প্রাথমিক পর্বেই শেষ মুস্তাফিজদের আইপিএল

পেতে পারতেন গোল্ডেন ডাকের তেতো স্বাদ। কিন্তু টিম ডেভিডকে প্রথম বলে ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করল দিল্লি ক্যাপিটালস। দিতে হলো এর চড়া মাশুল। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের এই ব্যাটসম্যানের ঝড়ে প্রাথমিক পর্বেই থেমে গেল মুস্তাফিজুর রহমানদের আইপিএলের এবারের আসর।

মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে শনিবার দিল্লির মুঠো থেকে ম্যাচ বের করে নেন ডেভিড। তার তাণ্ডবে ৫ উইকেটের জয় তুলে নেয় মুম্বাই। ১৬০ রানের লক্ষ্য ৫ বল বাকি থাকতেই ছুঁয়ে ফেলে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।

মুম্বাইয়ের এই জয় দিল্লির স্বপ্ন ভাঙলেও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালোরের আশা পূরণ করেছে। ১৬ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে থেকে প্লে-অফে জায়গা করে নিয়েছে বিরাট কোহলি-ফাফ দু প্লেসিরা। দিল্লি টুর্নামেন্ট শেষ করেছে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচে থেকে।

রান তাড়ায় ডেভিড যখন উইকেটে যান মুম্বাইয়ের চাই তখন ৩৩ বলে ৬৫ রান। মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি। কিন্তু দিল্লির আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। দ্বিধান্বিত রিশাভ পান্ত নেননি রিভিউও। রিপ্লেতে দেখা যায় বল ব্যাট স্পর্শ করেছে।

জীবন পেয়ে ডেভিড দিল্লির বোলারদের ওপর বইয়ে দেন ঝড়। ৪ ছক্কা ও ২ চারে ১১ বলে ৩৪ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে দলের জয়ের পথ করে দেন সহজ।

মুম্বাইয়ের শুরুটা ভালো ছিল না। ব্যাট হাতে বাজে সময় কাটানো রোহিত শর্মা এদিনও যেতে পারেননি দুই অঙ্কে। ১৩ বলে ২ রান করেন মুম্বাই অধিনায়ক। আইপিএলে এই প্রথমবার কোনো ফিফটি ছাড়া আসর শেষ করলেন ভারতের অধিনায়ক।

পরে ইশান কিষান ও ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের ৩৭ বলে ৫১ রানের জুটিতে শক্ত ভিত পায় মুম্বাই। ৩৫ বলে ৪ ছক্কা ও ৩ চারে ৪৮ রান করেন কিষান। ব্রেভিস ফেরেন ৩ ছক্কা ও এক চারে ৩৩ বলে ৩৭ করে।

থিতু হয়ে যাওয়া দুই ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে জয়ের ছবি আঁকছিল দিল্লি। কিন্তু ডেভিডের খুনে ব্যাটিংয়ে উড়ে যায় তাদের সেই আশা। ফসকে যায় হাতের মুঠোয় থাকা ম্যাচ।

টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে দিল্লিকে শুরুতেই চেপে ধরে মুম্বাই। ৫০ রানে তুলে নেয় তাদের ৪ উইকেট। রভম্যান পাওয়েল ও পান্ত বিপদে পড়া দলকে পথে ফেরান। গড়েন ৪৪ বলে ৭৫ রানের জুটি।

৪ ছক্কা ও এক চারে ৩৪ বলে ৪৩ রান করেন পাওয়েল। ৩৩ বল খেলা দিল্লি অধিনায়ক পান্তের রান ৩৯। চারটি চারের সঙ্গে মারেন এক ছক্কা। শেষ দিকে ২ ছক্কায় ১০ বলে ১৯ রান করে অপরাজিত থাকেন আকসার প্যাটেল।

দিল্লির হয়ে এই ম্যাচেও সুযোগ পাননি মুস্তাফিজ। আসরে দলের প্রথম ম্যাচ খেলতে পারেননি আইসোলেশনে থাকার কারণে। এরপর টানা ৮ ম্যাচ বাঁহাতি এই পেসারকে খেলানো হয়। কিন্তু প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে না পারায় বাদ পড়েন একাদশ থেকে।

ওভারপ্রতি ৭.৬২ রান দিয়ে মুস্তাফিজ শিকার করেন ৮ উইকেট।

তাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের টেস্ট দলে খুব করে চাইছে বাংলাদেশ। কিন্তু লম্বা সময় বাইরে থাকায় মুস্তাফিজ নিজে চাচ্ছেন না এখনই টেস্টে ফিরতে। তবে আপাতত তার আইপিএল অভিযান শেষ। ক্যারিবিয়ান সফরের আগে সময় পাচ্ছেন নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার।

আগামী ৫ জুন ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্দেশে রওয়ানা দেওয়ার কথা বাংলাদেশ দলের। দুই দলের প্রথম টেস্ট শুরু আগামী ১৬ জুন।