরুটা শ্রীলঙ্কার ছিল উড়ন্ত। প্রথম ঘণ্টায় কুসল মেন্ডিসের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে রান আসে দ্রুত। তবে তাইজুল ইসলামের হাত ধরে ঘুরে দাঁড়াতে সময় নেয়নি বাংলাদেশ। পরের ঘণ্টায় ফিরিয়ে দেয় দুই ব‍্যাটসম‍্যানকে।

পঞ্চম দিনের লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার সময় শ্রীলঙ্কার রান ৪ উইকেটে ১২৮। এখন পর্যন্ত দিমুথ করুনারত্নের দলের লিড ৬০ রানের।

লঙ্কান অধিনায়ক সাবধানী ব্যাটিংয়ে খেলছেন ৪৪ রান নিয়ে। তার ১২৭ বলের ইনিংসে চার কেবল দুটি। এক ছক্কায় ২৪ বলে ১২ রান করে প্রথম সেশন শেষ করেছেন ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা।

প্রথম ঘণ্টায় ১৩.৫ ওভারে লঙ্কানরা তুলে ফেলে ৬৭ রান। পানি-পানের বিরতির পর তাইজুলের ছোবলে থামে তাদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং। মেন্ডিসকে বোল্ড করার পর ফিরতি ক‍্যাচ নিয়ে  ম্যাথিউসকে শূন্য রানে ফেরান বাঁহাতি এই স্পিনার।

সাকিব আল হাসানও চাপে রেখেছেন প্রতিপক্ষকে। এদিন ৮ ওভার করে নিয়েছেন দুই মেডেন, রান দিয়েছেন কেবল ১০।

প্রথম সেশনের দ্বিতীয় ঘণ্টায় খেলা হয়েছে ১৩ ওভার। এই সময়ে রান এসেছে স্রেফ ২২।

অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন করুনারত্নে

অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসকে ফেরানোর পরের ওভারে একটুর জন‍্য আরেকটি উইকেট পেলেন না তাইজুল ইসলাম।

ওভারের দ্বিতীয় বলটি উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে এসে খেলার চেষ্টায় অল্পের জন্য শর্ট লেগে ক্যাচ দেননি করুনারত্নে। বল সামান্য সামনে পড়ে ফিল্ডার মাহমুদুল হাসান জয়ের।

এক বল পর আসে কঠিন সুযোগ। টার্ন করে বেরিয়ে যাওয়া বল ব্যাটে লাগান করুনারত্নে। বল যায় লেগ স্লিপে। ক্যাচের চেষ্টা করেন ইয়াসির আলি চৌধুরি। কিন্তু তার হাতের একটু সামনে পড়ে বল।

তখন ৪১ রানে খেলছিলেন লঙ্কান অধিনায়ক।

শূন্যতেই শেষ ম্যাথিউস

প্রথম ইনিংসে ১৯৯। এবার কিনা রানের খাতাই খুলতে পারলেন না অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। তাকে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরত পাঠালেন তাইজুল ইসলাম।

১৩ বল খেলে ফেললেও রান করতে পারছিলেন না ম্যাথিউস। সেই বৃত্ত ভাঙতেই হয়তো আগ্রাসী শট খেলতে গেলেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান। তাতে বিদায় নিতে হলো তাকে হতাশা নিয়েই।

৩৬তম ওভারের শেষ বলটি ব্যাটের নিচে পেয়ে বোলারের মাথার ওপর দিয়ে ওড়ানোর চেষ্টা করেন ম্যাথিউস। কিন্তু ব্যাটে খেলতে পারেননি ঠিকমতো।

সজোরে হাঁকানো বলটি সোজা যায় বোলার তাইজুলের কাছে। দারুণ দক্ষতায় বল মুঠোয় জমিয়ে আনন্দে মাতেন বাঁহাতি স্পিনার।

উইকেটে ৪১ রান করা দিমুথ করুনারত্নের সঙ্গী ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা।

তাইজুলের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড মেন্ডিস

প্রথম ঘণ্টার অস্বস্তি যেন মুহূর্তেই ঝেড়ে ফেলল বাংলাদেশ। পানি-পানের বিরতির পর দ্বিতীয় বলেই আগ্রাসী কুসল মেন্ডিসকে বোল্ড করে দিলেন তাইজুল ইসলাম।

৪৩ বলে ৪৮ রান করে ফিরলেন মেন্ডিস। তার ইনিংসটি গড়া ৮ চার ও এক ছক্কায়।

৩২তম ওভারের দ্বিতীয় বলটি পা বাড়িয়ে ডিফেন্স করেন মেন্ডিস। কিন্তু লেংথে পড়ে টার্ন করা বলে ব্যাট ছোঁয়াতে পারেননি তিনি।

ব্যাট পেরিয়ে বেরিয়ে যেতে যেতে শেষ মুহূর্তে মেন্ডিসের অফ স্টাম্পে ছোবল দেয় বল। অবাক হয়ে যান মেন্ডিস, উল্লাসে মাতে বাংলাদেশ।

৩৪ রানে খেলছেন দিমুথ করুনারত্নে। উইকেটে তার সঙ্গী প্রথম ইনিংসে ১৯৯ রান করা অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস।

রান জোয়ারের প্রথম ঘণ্টা

শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে খেলা কুসল মেন্ডিসের সৌজন্যে দ্রুত রান বাড়াচ্ছে শ্রীলঙ্কা। পঞ্চম দিনের প্রথম ঘণ্টা নিজেদের করে নিয়েছে সফরকারীরা।

এই সময়ে খেলা হয়েছে ১৩.৫ ওভার। লঙ্কানরা তুলে ফেলছে ৬৭ রান। ৩১ ওভার শেষে তাদের রান ২ উইকেটে ১০৬। এখন পর্যন্ত ৩৮ রানে এগিয়ে তারা।

বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ফিফটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন কুসল মেন্ডিস। ৪১ বলে ৮ চার ও এক ছক্কায় ৪৮ রানে খেলছেন তিনি। দেখেশুনে খেলা দিমুথ করুনারত্নের রান ৯০ বলে ৩৪।

কঠিন সুযোগ হাতছাড়া

সকাল থেকে যে একটি সুযোগ তৈরি করতে পেরেছে বাংলাদেশ, তাও হাতছাড়া হয়েছে। যদিও বেশ কঠিন ছিল সুযোগটি।

তাইজুল ইসলামের করা ২৬তম ওভারের চতুর্থ বলটি পা বাড়িয়ে ডিফেন্স করেন কুসল মেন্ডিস। লেংথে পড়া বল টার্ন করে ব্যাটের বাইরের কানা নিয়ে ফাঁকি দেয় কিপার ও প্রথম স্লিপে থাকা ফিল্ডারকে। হয়ে যায় বাউন্ডারি।

লিটন কুমার দাস ও ইয়াসির চৌধুরি একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকেন। তখন ৪০ রানে খেলছিলেন কুসল মেন্ডিস।

ছক্কায় জুটির পঞ্চাশ

আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে এগিয়ে চলা কুসল মেন্ডিস স্কয়ার লেগ দিয়ে ছক্কায় ওড়ালেন নাঈম হাসানকে। এই বাউন্ডারিতে করুনারত্নের সঙ্গে তার জুটির পঞ্চাশ হয়ে গেল।

জুটিতে অগ্রণী মেন্ডিসই। যেখানে তার রানই ৪০ রান। ২৬ বলে এই রান করেছেন মেন্ডিস।

শ্রীলঙ্কার লিড

২৯ রানে পিছিয়ে থেকে পঞ্চম দিন শুরু করা শ্রীলঙ্কা লিড নিতে খুব বেশি সময় নিল না। দিনের পঞ্চম ওভারেই তারা পেরিয়ে গেল বাংলাদেশকে।

দলের রান বাড়ানোর কাজটি করছেন কুসল মেন্ডিস। তাইজুল ইসলামকে চার মেরে রানের খাতা খোলা এই ব্যাটসম্যান খেলছেন টি-টোয়েন্টি মেজাজে।

সৈয়দ খালেদ আহমেদের এক ওভারে নেন ১৪ রান, টানা মারেন তিন চার। ২১তম ওভার করতে আসা এই পেসার প্রথম দুই বল করেন শর্ট। পুল শটে স্কয়ার লেগ দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠান কুসল মেন্ডিস। তৃতীয় বলটি কাভার ড্রাইভে চার।

পরের ওভারে তাইজুলকে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে এসে মিড-অফ ফিল্ডারের মাথার ওপর দিয়ে চার মারেন কুসল মেন্ডিস। ১৯ বলে ডানহাতি এই ব্যাটসম্যানের রান ২৮।

দিমুথ করুনারত্নের ৫৮ বলে ২৪। শ্রীলঙ্কার রান ২২ ওভার শেষে ২ উইকেটে ৭৬। তারা এগিয়ে ৮ রানে।

মাঠে ফিরলেন আম্পায়ার কেটেলবরো

চতুর্থ দিন দ্বিতীয় সেশনে হুট করে মাঠ ছেড়ে যাওয়া রিচার্ড কেটেলবরো পঞ্চম ও শেষ দিনের শুরুতেই আবার ফিরলেন নিজ দায়িত্বে।

বাংলাদেশ ইনিংসের ১৩৯তম ওভার শেষে মাঠ ছেড়েছিলেন ইংলিশ আম্পায়ার কেটেলবরো। তার জায়গায় কাজ চালান তৃতীয় আম্পায়ারের দায়িত্বে থাকা জো উইলসন।

পঞ্চম দিনের শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। দিনের প্রথম ওভারেই তাইজুল ইসলামকে দুই চার হাঁকান নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে নামা কুসল মেন্ডিস।

শেষের রোমাঞ্চের অপেক্ষা

চতুর্থ দিনে শেষ হয়েছে কেবল দুই দলের প্রথম ইনিংস। তাতে ম‍্যাচের সবচেয়ে সম্ভাব‍্য ফল হয়তো ড্র। তবে শেষ বেলায় শ্রীলঙ্কার ২ উইকেট নিয়ে নিজেদের সম্ভাবনা কিছুটা বাঁচিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ। তাইজুল ইসলামের হাত ধরে জাগা ক্ষীণ আশাকে পূর্ণতা দিতে মাঠে নামছে মুমিনুল হকের দল।

দ্বিতীয় ইনিংসে ২ উইকেটে ৩৯ রান নিয়ে চতুর্থ দিন শেষ করেছে শ্রীলঙ্কা। ৬৮ রানের লিড পাওয়া বাংলাদেশের চেয়ে তারা পিছিয়ে ২৯ রানে।

৪৫ বলে ২ চারে ১৮ রানে অপরাজিত আছেন লঙ্কান অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নে।

উইকেট থেকে স্পিনাররা টার্ন পাচ্ছেন, বাউন্সও অসমান। শেষ দিনে তাই ব্যাটিং করা খুব সহজ হবে না। এই সুবিধা কাজে লাগাতে উন্মুখ বাংলাদেশ।

চতুর্থ দিন শেষে সংক্ষিপ্ত স্কোর:

শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ৩৯৭

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৪৬৫

শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় ইনিংস: ১৭.১ ওভারে ৩৯/২ (ওশাদা ১৯, করুনারত্নে ১৮*, এম্বুলদেনিয়া ২; নাঈম ৯-৩-২১-০, খালেদ ১-০-৬-০, সাকিব ৬-৩-১২-০, তাইজুল ১.১-১-০-১)