চট্টগ্রামে সাগর তীরের কাছে হবে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ

চট্টগ্রামের কাট্টলীতে সাগর তীরের অদূরে ৩০ একর জমিতে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘর করবে সরকার।

শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস প্রস্তাবিত এলাকা পরিদর্শনে এসে স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘর নির্মাণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মতি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে। এই চট্টগ্রাম থেকেই এম এ হান্নান স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন৷ এম এ আজিজ, জহুর আহমদ চৌধুরীসহ অনেক বড় নেতা চট্টগ্রামের। তাই প্রধানমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্ব দেন চট্টগ্রামকে।

“দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী চট্টগ্রামে স্মৃতিসৌধ নেই, তবে আশার কথা হচ্ছে সরকার এটি নির্মাণ করবে। কাট্টলী এলাকায় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘর নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেছি, খুবই চমৎকার জায়গা।”

জানতে চাইলে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী বলে দিয়েছেন কাট্টলীর প্রস্তাবিত স্থানে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘর হবে।

“সেখানে প্রায় ৩০ একর জমি সরকারি জায়গা রয়েছে। আগে ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থাপনা করে দখলে ছিল। আমরা উদ্ধার করেছি। এখন স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘরের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব আমরা পাঠাব। তারপর ডিপিপি হবে। এটা অনেক বড় বাজেটের প্রকল্প হবে। আশাকরি তিন বছরের মধ্যে কাজ শেষ হবে।”

গত বছরের ডিসেম্বরে নগরীর উত্তর কাট্টলীতে দুটি ইটভাটার দখলে থাকা সরকারি এই খাস জমি উদ্ধার করে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব পরিদর্শনে গেলে কাট্টলীর এলাকাবাসীর পক্ষে সাইফুদ্দিন সাকী স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘরের প্রকল্প নেওয়ায় স্থানীয়দের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে কাট্টলীর গৌরবের ইতিহাস আছে।

সাইফুদ্দিন সাকী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “১৯৭১ সালে কাট্টলী খাল দিয়ে অস্ত্র আনা হত। পরে তা নগরীতে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে সরবরাহ করা হত। এটা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত এলাকা।

“প্রস্তাবিত স্থানের দক্ষিণে এক দফার প্রবক্তা এম এ আজিজের বাড়ি, উত্তরে সলিমপুর ওয়ারলেস টাওয়ার যেখান থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করা হয়, পূর্বে জহুর আহমদ চৌধুরীর বাড়ি। পাশে সাগর তীরের নয়নাভিরাম পরিবেশ।“

মুখ্য সচিবের পরিদর্শনকালে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর রাণা দাশগুপ্ত, কবি-সাংবাদিক আবুল মোমেন, বিভাগীয় কমিশনার কামরুল হাসান, মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর আহমদ, ডেপুটি কমান্ডার শহীদুল হক চৌধুরী, সহকারী কমান্ডার জাকির হোসেন মিজানসহ বীর মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে আহমদ কায়কাউস নগরীর শহীদ মিনার এলাকায় সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সের চলমান নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে গিয়ে বলেন, “এখানে যে এমন সাংস্কৃতিক বলয় তৈরি হচ্ছে তা দেখে আমি চট্টগ্রামের সন্তান হিসেবে গর্বিত।”

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “শহীদ মিনার কোথাও সরিয়ে নেয়া হচ্ছে না। শুধু সংস্কার করা হবে। এটি এখানেই স্থায়ীভাবে থাকছে। যে নকশায় এই প্রকল্পে নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে তারই ধারাবাহিকতায় শহীদ মিনারও উন্নয়ন করা হবে। আমরা শহীদ মিনারটি ভালভাবে সংরক্ষণ করার জন্য কাজ করছি।”

পরে জেলা প্রশাসক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শহীদ মিনার প্রকল্পে যেভাবে আছে সেরকমভাবে হবে। এখন যেখানে আছে, সেখানেই পুন:নির্মাণ করা হবে।”

সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজের জন্য বর্তমান শহীদ মিনারটি সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে প্রকল্পে। পরে আগের স্থানেই একই মডেলে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে। এ নিয়ে চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক মহল থেকে আপত্তি উঠেছিল।

শুক্রবার সকালে প্রস্তাবিত বে টার্মিনাল প্রকল্প এলাকাও পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব।