চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগ: নতুনরা থাকবে ‘অবজারভেশনে’

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা হলেও দলে নতুন যোগদানকারীদের এখনই পদ না দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

সদস্য সংগ্রহ এবং তৃণমূলের সম্মেলন নিয়ে নগর আওয়ামী লীগে দুই পক্ষের টানাপোড়েনের মধ্যে বুধবার নগর কমিটি আয়োজিত সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন অভিযানের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আগামী ১ অক্টোবর সম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্ত আসে।

কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এই সিদ্ধান্ত জানান। এরপর নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং তৃণমূল ইউনিটগুলোর সম্মেলনে নবীন সদস্যেদের অবস্থান কী হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভায় হানিফ বলেন, “সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে হবে। দলের সাথে মোনাফেকি করে কেউ পদ-বাণিজ্য করলে, নীতি-নৈতিকতা না থাকলে তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদ থাকবে না।

“যোগ্য লোকদের মাঠ থেকে খুঁজে পদে আনতে হবে। চারপাশে ঘুরঘুর করা তেলবাজদের থেকে সতর্ক থাকতে হবে।”

চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন নতুনদের দলে নেওয়ার পক্ষে মত দেন।

তিনি বলেন, “যাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আনুগত্য রয়েছে তাদের জন্য আওয়ামী লীগের দরজা উন্মুক্ত করে দেব। দলে আগতদের যারা কাউয়া-হাইব্রিড বলে বিতাড়িত করতে চায়, তারা দলকে সাধারণ মানুষ থেকে দূরে নিতে চায়।

“শুধু নিজ পরিবারের যারা, আমার পক্ষে তারাই আওয়ামী লীগ করবে? আওয়ামী লীগকে কী তারা মুসলিম লীগে পরিণত করতে চায়? আওয়ামী লীগ গণমানুষের দল।”

তবে নতুনদের দলে নিলেও নেতা বানানোর ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে স্বপন বলেন, “নতুন সদস্যরা কাউকে নেতা বানাবে না। নতুন সদস্য নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবজারভেশনে থাকবে। মানুষ যাকে চায় জননেত্রী তাকে নেতা বানাবেন। অভিযোগ থাকলে ১৫ জুনের মধ্যে জানিয়ে ৩০ জুনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে ওয়ার্ড ও থানার সম্মেলন।”

কেন্দ্রীয় নির্দেশনার পর নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, “নতুন সদস্যরা এক বছর কোনো পদ পাবে না। তাই কারও চেয়ার চলে যাবে সেই ভয় নেই।

“নিজ এলাকার গ্রহণযোগ্যদের তালিকা করে তাদের দলে আনুন। বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করতে গিয়ে কাউকে সদস্য করা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।”

চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগে তৃণমূলের প্রতিবেদনের সময় ২৫ মে পর্যন্ত  

মঙ্গলবারই আসতে পারে চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ  

চট্টগ্রাম নগর আ. লীগের সমস্যা মেটাতে ৬ জনের দল  

গত বছর সেপ্টেম্বরে নগর আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হলে পরের মাসেই কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের উপস্থিতিতে সার্কিট হাউজের এক সভায় সদস্য সংগ্রহ প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন স্থানীয় কয়েকজন নেতা।

নভেম্বরে ইউনিট, ওয়ার্ড ও থানা কমিটিগুলোর সম্মেলন শুরু হলে প্রয়াত নেতা মহিউদ্দিনের অনুসারী জ্যেষ্ঠ নেতাদের সম্মেলন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত না করে একপক্ষীয় সম্মেলন আয়োজন এবং কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠে।

এরপর নগর কমিটির জ্যেষ্ঠ কয়েকজন নেতা এ বিষয়ে কেন্দ্রে অভিযোগ জানান। তারপর কেন্দ্র থেকে সম্মেলন স্থগিত করাসহ একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও ফল মেলেনি।

চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগে দীর্ঘ দিন ধরে চলমান দুটি ধারার একটি নগর কমিটির সভাপতি ও তিনবারের মেয়র প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীদের। তার মৃত্যুর পর অনুসারীরা আছেন মহিউদ্দিনের বড় ছেলে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সঙ্গে।

আরেকটি ধারায় আছেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারীরা।

সভায় নওফেল বলেন, “যতই প্রতিযোগিতা থাকুক শেষ সিদ্ধান্ত নেবেন দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। প্রত্যেকের কাজের মূল্যায়ন তিনি করেছেন। মূল নেতৃত্বে কে আসবেন সেটা ওনার সিদ্ধান্ত।”

সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, “চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের সমস্যা মাঝে-মধ্যে খারাপ খবরের শিরোনাম হয়। মাঝে মাঝে চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের অন্তর্কলহে অনেকেরই প্রাণের প্রদীপ নিভে যায়। এটা আর দেখতে চাই না।”

তিনি বলেন, “দুঃসময়ের কর্মীদের কাছে টানতে হবে। আওয়ামী লীগ থেকে দূষিত রক্ত বের করে দিতে হবে। বিশুদ্ধ রক্ত সঞ্চালন করতে হবে।”