নিজের ভূমিকা বুঝতে পারছে ইবাদত: ডোনাল্ড

গতি দিয়ে কাঁপিয়ে দিতে হবে প্রতিপক্ষের টপ অর্ডারকে। আগ্রাসী বোলিংয়ে বেঁধে দিতে হবে সুর। ইনিংসের যে পর্যায়েই বল হাতে পাবে, রাখতে হবে নিজের ছাপ। অ‍্যালান ডোনাল্ড ঠিক এই ভূমিকায় দেখতে চান ইবাদত হোসেনকে। বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ মনে করেন, টেস্ট দলে নিজের ভূমিকাটা জানেন ইবাদত।

চেষ্টার কমতি ছিল না গতিময় এই পেসারের। আগের দিন নিয়েছিলেন একটি উইকেট। বুধবার দ্বিতীয় বলেই দলকে এনে দেন সাফল‍্য। নিজেকে উজাড় করে দিয়ে বোলিং করে গেছেন এরপরও।

সব মিলিয়ে ২৬ ওভারে ৭৮ রান দিয়ে নিয়েছেন দুই উইকেট। তৃতীয় দিনের খেলা শেষে দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে ডোনাল্ড বলেন, ইবাদতের দারুণ বোলিংয়ের ছাপ নেই স্কোর বোর্ডে।

“আজ ইবাদত ছিল দুর্দান্ত। কখনও কখনও কাউকে ওয়ার্মআপ করতে দেখলেই মনে হয়, দিনটি আজ তার হতে যাচ্ছে। আজ ও চার বা পাঁচ উইকেট পেতে পারত। ওর স্পেলগুলো তেমনই ছিল।”

“আমি চাই ইবাদত বল চেয়ে নিক। আমার মনে হয়, ইবাদত নিজের ভূমিকা বুঝতে শুরু করেছে। ফ্ল‍্যাট উইকেটে টেস্টে আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে বোলিং করতে হবে। তার গতি দিয়ে ইবাদত সেটা করতে সক্ষম।”

প্রথম দিন সকালে কাসুন রাজিথা ও আসিথা ফার্নান্দো নতুন বলে স্রেফ ৭ ওভারের মধ‍্যে বাংলাদেশের ইনিংসকে পরিণত করেছিলেন ধ্বংসস্তুপে। ইবাদতকে ঠিক এই ভূমিকায় দেখতে চান ডোনাল্ড।

“বোলিংয়ে ওপেন করা তরুণকে শ্রীলঙ্কা ব‍্যবহার করেছিল বাংলাদেশের টপ অর্ডার গুঁড়িয়ে দিতে। আমি ইবাদতকে এখন ঠিক সেই ভূমিকাতেই দেখি।”

খেলা চলার সময় সীমানা দড়ির পাশে দাঁড়িয়ে এই ধরনের কথাই ইবাদতকে বলেছিলেন ডোনাল্ড। 

“এই কারণেই তাকে আমি বলেছিলাম যেন চা-বিরতির পর সে নিজে থেকে বোলিং চেয়ে নেয়। লেংথ পরিবর্তন করে (বুক উচ্চতায়) বোলিং করতে বলেছিলাম। অ‍্যাঞ্জেলো ম‍্যাথিউস ডিপ স্কয়ার লেগে প্রায় ধরা পড়েই যাচ্ছিল।” 

“আমার মনে হয়, ইবাদত ফ্ল‍্যাট উইকেটে বল করার ব‍্যাপারটা বুঝতে পেরেছে। অ‍্যালান ডোনাল্ডের মতো চিন্তা করার চেষ্টা করছে। চার ওভারে নিজেকে উজার করে দাও, নিজের ফিল্ডিং নিজে সাজিয়ে নাও।”

মাশরাফি বিন মুর্তজার বাইরে বাংলাদেশের খুব কম পেসারই ফিল্ডিং নিজে সাজিয়ে নিতে পারেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ও চলতি সিরিজেও ডোনাল্ডকে কয়েকবার দেখা গেছে মাঠের বাইরে থেকেই ফিল্ডিং নিয়ে নির্দেশনা দিতে। তিনি চান, এই দায়িত্বটা পেসাররা নিজেরাই বুঝে নিক।