নিবন্ধের জন্য সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

একটি নিবন্ধের জন্য অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলার আবেদন হয়েছে চট্টগ্রামের আদালতে।

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

তার ওই নিবন্ধ যে সঙ্কলন গ্রন্থে প্রকাশিত হয়েছে, তার সম্পাদক নেছার আহমদকে এবং সাংবাদিক রাশেদ রউফকে আসামি করার আবেদন হয়েছে।

ওই লেখায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘অসম্মান করা হয়েছে’ অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন নাজিম উদ্দিন সুজন নামে এক ব্যক্তি।

সুজন নিজেকে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন।

তার অভিযোগ গ্রহণ করার বিষয়ে শুনানির জন্য মহানগর হাকিম হোসেন মো. রেজা আগামী ২৫ অক্টোবর দিন রেখেছেন।

মামলায় ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে নেছার আহমেদকে, ২ নম্বর আসামি রাশেদ রউফ এবং আসামির তালিকায় তিন নম্বরে রাখা হয়েছে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর নাম।

মুজিব জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর লেখা ‘শেখ মুজিবের গোপন শত্রু’ শিরোনামে লেখা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন সুজন।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বইয়ের ১৯ পৃষ্ঠার ৫ নম্বর অনুচ্ছেদে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অসম্মান করে লেখা হয়েছে। এতে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী লিখেছেন ‘বলা হয়ে থাকে যে, একাত্তরের আগের শেখ মুজিব আর পরের শেখ মুজিব এক নন। বড়ই সত্য কথা’।

“ওই লেখার ১৯ পৃষ্ঠায় আরও উল্লেখ রয়েছে, ‘নৈতিক পতনেই তার (বঙ্গবন্ধু) দৈহিক পতন ডেকে আনে’।।

সুজন বলেন, “লেখার এসব লাইন দৃষ্টিকটূ, অবমাননাকর এবং পিতার প্রতি মানহানিকর বক্তব্য। উক্ত লাইন দুটোতে বঙ্গবন্ধু বা জাতির পিতা কিছুই উল্লেখ না থাকায় সম্পাদক চট্টগ্রামের শ্রদ্ধাঞ্জলির নামে চট্টগ্রামের মানুষকে ছোট করে জাতির পিতাকে হেয় প্রতিপন্ন করার অভিপ্রায়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ লেখাটি সংযোজন করেছেন।”

নেছার আহমদের সম্পাদনায় ‘জাতির পিতা জন্মশতবর্ষে চট্টগ্রামের শ্রদ্ধাঞ্জলি’ শীর্ষক গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় গত বছরের ১৭ মার্চ। এটির প্রকাশনা উপদেষ্টা ছিলেন কবি-সাংবাদিক রাশেদ রউফ।

পুঁজিবাদী উন্নয়নে বিরূপ প্রকৃতি, তার পরিণতি মহামারী: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

যা ভাবি তাই শতভাগ সঠিক-এই ভাবনা থেকে বেরোতে হবে: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

এদিকে দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীসহ তিনজনের ‍বিরুদ্ধে মামলার উদ্যোগের নিন্দা জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।

জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক বজলুর রশিদ ফিরোজ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, তিন লেখকের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়ায় মুক্তবুদ্ধি, চিন্তা ও বাক স্বাধীনতার ‘নগ্ন হস্তক্ষেপের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, বিপ্লবী ওর্য়াকার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির মোশরেফা মিশু, ওয়ার্কার্স পার্টির (মার্কসবাদী) ইকবাল কবির জাহিদ, বাসদ মার্কসবাদীর ফখরুদ্দিন কবির আতিক, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের হামিদুল হক নিন্দা জানিয়ে এই বিবৃতি দেন।