সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

চট্টগ্রামের জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপসহ সারাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে সনাতনী বিভিন্ন সংগঠন।

রোববার বিকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরের সামনে থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের উদোগে প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়।

এর আগে পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তারা বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সাম্প্রদায়িক কোনো হামলার বিচার আলোর হয়নি। এবারের দুর্গাপূজায় দেশব্যাপী ঘটা সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার করতে হবে।

বিকেলে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটি আয়োজিত প্রতিবাদ মিছিলে রামকৃষ্ণ মিশন, সৎসঙ্গ আশ্রম, কৈবল্যধাম, তুলসী ধাম, গীতা সংঘ পূজা উদযাপন পরিষদসহ নগর এবং নগরের বাইরের বিভিন্ন সনাতনী মঠ মন্দির, সংঘ, যুব সংগঠনের কর্মীরা অংশ নেন।

চট্টগ্রাম ইসকন বিভাগীয় সম্পাদক শ্রীপাদ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ পালিত, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক চন্দন তালুকদার, ইসকন প্রবর্তকের অধ্যক্ষ লীলারাজ গৌরদাস ব্রহ্মচারী, মহানগর পূজা কমিটির সভাপতি আশীষ ভট্টাচার্য, বাগীশিকের প্রধান উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তপন কান্তি দাশ প্রমুখ।

সমাবেশে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস বলেন, নোয়াখালী হলো আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এলাকা। আরও অনেক বড় বড় নেতা রয়েছেন সেখানে। কিন্তু সেখানে মানবতা বিপন্ন হলো। ছাত্রলীগ যুবলীগ আওয়ামী লীগ ও প্রশাসন যদি সহযোগিতা করে পাশে দাঁড়াত তাহলে সেখানে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা হতো না।

তিনি বলেন, জে এম সেন হলসহ সারাদেশের মণ্ডপগুলোতে হামলাকারী যারা গ্রেপ্তার হয়েছে তারা যখন দোষী সাব্যস্ত হবে তখন খুশি হবো।দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে তাদের বিচারের দাবি জানাই।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, এটা সরকার পতনের আন্দোলন নয়।এটা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার আন্দোলন। এখন সময় এসেছে রুখে দাঁড়ানোর। সব ধর্মীয় সংগঠন ভেদাভেদ ভুলে এক হয়ে হামলাকারীদের প্রতিরোধ করতে হবে।

গণমাধ্যমে সঠিকভাবে সাম্প্রদায়িক সব ঘটনার খবর না আসার সমালোচনা করেন বক্তারা।

সমাবেশ অনুষ্ঠিত মিছিলে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ মিছিলে স্বতস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।এতে প্রতীকী লাশও বহন করা হয়।

এদিকে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বিভিন্ন মঠ-মন্দির ও পূজামণ্ডপগুলেতে হামলার ঘটনায় সোমবার থেকে চারদিনের প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগর শাখা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পরিষদের সভাপতি আশীষ ভট্টচার্য জানান, সোমবার বিকালে মানববন্ধন, মঙ্গলবার প্রতীক অনশন, বুধবার বিকেলে সমাবেশ এবং বৃহস্পতিবার মোমবাতি প্রজ্জ্বালনের মধ্য দিয়ে প্রতিবাদ জানানো হবে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে  এ সময় হামলাকারীদের দ্রুত বিচার আইনে বিচার করের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ ছয়দফা দাবি জানানো হয়।

এসময় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক  হিল্লোল সেন উপস্থিত ছিলেন।