কুইক রেন্টাল: ‘অবসরে’ গেলেও ‘স্ট্যান্ডবাই’ থাকছে

আইনের মেয়াদ বাড়ানোর পর ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে ‘স্ট্যান্ডবাই’ হিসেবে রাখতে চাইছে সরকার।

মেয়াদ বাড়ার পর এই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে কীভাবে বিদ্যুৎ কেনা হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

তবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, এ্ই কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ কিনলে টাকা দেওয়া হবে, না কিনলে দেওয়া হবে না, এভাবেই চলবে।

অন্যদিকে ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাব’র জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলমের ভাষ্য, এই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ কেনার আর প্রয়োজনই নেই।

এই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পরিচালনায় ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন’টির মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর প্রস্তাব মন্ত্রিসভা সম্প্রতি অনুমোদন দিয়েছে।

যেসব ভাড়াভিত্তিক ও দ্রুত ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাদের ‘স্টান্ডবাই’ রাখা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী নসরুল।

সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমরা তাদেরকে অবসর দিয়ে দিচ্ছি। কিন্তু স্ট্যান্ডবাই রাখছি।

“তাদেরকে বলছি নো ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্ট। তুমি বাড়ি নির্মাণ করেছ, বাড়ি থাকবে। যদি আমি থাকতে যাই, পয়সা দেব। যদি না থাকি পয়সা দেব না।”

কেন ‘স্ট্র্যান্ডবাই’ রাখা হচ্ছে তার ব্যাখ্যায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, “যেহেতু এখনও আমাদের বেইসলোড আসে নাই। সেজন্য আমাদের অপশন রাখতে হচ্ছে।”

ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন দ্রুত বেড়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল হয় বলে সরকারের দাবি।

তবে এসব কেন্দ্র থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনতে সরকারকে অনেক টাকায় ভর্তুকি দিতে হওয়ায় একে জনগণের ‘পকেট টাকা’ বলে সমালোচনাও উঠেছিল।

রেন্টাল-কুইক রেন্টালের ইতি ‘২০২৪ সালের মধ্যে’

বিদ্যুতে ‘কুইক রেন্টাল’ চালুর আইন আরও ৫ বছর  

২০০৯ সালের আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার পর বিদ্যুৎ সঙ্কট দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি ভাড়া ও দ্রুত ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন দেওয়া হয়।

আর এটা করার জন্য ২০১০ সালে প্রণয়ন করা হয় ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন’।

শুরুতে দুই বছরের জন্য এই আইন করা হলেও পরে কয়েক দফায় সময় বাড়ানো হয়।

আবারও পাঁচ বছর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর সংসদে পাঠানো উঠছে।

ক্রয় প্রক্রিয়ার প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে বিশেষ বিধানে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশেষ কমিটির মাধ্যমে আলোচনা করে চুক্তি সম্পাদনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

এই আইনের আওতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি খাতের ৬৫টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা শুরু থেকেই বলছি, এই আইনের কোনোই দরকার নেই।

“যে ব্যয়ে কাজটা করা যায়, তার থেকে বেশি ব্যয়ে করার জন্য এই আইন করা হয়েছে। এজন্য এ আইনকে গণশত্রু আইন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।”

তবে অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই আইন বড় ধরনের ভূমিকা রখেছে বলে মনে করছেন নসরুল হামিদ।

তিনি বলেন, “আজকে অ্থনীতিতে যে গতি আসছে সেটি কিন্তু এই আইনের কারণে। এটা অত্যন্ত যুগান্তকারী এবং স্বচ্ছ আইন।

“৩ হাজার মেগাওয়াট নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছিলাম ২০০৯ সালে। সেখান থেকে আজকে যে ক্যাপাসিটি তৈরি হয়েছে, দ্রুততার সাথে কাজ করার ফলেই কিন্তু হয়েছে।”

দেশের ২০টির মতো ভাড়াভিত্তিক ও দ্রুত ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে পাঁচটি মেয়াদ বাড়ানোর অপেক্ষায় রয়েছে।

শামসুল আলম বলেন, “যেখানে এত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে, সেখানে এই বিতর্কিত, কলঙ্কিত বি্দ্যুৎ কিনতে যাওয়ার কোনো দরকার আছে?”

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের হিসাবে, এখন দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর স্থাপিত উৎপাদন ক্ষমতা ২২ হাজার ১৩৯ মেগাওয়াট।

২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের। এর মধ্যে ১০ শতাংশ করার লক্ষ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে।    

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “নির্ভরযোগ্য, নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ীভাবে যদি আমরা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দ্রুততার সাথে আনতে চাই, জনগণকে যদি সেবা দিতে চাই, তাহলে অবশ্যই এই বিশেষ আইনটি আমাদের দরকার।

“আমরা এখন প্রচণ্ডভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছি। মোট বিদ্যুতের ১০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি রাখার যে কথা, সেটা কিন্তু দ্রুততার সাথে করা দরকার।”