রাহুলদের বিদায় করে টিকে রইলেন কোহলিরা

ফাফ দু প্লেসি, বিরাট কোহলি, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, বাঁচা-মরার ম্যাচে তিন বড় তারকাই হলেন ব্যর্থ। যার নামের পাশে নেই কোনো তারকা দ্যুতি, সেই রজত পাতিদার ছড়ালেন আলো। বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালোরকে বড় পুঁজি এনে দিলেন তিনি। লোকেশ রাহুল জবাব দিলেন দারুণ ইনিংস খেলে। কিন্তু পারলেন না দলকে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছে দিতে। তাদের বিদায় করে ফাইনালে যাওয়ার আশা বাঁচিয়ে রাখল বেঙ্গালোর।

আইপিএলের এলিমিনেটর ম্যাচে বুধবার লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে বেঙ্গালোরের জয় ১৪ রানে। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ২০৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় রাহুলের ৭৯ রানে লক্ষ্ণৌ করতে পারে ১৯৩।

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে বেঙ্গালোর শুক্রবার খেলবে রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে। প্রথম কোয়ালিফায়ারে রাজস্থানকে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে রোববারের ফাইনালে উঠেছে গুজরাট টাইটান্স।

বেঙ্গালোরের জয়ের নায়ক পাতিদার ৫৪ বলে ১২ চার ও ৭ ছক্কায় খেলেন অপরাজিত ১১২ রানে বিস্ফোরক ইনিংস। ভাগ্যের ছোঁয়াও পান তিনি। ফিফটির পর জীবন পান দুই দফা। ২০ ওভারের ক্রিকেটে ২৮ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান তার প্রথম সেঞ্চুরিটি করেন ৪৯ বলে।

বৃষ্টির কারণে দেরিতে শুরু হওয়া ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ওভারেই অধিনায়ক দু প্লেসিকে হারায় বেঙ্গালোর। গোল্ডেন ডাক এর তেতো স্বাদ পান দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান।

প্রাথমিক পর্বের শেষ ম্যাচে রান তাড়ায় ৫৪ বলে ৭৩ রানের ম্যাচ জয়ী ইনিংস খেলে ছন্দে ফেরার আভাস দিয়েছিলেন কোহলি। এবার নবম ওভার পর্যন্ত উইকেটে থেকে ২৪ বলে ২৫ রান করে বিদায় নেন সাবেক ভারত অধিনায়ক। টিকতে পারেননি ম্যাক্সওয়েল (১০ বলে ৯)।

এক প্রান্তে সতীর্থদের বিদায়ের মাঝেই আপন দ্যুতিতে এগিয়ে যান পাতিদার। যদিও প্রথম ১৩ বলে তার রান ছিল ১৪। পরের চার বলে তুলে ফেলেন ১৮ রান; ক্রুনাল পান্ডিয়ার টানা চার বলে মারেন তিনটি চার ও একটি ছক্কা। ২৮ বলে পূর্ণ করেন ফিফটি।

ষোড়শ ওভারে ঝড় বয়ে যায় রবি বিষ্ণইয়ের ওপর দিয়ে। এই লেগ স্পিনারের টানা পাঁচ বলে তিনটি ছক্কার সঙ্গে দুটি চার মারেন পাতিদার।

বিস্ফোরক ইনিংসে বেঙ্গালোরকে বড় পুঁজি এনে দেন রজত পাতিদার। ছবি: আইপিএল 

অথচ ওই ওভারে একটি ছক্কার পরই আউট হতে পারতেন তিনি। কিন্তু সহজ ক্যাচ ফেলেন দিপক হুডা।

তখন পাতিদারের রান ছিল ৭২। ৯৩ রানে আরেক দফা তার ক্যাচ নিতে পারেননি মানান ভোহরা। মহসিন খানের সেই বলে ডাবল নেওয়ার পরই ছক্কা হাঁকিয়ে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ছাড়িয়ে যান টি-টোয়েন্টিতে তার আগের সর্বোচ্চ ৯৬ রান।

শেষের আগের ওভারে তিনি পরপর ছক্কা-চার মারেন শ্রীলঙ্কান পেসার দুশমন্থ চামিরাকে। শেষ ওভারে অবশ্য একটির বেশি বল খেলার সুযোগ পাননি।

২৩ বলে ৫ চার ও এক ছক্কায় অপরাজিত ৩৭ রান করেন দিনেশ কার্তিক। পাতিদারের সঙ্গে তার অবিচ্ছিন্ন পঞ্চম উইকেট জুটিতে ৯২ রান আসে স্রেফ ৪১ বলে।

বেঙ্গালোর শেষ পাঁচ ওভারে তোলে ৮৪ রান!

বড় লক্ষ্য তাড়ায় প্রথম ওভারেই বিদায় নেন কুইন্টন ডি কক। তিনে নেমে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ভোহরা। তৃতীয় উইকেটে হুডার সঙ্গে ৬১ বলে ৯৬ রানের জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন রাহুল। লক্ষ্ণৌ অধিনায়ক ৪৩ বলে করেন ফিফটি।

ভানিন্দু হাসারাঙ্গার তিন বলের মধ্যে দুটি ছক্কা হাঁকানোর পরই হুডা বোল্ড হয়ে যান ২৬ বলে ৪৫ রান করে।

শেষ পাঁচ ওভারে তাদের দরকার ছিল ৬৫ রান, শেষ দুই ওভারে ৩৩। মাঝে মার্কাস স্টয়নিস একটি ছক্কা মেরে বিদায় নিলেও রাহুল তখনও ব্যাটিংয়ে ৫৫ বলে ৭৮ রান নিয়ে। কিন্তু ১৯তম ওভারে জশ হেইজেলউডের পরপর দুই বলে রাহুল ও ক্রুনাল পান্ডিয়ার বিদায়ে লক্ষ্ণৌর আশাও শেষ হয়ে যায়।

বিফলে যায় রাহুলের ৫৮ বলে ৫ ছক্কা ও ৩ চারে গড়া ৭৯ রানের ইনিংস।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালোর: ২০ ওভারে ২০৭/৪ (কোহলি ২৫, দু প্লেসি ০, পাতিদার ১১২*, ম্যাক্সওয়েল ৯, লমরোর ১৪, কার্তিক ২৭*; মহসিন ৪-০-২৫-১, চামিরা ৪-০-৫৪-০, ক্রুনাল পান্ডিয়া ৪-০-৩৯-১, আভেশ ৪-০-৪৪-১, বিষ্ণই ৪-০-৪৫-১)

লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টস: ২০ ওভারে ১৯৩/৬ (ডি কক ৬, রাহুল ৭৯, ভোহরা ১৯, হুডা ৪৫, স্টয়নিস ৯, লুইস ২*, ক্রুনাল পান্ডিয়া ০, চামিরা ১১*; সিরাজ ৪-০-৪১-১, হেইজেলউড ৪-০-৩৪-৩, শাহবাজ ৪-০-৩৫-০, হাসারাঙ্গা ৪-০-৪২-১, হার্শাল ৪-০-২৫-১)  

ফল: রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালোর ১৪ রানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: রজত পাতিদার