মহামারীকালে এক দিনে অর্থনীতির দুই সূচকে রেকর্ড

মহামারীকালে এক দিনে বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ দুটি সূচকে রেকর্ড হয়েছে।

এই প্রথম দেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার একইসঙ্গে এক মাসে ১৮৩ কোটি ৩০ লাখ ডলারের রেকর্ড রেমিটেন্সের খবরও এসেছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়নি। আর এক মাসে এত বেশি রেমিটেন্সও কখনও আসেনি।

এর আগে এক মাসে ১৭৪ কোটি ৮০ লাখ ডলারের রেমিটেন্স এসেছিল গত বছরের জুন মাসে রোজার ঈদকে সামনে রেখে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক কাজী ছাইদুর রহমান বৃহস্পতিবার বিকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট এক হাজার ৮২০ কোটি ৩০ লাখ (১৮.২০ বিলিয়ন) ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা।

এই অঙ্ক আগের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের চেয়ে ১০ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মোট ১৬ দশমিক ৪২ বিলিয়ন রেমিটেন্স এসেছিল।

মহামারীকালেও রেমিটেন্সের এই উল্লম্ফনের কারণে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৩৬ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে বলে জানান ছাইদুর রহমান।

বৃহস্পতিবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৬ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার।

বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ, এডিবি ও এআইআইবির ঋণ সহায়তাও রিজার্ভ বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে বলে জানান তিনি।

রেমিটেন্স ১৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল, তার দ্বিগুণের পথে রিজার্ভ

সর্বোচ্চ রিজার্ভ

এক মাস বাকি থাকতেই গত অর্থবছরের সমান রেমিটেন্স

হতাশার মধ্যে আশার চেয়েও বেশি রেমিটেন্স  

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, গত ২৪ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। তার তিন সপ্তাহ আগে ৩ জুন এই রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে।

২০১৯ সালের ৩০ জুন রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩২ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার।

করোনাভাইরাস মহামারীতে আমদানি ও রপ্তানি তলানিতে নেমে এলেও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স বাড়ছিলই। আর এই রেমিটেন্সের উপর ভর করে রিজার্ভে একটার পর একটা রেকর্ড হচ্ছিল।

অর্থবছর শেষ হতে দুই দিন বাকি থাকতেই (২৮ জুন) এক হাজার ৮০০ কোটি (১৮ বিলিয়ন) ডলার ছাড়ায় রেমিটেন্স। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই এক অর্থবছরে এত রেমিটেন্স আসেনি।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের পুরো সময়ে ১৬ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স এসেছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, বিশ্বজুড়ে মহামারী চলায় রেমিটেন্সে তার প্রভাব না পড়ার জন্য হুন্ডি বন্ধ হওয়া অন্যতম কারণ। এছাড়া প্রণোদনা থাকায় প্রবাসীরা বৈধ পথে অর্থ পাঠাচ্ছেন।

দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বিভিন্ন দেশে থাকা ১ কোটিরও বেশি বাংলাদেশির পাঠানো অর্থ বা রেমিটেন্স। দেশের জিডিপিতে এই রেমিটেন্সের অবদান ১২ শতাংশের মতো।

এবার করোনাভাইরাস মহামারীতে মার্চ থেকে বৈশ্বিক পরিস্থিতি ওলটপালট হয়ে যাওয়ায় রেমিটেন্সও কমে গিয়েছিল। কিন্তু এপ্রিল থেকে রেমিটেন্সে ঊর্ধগতির ধারা চলছে।

রেমিটেন্সের গতি ধরে রাখতে গত অর্থ বছরে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা ঘোষণা করেছিল সরকার।

অর্থমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

মহামারীকালে এক দিনে বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ দুটি সূচকে রেকর্ডের পেছনে অবদান রাখা প্রবাসীদের কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল (ফাইল ছবি)

তিনি বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে সরকারের এ অভূতপূর্ব সাফল্যে যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এ অর্জন, সেই সকল প্রবাসীদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।”

বৃহস্পতিবার রাতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যুক্তরাজ্যে থাকা অর্থমন্ত্রীর এই বার্তা জানানো হয়।

রেমিটেন্সে ২ শতাংশ প্রণোদনার কথা উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এতে প্রবাসীদের দেশে বেশি রেমিটেন্স পাঠাতে অনুপ্রাণিত করেছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক নীতি সহায়তাও যথেষ্ট সহায়ক ভুমিকা রেখেছে। এভাবেই রিজার্ভের স্থিতি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অনেক কমে যাওয়ায় আমদানি খরচ কমে তা রিজার্ভ বাড়তে ভূমিকা রেখেছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়।