সমালোচনাকে আর পাত্তা দেন না লিটন

সমুদ্রে পেতেছি শয্যা, শিশিরে কী ভয়! সমালোচনার স্রোতে সাঁতরে সামনে এগোতে হয়েছে লিটন কুমার দাসকে। এখন আর তাই এসব স্পর্শ করতে পারে না তাকে। তিনি বরং মগ্ন থাকেন প্রস্তুতি আর প্রক্রিয়া নিয়ে, বুঁদ থাকেন নিজের ক্রিকেটে।

এই লিটনকে নিয়ে একসময় কত সমালোচনা, কত ট্রল হয়েছে! সংবাদমাধ্যমে কাটাছেঁড়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো। ক্রিকেটের সীমানা ছাড়িয়ে কখনও ধর্ম, কখনও পরিবারকে লক্ষ্য করে আক্রমণ। কী হয়নি তাকে নিয়ে। অথচ আজ তার নামে জয়ধ্বনি ওঠে, গ্যালারি প্রকম্পিত হয় ‘লিটন, লিটন’ চিৎকারে।

গত বছরের শুরু থেকে অসাধারণ ধারাবাহিকতায় টেস্টে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বাংলাদেশের সেরা হিসেবে। বিশ্ব ক্রিকেটেই হয়ে উঠেছেন সেরাদের একজন। ওয়ানডেতেও তিনি এখন দলের বড় ভরসা, টি-টোয়েন্টিতে জায়গা পাকা করার পথে।

এই সুসময়ে উঠল সেই দুঃসময়ের প্রসঙ্গ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বললেন, সমালোচনা আর গায়ে মাখেন না তিনি।

“সমালোচনা হবেই। আমার যেহেতু জীবনটা ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে, ভালো খেললে আপনারা বাহবা দেবেন বা জনগন দেবে, খারাপ খেললে সেইম জিনিসটাই করবে (সমালোচনা)। কারণ তারা চায়, আমি পারফর্ম করি। এই ব্যাপারটা আমাকে আর নাড়া দেয় না।”

“আমি চেষ্টা করি, আমি কতখানি মনোযোগী অনুশীলনে, প্র্যাকটিস মেথডটা কী, আমার প্রক্রিয়াটা অনুসরণ করছি কিনা। প্রক্রিয়া অনুসরণ না করলে আমি নিজের কাছে অপরাধী যে, অনুসরণ করছি না। আমি স্রেফ আমার প্রক্রিয়া অনুসরণ করার চেষ্টা করি। ফলাফল ওপরওয়ালার হাতে।”

ক্যারিয়ার ও জীবনের নানা বাঁক থেকে অনেক কিছু শিখেছেন লিটন। সময়ের সঙ্গে তাই তার দৃষ্টিভঙ্গিও বদলেছে।

“চেষ্টা সবসময় করি। কিছু সময় ব্যর্থ হই, কিছু সময় সফল হই। এটাই ক্রিকেট, এভাবেই চলতে থাকবে। আজকে ভালো করেছি, কালকে আবার খারাপ হলে হতেও পারে। এটাই মানুষের জীবন, এটা নিয়েই চলতে থাকবে।

“মানসিকভাবে শক্ত থাকার ব্যাপারটা আসল, লোকে যখন ব্যর্থ হয়, তখনই আস্তে আস্তে মাথার মধ্যে চলে আসে। উন্নতি সেখান থেকেই হয়। ব্যর্থ না হলে কখনও বুঝবেন না আপনার মানসিকতা কোন দিকে যাচ্ছে।”

একটা সময় যখন মাঠের পারফরম্যান্স ভালো ছিল না, তার পরিসংখ্যানও ছিল নাজুক। সেদিকে তাকিয়ে হাহাকার নিশ্চয়ই জাগত মনে। এখন সংখ্যাগুলো স্বাক্ষ্য দেয় তার সামর্থ্য আর ধারাবাহিকতার। লিটন তাই আর সেদিকে তাকানোর প্রয়োজনই মনে করেন না।

“যখন দেখতাম (পরিসংখ্যান), তখন দেখতাম যে খুব ব্যাকফুটে আমি। ওখান থেকে একটা চ্যালেঞ্জ ছিল যে কীভাবে সামনের দিকে এগোনো যায়। এখন আর দেখি না, কারণ এখন ধারাবাহিকভাবে সামনে এগোনোরই চিন্তাধারা, সামনে কতদূর যেতে পারব, এসবই থাকে ভাবনায়।”