‘দাম না পেয়ে’ পোস্তায় চামড়া ফেলে গেলেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা

পুরান ঢাকার পোস্তা ও ঢাকেশ্বরী মন্দিরের আশেপাশের বেশ কিছু আড়তের মোকামের সামনের প্রধান সড়কে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকেও শত শত নষ্ট চামড়া পড়ে থাকতে দেখা যায়; পরে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা এগুলো বর্জ্য হিসেবে নিয়ে যায়।

‘দাম না পেয়ে’ দিনভর সংগ্রহ করা কোরবানির পশুর এসব চামড়া ফেলে গেছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা।তাদের অভিযোগ, আড়তদাররা তাদের কেনা দামও দিতে চাননি।

গভীর রাত পর্যন্ত তাদের বসিয়ে রেখে দরদাম চালিয়ে গেলেও শেষ সময়ে ‘পচে যাওয়ার’ অজুহাতে আড়ত বন্ধ করে চলে যান।

উপায় না দেখে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চামড়া রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যেতে বাধ্য হন। এতে তাদের অনেক লোকসান গুনতে হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

একদম কম দাম কিংবা কৌশলে সময় নষ্ট করে দাম কম দেওয়ার প্রস্তাবের অভিযোগ মানতে চাইছেন না আড়তদাররা। মৌসুমী ব্যবসায়ীরা পচা চামড়া এনেছেন বলে দায় এড়াচ্ছেন তারা।

রাস্তার পাশাপাশি অনেক এলাকায় কোরবানির পশুর চামড়া নালা-নর্দমাতেও ফেলার কথা জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরশনের মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নুর তাপস।

পুরনো ঢাকার লালবাগে সড়কের উপরে পড়ে আছে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের সংগ্রহ করা কাঁচা চামড়া। বিক্রি করতে না পারায় এসব চামড়া ফেলে গেছে তারা। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি

এসব চামড়া নিয়ে করপোরেশনের কর্মীরা বেকায়দায় পড়েছেন বলে বৃহস্পতিবার দুপুরে 'কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম তদারকি' বিষয়ক অনুষ্ঠানে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সকালে এই দুই এলাকায় রাস্তার পাশে অনেক কাঁচাচামড়া পড়ে থাকতে দেখা যায়। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদেরও দু-একজায়গায় ফেলে দেওয়া এসব চামড়া ময়লার গাড়িতে তুলতে দেখা যায়।

ওই এলাকায় খোঁজাখুজির পর চামড়া ফেলে দিয়েছেন এমন মৌসুমী ব্যবসায়ী বাদল নামের একজনকে পাওয়া গেল।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গতকাল (বুধবার) সারা দিন ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় গরুর চামড়া সংগ্রহ করে রাত আটটার দিকে আড়তে বিক্রি করতে নিয়ে আসি। কিন্তু আড়তদাররা গড়ে ৩০০ টাকা করে দাম দিতে চান।

ঢাকায় চামড়া সংগ্রহে তৎপর সবাই, দামও ভালো

চামড়ার দাম বাড়লেও মৌসুমী ব্যবসায়ীদের ভাগ্য ফেরেনি

কোরবানি: চামড়ায় লবণ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেওয়ার পরামর্শ

কোরবানি: চামড়া সংগ্রহে ‘দুঃসময়’ কাটবে?  

“এরপর দরকষাকষি করতে করতে সময় নষ্ট হয়, রাত গভীর হয়। পরে আড়তদাররা আমার সংগ্রহ করা চামড়া পচে যাওয়ার অযুহাত দেখিয়ে চামড়া না নিয়ে আড়ত বন্ধ করে চলে যায়।“

হতাশ এই ব্যবসায়ী বলেন, “তবুও সারারাত অপেক্ষায় ছিলাম যদি কোনো গতি করা যায়। শেষ পর্যন্ত ভোরে এসব চামড়া আমরা রাস্তায় ফেলে দেই।

“আমার মত আরও অনেকেই ছিলেন। তারাও শেষ পর্যন্ত বাড়িতে চলে গেছেন।”

কয়েকজন এলাকাবাসী জানিয়েছেন, মৌসুমী ব্যবসায়ীদের অনেকেই তাদের সংগ্রহ করা চামড়া বিক্রি করতে পারেননি। বুধবার গভীর রাত পর্যন্তও যাদের চামড়া আড়তদাররা নেননি সেগুলো পচে যায়। পরে তারা এগুলো রাস্তায় রেখেই চলে যান।

পরে এসব চামড়া সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা এসে ময়লা হিসেবে নিয়ে গেছেন বলে তারা উল্লেখ করেন।

ঢাকার লালবাগে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের ফেলে যাওয়া চামড়া অপসারণ করছে সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি

তবে দাম না পেয়ে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের রাস্তায় চামড়া ফেলে চলে যাওয়ার ঘটনা অস্বীকার করেন পোস্তার কাঁচাচামড়া ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব হাজি টিপু সুলতান।

তিনি বলেন, “আমরা যথারীতি সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে, অনেক ক্ষেত্রে সেই দামের চেয়েও বেশি দামে চামড়া কিনে নিয়েছি।

 “সবচেয়ে ছোট গরুর চামড়া ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে বড় চামড়া ৯০০ টাকা পর্যন্ত কিনেছি।”

“তবে আমরা তো পচা চামড়া কিনব না”, যোগ করেন তিনি।

এসব চামড়া নিয়ে ভোগান্তি করপোরেশনের

বৃহস্পতিবার দুপুরে 'কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম তদারকিতে' নগর ভবনের শীতলক্ষ্যা হলে স্থাপিত নিয়ন্ত্রণ কক্ষে পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের পর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নুর তাপস জানান, মৌসুমী ব্যবসায়ীরা অনেক জায়গায় চামড়া ফেলে যাচ্ছেন।

কোরবানির পশুর চামড়ার দাম এবার সামান্য বাড়ল

চামড়ার আড়তদারদের চিন্তা ঈদের পরের লকডাউন নিয়ে

কোভিড: ঈদের পর কঠোর বিধিনিষেধের বাইরে থাকবে চামড়া, খাদ্য ও ওষুধ খাত  

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “একটা বিষয় আমরা লক্ষ্য করছি, মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চামড়া সংগ্রহ করেছেন। সেই চামড়াগুলো হয়তো তারা বিক্রি করতে পারেননি। আজ সকাল থেকে আমরা লক্ষ্য করছি, বিভিন্ন জায়গায় আমাদের নর্দমার সামনে, নর্দমার মুখে তারা সেই চামড়াগুলো ফেলে গেছেন। এটা অত্যন্ত গর্হিত কাজ।”

তিনি আরও বলেন, “আমি বারবার নিবেদন করেছি, কোনোভাবেই যেন আমাদের নালা-নর্দমাগুলো বন্ধ করা না হয়, এখানে বর্জ্য ফেলা না হয়। কারণ আমরা এখনো বর্ষাকালেই আছি। এই বর্জ্য দ্বারা কোনো নালা-নর্দমা যেন বন্ধ না হয়ে যায়।”