২০ রানেই শেষ মিরপুর প্রমীলা, আবাহনী জিতল ২৫ বলে

আগের তিন ম্যাচে পার করতে পারেনি পঞ্চাশের ঘর। মিরপুর প্রমীলা ক্রিকেট ক্লাব এবার ছাড়িয়ে গেল বাজে খেলার সেই মাত্রাও। শানু আক্তারের দুর্দান্ত বোলিংয়ে স্রেফ ২০ রানে গুটিয়ে গেল তারা! কোনো উইকেট না হারিয়েই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলল আবাহনী।

মেয়েদের ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে রোববার ১০ উইকেটে জিতেছে আবাহনী লিমিটেড। প্রতিপক্ষের ২১ রানের লক্ষ্যে তারা পৌঁছে যায় ২৫ বলেই।

মিরপুর প্রমীলা দলকে এতো অল্পতে গুঁড়িয়ে কারিগর শানু বাঁহাতি স্পিনে স্রেফ ৬ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করেন। ম্যাচ সেরার পুরস্কার ওঠে তারই হাতে।

বিকেএসপির এক নম্বর মাঠে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা মিরপুর প্রমীলা দলের প্রথম পাঁচ ব্যাটারের চারজনই খুলতে পারেননি রানের খাতা। প্রথম ৭ উইকেটের পাঁচটিই নেন শানু। অল্পের জন্য হয়নি তার হ্যাটট্রিক, ধরেন চার বলের মধ্যে তিন শিকার।

মিরপুর প্রমীলা দলের হয়ে কেউই যেতে পারেননি দুই অঙ্কে। সর্বোচ্চ ৭ রান আসে অতিরিক্ত থেকে। তাদের ইনিংস শেষ হয়ে যায় ১৯.৪ ওভারেই। মোট পাঁচ জন আউট হন শূন্য রানে। কোনো রান না করেই অপরাজিত থেকে যান ফাতেমা তুজ জোহরা।

আবাহনীর হয়ে ৪ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন পেসার জাহানারা আলম। একটি নেন লেগ স্পিনার ফাহিমা খাতুনের।   

রান তাড়ায় ইশমা তানজিম ও সুশমা দেবির উদ্বোধনী জুটিতে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় আবাহনী।

এক চারে ৮ রান করেন ইশমা। ১১ রান করা সুশমাও মারেন একটি চার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

মিরপুর প্রমীলা ক্রিকেট ক্লাব: ১৯.৪ ওভারে ২০ (পপি ০, প্রমা ২, পাপিয়া ০, সাদিয়া ০, মৌসুমি ০, জনি ১, মাসুমা ৪, শারমিন ৫, ইয়াসমিন ১, শেজদা ০, ফাতেমা ০*; জাহানারা ৩-১-৪-২, শানু ৬.৪-৩-৬-৫, ফেরদৌসি ৪-৪-০-০, লাবনি ৩-১-৪-০, ফাহিমা ৩-১-৪-১)

আবাহনী লিমিটেড: ৪.১ ওভারে ২১/০ (ইশমা ৮*, সুশমা ১১*; পাপিয়া ১-০-১-০, ইয়াসমিন ২-০-১৩-০, শারমিন ১-০-৫-০, শেজদা ০.১-০-২-০)

ফল: আবাহনী লিমিটেড ১০ উইকেটে জয়ী

প্লেয়ার অব দা ম্যাচ: শানু

মোহামেডান-বিকেএসপি

অলরাউন্ড পারফরম্যান্স উপহার দিলেন রুমানা আহমেদ। ব্যাট হাতে টানা দ্বিতীয় ফিফটি করলেন জেসিয়া আক্তার। তাতে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিপক্ষে সহজ জয় তুলে নিল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব।

বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে মোহামেডানের জয় ৭ উইকেটে। প্রতিপক্ষের ১৭৯ রানের লক্ষ্য তারা ছুঁয়ে ফেলে ৭১ বল বাকি থাকতে।

বোলিংয়ে দুই উইকেট নেওয়া রুমানা পরে ব্যাট হাতে ৫ চারে ৩১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচ সেরা হয়েছেন রুমানা আহমেদ। ছবি: বিসিবি।

আগের ম্যাচে বাংলাদেশ আনসার অ্যান্ড ভিডিপির বিপক্ষে ঝড়ো ফিফটি করেছিলেন জেসিয়া। এবারও আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে তিনি করেন ৫৭ রান। তার ৪৯ বলের ইনিংসটি গড়া ৩ ছক্কা ও ৫ চারে।

রান তাড়ায় শামীমা সুলতানা ও শারমিন সুপ্তা খেলতে পারেননি বড় ইনিংস। শায়লা শারমিনকে নিয়ে ৫১ রানের জুটি গড়েন জেসিয়া। ৫১ বলে ফিফটি করা এই ব্যাটারের বিদায়ের পর দলকে আর বিপদে পড়তে দেননি রুমানা ও শায়লা।

তাদের অবিচ্ছিন্ন ৬৩ রানের জুটিতে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় মোহামেডান। ৬ চারে ৪৮ রান করেন শায়লা।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে বিকেএসপি। ৭২ রানে ৬ উইকেট হারানো দলের এক প্রান্ত ধরে রাখেন সুমাইয়া আক্তার। সপ্তম উইকেটে মারুফা আক্তারের সঙ্গে গড়েন ৬১ রানে জুটি।

দুটি করে ছক্কা-চার হাঁকানো মারুফা ৩৪ রান করে বিদায় নেওয়ার পর লড়াই চালিয়ে যান সুমাইয়া। ৯২ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন তিনি। এরপর নবম উইকেটে দিপা খাতুনকে নিয়ে গড়েন ৪২ রানের জুটি।

শেষ পর্যন্ত ৬৯ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন সুমাইয়া। ১০২ বলের ইনিংসে মারেন এক ছক্কা ও ৩ চার।

রুমানা ছাড়াও মোহামেডানের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন তাজিয়া আক্তার ও সোহেলি আক্তার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: ৫০ ওভারে ১৭৯ (ফাহমিদা ৮, ইভা ২০, উন্নতি ০, সুমাইয়া ৬৯*, ইশা ০, রাবেয়া ৫, দিশা ৯, মারুফা ৩৪, অর্থি ১, দিপা ১৬, নিশিতা ১; জেসিয়া ৫-০-১৫-০, সালমা ১০-০-৩১-০, তাজিয়া ৯-০-৩৯-২, রুমানা ১০-১-২৯-২, সোহেলি ১০-২-৩৩-২, শায়লা ৪-০-১৮-০, জেসি ২-০-১১-০)

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব: ৩৮.১ ওভারে ১৮১/৩ (শামীমা ১৮, শারমিন ২০, জেসিয়া ৫৭, শায়লা ৪৮*, রুমানা ৩১*; মারুফা ৯.১-০-৩৬-০, নিশিতা ৫-১-২৮-০, দিশা ৩-০-১৮-০, ফাহমিদা ৫-০-২৬-১, রাবেয়া ৯-১-৪৮-০, দিপা ৫-১-১৪-১, ইভা ১-০-৬-০, অর্থি ১-০-২-১)

ফল: মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ৭ উইকেটে জয়ী

প্লেয়ার অব দা ম্যাচ: রুমানা আহমেদ

ইন্দিরা রোড-গুলশান ইয়ুথ

লক্ষ্যটা নাগালেই রাখলেন বোলাররা। পরে রান তাড়ায় ব্যাটারদের মিলিত চেষ্টায় ইন্দিরা রোড ক্রীড়া চক্রকে হারিয়ে দিল গুলশান ইয়ুথ।

বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে ২ উইকেটে জিতেছে গুলশান ইয়ুথ। প্রতিপক্ষের ১২৯ রান ছাড়িয়ে যায় তারা ১২ বল আগেই।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে সব ওভারই খেলে ইন্দিরা রোড। কিন্তু বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে পারেনি তারা।

দলটির হয়ে স্রেফ তিন ব্যাটসম্যান যেতে পারেন দুই অঙ্কে। সর্বোচ্চ ৪৪ রানের ইনিংস খেলেন নুসরাত জাহান। তার ১০১ বলের ইনিংসে চার চারটি।

২ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা মোরশেদা খাতুন সোমা। ছবি: বিসিবি।

গুলশান ইয়ুথের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন খাদিজা তুল কুবরা ও মোরশেদা খাতুন সোমা।

জবাব দিতে নেমে শুরুটা ভালোই হয় গুলশান ইয়ুথের। পরে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়লেও শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে দলটি।

তাদের হয়ে ২ চারে সর্বোচ্চ ২৭ রান করেন সুমাইয়া আইরিন আইভি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ রান নিয়ে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন রিমি আক্তার পায়েল।

ইন্দিরা রোডের হয়ে ১৯ রান দিয়ে সর্বোচ্চ তিনটি শিকার ধরেন নুসরাত জাহান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ইন্দিরা রোড ক্রীড়া চক্র: ৫০ ওভারে ১২৯/৯ (হালিমাতুল সাদিয়া ৩২, নিপু ০, জামিলা ১৬, নুসরাত ৪৪*, সুমাইয়া ২, শিরিন ০, সাজ্জাদ ১, মাইশা ৪, জান্নাতুল ০, সাদিয়া ৩, পারভিন ৪*; শিখা ১০-৩-২১-১, আনিশা ১০-২-২১-১, খাদিজা ১০-২-২৫-২, মোরশেদা ১০-৫-১৮-২, বৃষ্টি ৯-২-৩২-১, মুন্নি ১-০-৭-০)

গুলশান ইয়ুথ ক্লাব:  (পারভিন ৬, আইভি ২৭, নুজহাত ১৬, রিয়া ২, খাদিজা ৪, পায়েল ১৮*, মিশু ৮, মোরশেদা ৪, বৃষ্টি ৪, আনিশা ৩*; সাদিয়া ৯.৫-০-৩১-১, পারভিন ১০-৩-২৩-০, হালিমাতুল সাদিয়া ১০-১-২৯-১, মাইশা ৬.১-০-১৯-১, নুসরাত ১০-১-১৯-৩, শিরিন ২-০-৮-০)

ফল: গুলশান ইয়ুথ ক্লাব ২ উইকেটে জয়ী

প্লেয়ার অব দা ম্যাচ: মোরশেদা খাতুন সোমা