বাবুল আক্তার এখন চিনতে পারছেন তার সোর্স মুছাকে, জানালেন তদন্ত কর্মকর্তা

চট্টগ্রামে মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার তার স্বামী সাবেক এসপি বাবুল আক্তার পাঁচ দিনের রিমান্ডে ‘বেশকিছু প্রশ্নের’ জবাব দিয়েছেন বলে জানিয়েছে মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন- পিবিআই।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, মিতু হত্যার আসামি কামরুল ইসলাম শিকদার মুছাকে অবশেষে নিজের ‘সোর্স’ হিসেবে স্বীকার করে নিয়েছেন বাবুল।

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় খুন হন চট্টগ্রামে বিভিন্ন জঙ্গিবিরোধী অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু।

স্ত্রী মিতুর সঙ্গে বাবুল আক্তার

ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ভিডিও দেখে ওই খুনে একাধিক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছিল পুলিশ। যাদের মধ্যে ছিলেন বাবুলের ‘সোর্স’ মুছাও। কিন্তু তখন তাকে ‘চিনতেই পারেননি’ বাবুল।

স্ত্রী হত্যার বিচার চেয়ে বাবুল আক্তার নিজে বাদী হয়ে যে মামলা করেছিলেন, তার তদন্ত করতে গিয়ে হত্যাকাণ্ডে তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার কথা জানায় পিবিআই। এরপর সেই মামরায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়। বাবুলের বিরুদ্ধে নতুন মামলা করেন তার শ্বশুর মোশাররফ হোসেন।

মিতু হত্যা রহস্যে আবার সেই প্রশ্ন, মুছা কোথায়?  

স্ত্রী হত্যার আসামি হয়ে রিমান্ডে বাবুল আক্তার  

কেন খুন হতে হল মিতুকে?  

গত ১২ মে ওই মামরায় বাবুলকে চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করা হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠান বিচারক।

তদন্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার জানান, পাঁচ দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সোমবারই বাবুলকে আদালতে তুলবেন তারা।

কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুছা

“জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বেশ কিছু প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন, আবার কিছু এড়িয়েও গেছেন। সবকিছু তদন্তের স্বার্থে বলা যাবে না।”

জিজ্ঞাসাবাদের সময় উপস্থিত ছিলেন, এমন একজন পিবিআই কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রথম কয়েকদিন বাবুল আক্তার মুখ খোলেননি। তিনি শুধু বলে গেছেন, সবকিছু যেহেতু আমরা জানি, সেহেতু তদন্ত করে বের করা হোক।”

মিতুর হত্যাকারীদের ‘কয়েক দফা টাকা দেন’ বাবুল আক্তার: পিবিআই  

মিতু হত্যা: বাদী বাবুল আক্তার যেভাবে আসামি  

মামলায় যে অভিযোগ দিলেন বাবুল আক্তারের শ্বশুর  

পাঁচলাইশ থানায় মোশাররফ হোসেনের করা নতুন মামলায় বাবুলের পাশাপাশি মুছাকেও আসামি করা হয়েছে। তাকে পাঁচ বছর আগে পুলিশ ‘তুলে নিয়ে যায়’ বলে দাবি করে আসছেন মুছার স্ত্রী পান্না আক্তার। তবে পুলিশের দাবি, তারা মুছাকে ‘খুঁজছে’।