চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের ইউনিট সম্মেলন দেখভালে ১৫ দল

চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের ইউনিট সম্মেলন ও সদস্য নবায়নে ১৫টি সাংগঠনিক ওয়ার্ডে ১৫টি দল গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত ছয় নেতা।

শুক্রবার রাতে নগরীর বহদ্দারহাটে সিটি মেয়র ও নগর কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম রেজাউল করিম চৌধুরীর বাসায় বৈঠকে বসেন নেতারা।

সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ওই বৈঠকে নগরীর ১৫টি সাংগঠনিক থানার প্রতিটির জন্য চার সদস্যের তদারকি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নগর কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম রেজাউল করিম চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সবাই এসেছিলেন। নগর কমিটির সদস্যদের নিয়েই এগুলো গঠন করা হয়েছে।

“সাংগঠনিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে উনারা কাজ করবেন। কোনো সুপারিশ থাকলে তাও জানাবেন। ইউনিট সম্মেলন নিয়ে কোনো সমস্যা চিহ্নিত করলে সেসবও জানাবেন। পরে আমরা আবার বসব। কোনো প্রয়োজনে কেন্দ্রকে অবহিত করব।”

শুক্রবারের সভায় নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, সহ সভাপতি নঈম উদ্দিন আহমদ ও জহিরুল আলম দোভাষ ডলফিন এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে চট্টগ্রামের নেতাদের আপত্তির মুখে ২২ ডিসেম্বর নগরের ওয়ার্ড সম্মেলন স্থগিত করা হয়।

নগর আওয়ামী লীগের ১৫টি থানা, ৪৩টি সাংগঠনিক ওয়ার্ড এবং ১২৯টি ইউনিট আছে।

ইতিমধ্যে প্রায় ১০০টির বেশি ইউনিটের সম্মেলন হয়েছে, যা একতরফাভাবে করা হয়েছে বলে নাছির পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ মহিউদ্দিনের অনুসারীদের।

এর আগে গত ১৬ জানুয়ারি ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে নগর কমিটির এই ছয় নেতাকে সবগুলোর থানার সাংগঠনিক টিম গঠনে সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয়, এসব তদারকি কমিটি ইউনিট সম্মেলনের ত্রুটি-বিচ্যুতি শনাক্ত করাসহ সাংগঠনিক কার্যক্রম বিষয়ে সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবে। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতেই ত্রুটি সংশোধনের ব্যবস্থা নেবে কেন্দ্র।

চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের তৃণমূলের সম্মেলন আয়োজন প্রক্রিয়া ও সদস্য সংগ্রহ নিয়ে জ্যেষ্ঠ কয়েকজন নেতা মৌখিক ও লিখিত আপত্তি জানানোর পর ১৬ জানুয়ারি ঢাকায় ওই সভা হয়েছিল।

এরআগে নগর কমিটির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ঢাকায় দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ও বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের সঙ্গে দেখা করে তাদের আপত্তির কথা জানান।

চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগে দীর্ঘ দিন ধরে দুটি ধারা চলছে। এর একটি নগর কমিটির সভাপতি ও তিনবারের মেয়র প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী। আরেকটি নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী।

চট্টগ্রাম নগরের ওয়ার্ডগুলোর অধীনে এসব শাখার সম্মেলন গত ১৬ নভেম্বর থেকে শুরু হয়। প্রথম দিন থেকেই সম্মেলন স্থল ঘিরে অবস্থান, পাল্টা সম্মেলন ও এমনকি জ্যেষ্ঠ নেতাকে অবরুদ্ধ করে রাখার মত ঘটনা ঘটেছে।

সম্মেলনের শুরু থেকেই মহিউদ্দিনের অনুসারীদের সদস্য ফরম না দেওয়া, সম্মেলনে তাদের আমন্ত্রণ না জানানো, নগরের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সম্মেলন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত না করা, একপক্ষীয় সম্মেলন আয়োজন এবং কমিটিতে জ্যেষ্ঠদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠতে থাকে।

কেন্দ্র থেকে নগর আওয়ামী লীগের সব শেষ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৩ সালের ১৩ নভেম্বর।

আরও পড়ুন

চট্টগ্রাম নগর আ. লীগের সমস্যা মেটাতে ৬ জনের দল  

জ্যেষ্ঠ নেতাদের ‘অসন্তোষ’, পেছাল তৃণমূলে আ. লীগের সম্মেলন  

কাউন্সিল করতে গিয়ে বিভক্ত চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগ  

চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের শাখা সম্মেলন শুরু  

শাখা সম্মেলন নিয়ে চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগ নেতাদের মতভেদ  

চট্টগ্রাম আ. লীগকে সংগঠিত করতে কেন্দ্রের ‘পাঁচ নির্দেশনা’  

চট্টগ্রামে দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা দুঃখজনক: হানিফ