চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ দিবসে বিপ্লবীদের স্মরণ

চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ দিবসের ৯১তম বার্ষিকীতে বিপ্লবীদের স্মরণ করেছে চট্টগ্রামের কয়েকটি সংগঠন।

পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে বিপ্লবীদের প্রতি সম্মান জানানো ও ইতিহাস সংরক্ষণে উদ্যোগ গ্রহণের দাবিও জানানো হয়েছে।

রোববার নগরী জে এম সেন হল প্রাঙ্গনে চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের সর্বাধিনায়ক মাস্টারদা সূর্য সেনের আবক্ষ ভাস্কর্যে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদার স্মৃতি পরিষদ।

এসময় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী সিঞ্চন ভৌমিক বলেন, ১৯৩০ সালে ১৮ শে এপ্রিল বীর চট্টলার সূয সন্তান মাস্টারদা সুর্য সেন এর নেতৃত্বে সংঘঠিত হয়েছিলো চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ।

“তারই ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতার স্বপ্নে ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৬’র ছয় দফা, ৬৯’র গণ অভ্যুত্থান এবং ৭১ এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানে নেতৃত্বে স্বাধীনতা সংগ্রাম হয়েছিল। আজ আমরা স্বাধীন ও সার্বভৌম জাতি হিসেবে গর্বের সাথে পার করছি স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তী, কিন্তু পরিতাপের বিষয় স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তীতে বিপ্লবীদের সম্মান ও ইতিহাস রক্ষার কোন কর্মসৃচি সংযুক্ত করা হয়নি “

সিঞ্চন ভৌমিক বলেন, “আমরা মনে করি বিপ্লবীদের সম্মান ও ইতিহাস রক্ষার কোন কর্মসূচি না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। এভাবে সোনালী অতীত বিস্মৃত থাকা দায়িত্বশীলতার পরিচয় নয়। বিপ্লবীদের স্মৃতি রক্ষায় পরিকল্পনা গ্রহণ করতে সরকারে প্রতি আকুল আবেদন জানাই।”

পরিষদের অর্থ সম্পাদক তপন ভট্টাচার্য্য বলেন, “যারা আমাদের এই পবিত্র স্বাধীন জম্মভৃমি সৃষ্টিতে অবদান রেখেছেন তাদের প্রতি আমাদের দ্বায়বদ্ধতা আছে। মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে যুব বিদ্রোহের পর বিশ্ব জেনেছিল এই বীর চট্টগ্রামের যুবকদের সাহসিকতার কথা। 

“অথচ স্বাধীন দেশে পাঁচ দশকেও বিপ্লবীদের বাড়ি-ঘর, স্মৃতি স্মারক ও বিপ্লবের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষার কোনো উদ্যোগ নেয়া হলো না। সরকারিভাবে অবশ্যই এগুলো সংরক্ষণ করতে হবে।”

এসময় উপস্থিত ছিলেন পরিষদের সদস্য প্রদীপ নন্দী, বিশাখা দাস, শ্রীকান্ত বিশ্বাস, সজল শিকদার প্রমুখ।

এসময় প্রাঙ্গনে থাকা উপমহাদেশ খ্যাত রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী যাত্রামোহন সেনগুপ্ত, রাজনীতিবিদ যতীন্দ্র মোহন সেনগুপ্ত, নেলী সেনগুপ্তা ও মহিম চন্দ্র দাশের আবক্ষ মূর্তিতে পুষ্পামাল্য প্রদান করা হয়।

চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ দিবস স্মরণে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলা ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলার পক্ষ থেকে মাস্টারদা সূর্যসেনের আবক্ষ ভাষ্কর্যে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করা হয়।

পরে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

এসময় যুব ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি রিপায়ন বড়ুয়ার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সহসভাপতি শ্যামল লোধ, সহকারী সাধারণ সম্পাদক জাবেদ চৌধুরী, রুপন কান্তি ধর,  সাংগঠনিক সম্পাদক রাশিদুল সামির, টুটন দাশ, বিপ্লব দাশ, জুয়েল বড়ুয়া, মিঠুন বিশ্বাস, রবি শংকর সেন প্রমুখ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি এ্যানি সেন, স্কুল ছাত্র বিষয় সম্পাদম অয়ন সেনগুপ্ত, সদস্য এস এম নাবিল, কোতোয়ালী থানার সহ সভাপতি রক্তিম দে, আন্দরকিল্লা আঞ্চলিক শাখার যুগ্ন আহবায়ক নিলয় সেন, চুয়েট ছাত্র ইউনিয়ন নেতা চিরঞ্জিত দাশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়ন নেত্রী আইরিন আক্তার মিম প্রমুখ।

১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ হয়।

নগরীর দামপাড়া এলাকায় তৎকালীন পুলিশ ব্যারাকের অস্ত্রাগার দখল করে নেন বিপ্লবীরা। সেখানেই অস্থায়ী বিপ্লবী সরকার গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

এরপর চারদিন স্বাধীন ছিল চট্টগ্রাম। পরে ২২ এপ্রিল জালালাবাদ পাহাড়ের যুদ্ধে ইংরেজ বাহিনীর সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। তিন ঘণ্টার সেই যুদ্ধে ৮২ জন ব্রিটিশ সৈন্য নিহত হয় এবং ১২ জন বিপ্লবী শহীদ হন।