খালেদা হাসপাতালে থাকলে বিএনপির ‘রাজনীতিতে সুবিধা’ হয়: তথ্যমন্ত্রী

খালেদা জিয়াকে বিদেশ পাঠানোর দাবির পেছনে ‘রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি’ আছে মন্তব্য করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি চায় খালেদা জিয়া ‘হাসপাতালে থাক’। তাহলে তাদের রাজনীতি করতে সুবিধা হয়।

শনিবার রাতে চিটাগাং ক্লাবে বাংলাদেশ-রাশিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

যারা খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে কথা বলছেন তাদের প্রতি প্রশ্ন রেখে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যের আগে তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান যখন ক্ষমতায় ছিলেন এবং খালেদা জিয়া যখন দু’বার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন কোনো দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির জন্য এ ব্যবস্থা তারা করেছিলেন কিনা?

“তারা যেটি করেননি, সেটি বঙ্গকন্ধু কণ্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা করেছেন। সুতরাং তাদের প্রথমেই শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানানো দরকার।”

খালেদাকে বিদেশ পাঠাতে বিএনপির দাবির পেছনে রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি আছে উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, “তিনি আগেও যখন অসুস্থ হয়েছিলেন, তখনো তারা সমস্বরে বলেছিলেন- খালেদা জিয়াকে বিদেশ না পাঠালে, তিনি কখনও ভালো হবেন না।

“কিন্তু তিনি বাংলাদেশের চিকিৎসকদের চিকিৎসায় ভালো হয়ে ঘরে ফেরত গিয়েছিলেন। এখনও কামনা করি, তিনি ভালো হয়ে ঘরে ফিরে যাক। কিন্তু বিএনপি সেটি চায় কিনা এটিই হচ্ছে প্রশ্ন?”

বিএনপি চায় খালেদা জিয়া ‘হাসপাতালে থাক’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “তাহলে তাদের রাজনীতি করতে সুবিধা হয়।”

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের স্বার্থে খালেদা জিয়াকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আহবান প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “গত কিছুদিন ধরে বিএনপির বক্তৃতা বিবৃতি ও নানা কর্মসুচিতে মনে হচ্ছে বিএনপির একমাত্র মাথাব্যথা বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য। দেশ ও দেশের অন্য কোন বিষয় নিয়ে তাদের কোনো চিন্তা নাই।

“একটি দলের রাজনীতি যখন শুধু তাদের নেত্রীর স্বাস্থ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়, সে দল কখনও জনগণের দল হতে পারে না।“

আরেক প্রশ্নে খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ সেলিমের মৃত্যুর বিষয়ে তদন্ত হওয়ার আগেই কারো দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করা এবং ওই কারণেই তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন, সেটি বলা কতটুকু যুক্তিযুক্ত তা ভাবার কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “এ মৃত্যুর জন্য যদি কেউ দায়ী হয়, তদন্তে যদি সেটি বেরিয়ে আসে, তিনি যেই হোক অবশ্যই সরকার ব্যবস্থা নেবে।”

চট্টগ্রাম ক্লাবের সভাপতি নাদের খাঁনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাশিয়ার অ্যাম্বেসেডর আলেকজান্ডার ম্যানটিসকি ও চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারি হাইকমিশনার অনিন্দ্য ব্যানার্জি।