চবির ভর্তি পরীক্ষা শুরু

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়ার পর শাটল ট্রেনে চেপে ফেরে শহরে। ফলে ট্রেনে ছিল ভিড়। ছবি: সুমন বাবু
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। 

ভর্তি পরীক্ষায় অশোভন আচরণ করায় মেহেদি হাসান নামের এক ভর্তিচ্ছুকে পরীক্ষায় বসতে দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

করোনাভাইরাস মহামারী পরিস্থিতি বিবেচনায় তিন শিফটে বিভক্ত এ পরীক্ষা বুধবার সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত প্রথম শিফট এবং বেলা ৩টা ৩০টা থেকে ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত দ্বিতীয় শিফটে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া।

এক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা দিতে না দেওয়ার বিষয়ে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পরীক্ষার প্রশ্ন বিতরণে বিলম্ব হওয়ায় অভিযোগে ওই শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষের দেওয়ালে ‘পরীক্ষা কমিটির বহিষ্কার চাই’ লেখেন। পরীক্ষার নির্দেশিকা না জেনেই সে এমন অশোভন আচরণ করেছে। অথচ আমরা আগেই জানিয়ে দিয়েছিলাম পরীক্ষার ওএমআর শিট ও প্রশ্ন কখন দেওয়া হবে।"

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত তৃতীয় শিফট পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে প্রক্টর জানান। 

তিনি বলেন, একজন ভর্তিচ্ছুকে ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্রে ৯.৪৫ মিনিটের মধ্যে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। পরীক্ষার্থীদের বেলা ১১টায় প্রশ্নপত্র দেওয়া হবে।

এবার চারটি ইউনিট ও দুটি উপ-ইউনিটের আওতায় বিভিন্ন বিভাগে প্রথম বর্ষে ৪ হাজার ৯২৬ জনকে ভর্তি করা হবে। এর বিপরীতে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৬১ জন প্রার্থী অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করেছে।

এ বছর ভর্তির জন্য গত বারের চেয়ে প্রায় ১৮ হাজার বেশি আবেদন জমা পড়েছে। গত বছর ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৭০টি আবেদন জমা পড়েছিল।

ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সচিব এস এম আকবর হোছাইন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবার গত বছরের চেয়ে বেশি শিক্ষার্থী পাস করার আবেদনের সংখ্যা বেড়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বুধবার সকালে ভর্তি পরীক্ষায় অংগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা। ছবি: সুমন বাবু

সূচি অনুযায়ী ২৭ ও ২৮ অক্টোবর কলা ও মানববিদ্যা অনুষদভুক্ত ‘বি’ ইউনিট (নাট্যকলা বিভাগ, চারুকলা ইনস্টিটিউট ও সংগীত বিভাগ ব্যতীত), ২৯ অক্টোবর ব্যবসা প্রশাসন অনুষদভুক্ত সব বিভাগ ‘সি’ ইউনিট, ৩০ ও ৩১ অক্টোবর সমাজ বিজ্ঞান ও আইন অনুষদভুক্ত সব বিভাগ, ব্যবসা প্রশাসান অনুষদভুক্ত সব বিভাগ (মানবিক ও বিজ্ঞান গ্রুপ) এবং জীববিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা ও মনোবিজ্ঞান বিভাগ (মানবিক গ্রুপ) ‘ডি’ ইউনিট, ১ ও ২ নভেম্বর বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিসারিজ অনুষদভুক্ত সকল বিভাগ ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা হবে।

৪ নভেম্বর কলা ও মানববিদ্যা অনুষদভুক্ত নাট্যকলা বিভাগ, চারুকলা ইনস্টিটিউট ও সংগীত বিভাগ ‘বি১' উপ-ইউনিটের পরীক্ষা হবে।

এছাড়া ০৫ নভেম্বর শিক্ষা অনুষদভুক্ত ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সাইন্স বিভাগ 'ডি১' উপ-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

‘বি’ ইউনিটে ১ হাজার ২২১টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছেন ৪২ হাজার ৬৬৭ জন শিক্ষার্থী। এই ইউনিটে প্রতি আসনের বিপরীতে ভর্তির জন্য লড়বে ৩৫ জন প্রতিযোগী। বি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা দুদিনে তিন শিফটে নেওয়া হবে।

‘বি’ ইউনিটে প্রথম দিন দুই শিফটে ১৪ হাজার ২২৩ জন করে ভর্তিচ্ছু অংশ নেবে। দ্বিতীয় দিন এক শিফটে অংশ নেবে ১৪ হাজার ২২১ জন পরীক্ষার্থী।

‘সি’ ইউনিটে ৪৪১টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছেন ১৩ হাজার ৯১৮ জন শিক্ষার্থী। প্রতি আসনে ভর্তির জন্য এই ইউনিটে লড়বে ৩২ জন প্রতিযোগী।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়ার পর বুধবার ট্রেনে গাদাগাদি করে শহরে ফিরছে। ছবি: সুমন বাবু

‘ডি’ ইউনিটে ১ হাজার ১৬০টি আসনের বিপরীতে ৫৪ হাজার ২৪৪ জন আবেদন করেছেন। সম্মিলিত এই ইউনিটে প্রতি আসনের বিপরীতে ৪৭ জন লড়বে। দুই দিনে চার শিফটে ইউনিটটির ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

দুটি উপ-ইউনিটের মধ্যে ‘বি১’ ইউনিটে ১২৫টি আসনের বিপরীতে আবেদন পড়েছে ২ হাজার ২০টি। এই উপ-ইউনিটে প্রতি আসনের বিপরীতে ভর্তির জন্য লড়বে ১৬ জন।

‘ডি১’ উপ ইউনিটে ৩০টি আসনের বিপরীতে ২ হাজার ৯০২ জন প্রার্থী আবেদন করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া জানান, ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতির পাশাপাশি নেওয়া হচ্ছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

“ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সাদা পোশাকের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৭০০ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এছাড়া জালিয়াতি রোধে প্রক্টরিয়াল বডি ও বিশেষ টিম রয়েছে। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকবে।"

পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধায় প্রতিদিন ১১ জোড়া শাটল ট্রেন নগরীর বটতলী স্টেশন থেকে ক্যাম্পাসে চলাচল করবে বলে প্রক্টর জানান।