কুষ্টিয়া মেডিকেল প্রকল্প: পদে পদে অনিয়ম, ব্যবস্থার সুপারিশ

নানা অনিয়মে নয় বছরেও শেষ করতে না পারা কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পে দায়িত্বপালন করা পরিচালক ও গণপূর্তের প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বিললেম্বর কারণ এবং অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) যে প্রতিবেদন দিয়েছে, সেখানেই এ সুপারিশ এসেছে।

আইএমইডি সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এরকম একটি জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের বাস্তবায়ন পর্যায়ে এরকম বিশৃংখল পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার জন্য কারা কীভাবে জড়িত তা আমরা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছি।”

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর চার সদস্যের কমিটি করে সরেজমিন ও বিভাগীয় পর্যায়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিন বছরের এ প্রকল্প নয় বছরেও শেষ করতে না পেরে আরও চার বছর মেয়াদ বাড়ানোর জন্য গত ৫ জানুয়ারি একনেক সভায় প্রস্তাব তোলা হয়। তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসন্তোষ জানিয়ে তা ফেরত পাঠান।

তিনি সরেজমিন পরিদর্শন করে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে আইএমইডিকে নির্দেশ দেন। এরপর প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও মূল্যায়ন দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগটি জানুয়ারি মাসে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে। তদন্ত শেষে সম্প্রতি প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে তারা।

মঙ্গলবার এ প্রতিবেদন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হতে পারে বলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। 

এ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণকাজ দীর্ঘ সময়েও শেষ না হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম যেমন জোড়াতালি দিয়ে চলছে, তেমনি উন্নত স্বাস্থ্য সেবা পাওয়া থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয়রা।

আইএমইডি সচিব বলেন, “মঙ্গলবারের একনেক সভার এজেন্ডায় কুষ্টিয়া মেডিকেল নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব দেখেছি। সে হিসেবে বৈঠকে এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হতে পারে।”

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গ্রহণ করা প্রকল্পটির বাস্তবায়নকারী সংস্থা স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। আর এটির পূর্ত কাজের দায়িত্বে রয়েছে গণপূর্ত বিভাগ।

মেয়াদ না বাড়িয়ে প্রকল্পের অবস্থা তদন্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

কুষ্টিয়া মেডিকেল প্রকল্প: ফের তদন্তে আইএমইডি

‘জোড়াতালি দিয়ে’ চলছে কুষ্টিয়ায় মেডিকেল শিক্ষা  

জানতে চাইলে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার জানান, অনিয়মের বিষয়ে আইএমইডির প্রতিবেদন তারা পেয়েছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “ইতোমধ্যে আমরা দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছি।”

২০১২ সালের ৩ মার্চ একনেকে অনুমোদন পায় ২৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ের কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রকল্পটি। তিন বছরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনও তা হয়নি।

প্রকল্প অনুমোদনের নয় বছর পর এ বছরের ৫ জানুয়ারির একনেক সভায় এটির মেয়াদ ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। পাশাপাশি ব্যয় বাড়িয়ে ৬৮২ কোটি টাকায় সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়।

তখন বৈঠকের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্পটির বিলম্বের কারণ এবং কী কী অনিয়ম হয়েছে তা তদন্তের নির্দেশ দেন।

এ বছর জানুয়ারিতে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ভবন নির্মাণ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে আইএমইডি তদন্ত দল।

এ নির্দেশনা মেনে আইএমইডি সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তীকে আহবায়ক করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটি দীর্ঘ প্রায় আট মাস প্রকল্প এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও প্রকল্প কর্তৃপক্ষের মতামত এবং বক্তব্য নিয়ে একটি নাতিদীর্ঘ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

আইএমইডির এ প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পটির ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ২০০৮ সালের রেট শিডিউল অনুযায়ী। এ শিডিউলকে কেন্দ্র করে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ কার্যাদেশ দিতে দেরি করে।

“এরপর অসাবধানতার কারণে ঘাড়ে এসে পড়ে ২০১৪ সালের রেট শিডিউল। এভাবে যত দেরি করেছে, ততই প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে।”

এভাবে ২০১২ সালে ২৭৫ কোটি টাকায় অনুমোদিত প্রকল্পটি দুইবার মেয়াদ ও একবার ব্যয় বাড়িয়ে ৬১১ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। একইভাবে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রার প্রকল্পটি ২০১৯ সালেও শেষ করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত আবারও ৭১ কোটি টাকা ব্যয় এবং সাড়ে তিন বছর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, একনেক সভায় অনুমোদিত প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী কার্যক্রম অনুসরণ না করে অনিয়মের মাধ্যমে ছোট ছোট প্যাকেজে ক্রয় কাজ করে আর্থিক শৃংখলা ভঙ্গ করে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করেছেন।

এছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ও গণপূর্ত বিভাগের দায়িত্বপালনকারী প্রকৌশলীরা কাজ আংশিক শুরুর পর প্রকল্প দলিলের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ না করে প্রকল্পের স্থাপত্য নকশা পরিবর্তন করেন।

সংশ্লিষ্টরা একনেক সভা থেকে সংশোধনী না নিয়ে নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়েছেন। এ জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীরা দায়ি বলে এতে উল্লেখ করা হয়।

২০১৯ সাল থেকে প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্বে আছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. মো. আমিনুল ইসলাম। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে তদন্ত কমিটির সুপারিশের বিষয়ে জানতে চাইলে বিস্তারিত শোনার পর তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।”

আর কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

এছাড়া প্রকল্প সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজনে সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কেউ সাড়া দেননি।

তদন্ত প্রতিবেদনের উল্লেখযোগ্য সুপারিশ

>> প্রকল্পে ২০০৮ সালের রেট সিডিউলের পরিবর্তে ২০১১ সালের রেট সিডিউল অনুযায়ী টেন্ডার প্রক্রিয়া গ্রহণ করায় আর্থিক ও পরিকল্পনা শৃঙ্খলার বিচ্যুতি ঘটানোর দায়ে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

>> যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া প্রকল্পের অনুমোদিত নকশা পরিবর্তন করা এবং এতদসংক্রান্ত নিয়মের কোনো ব্যত্যয় হয়নি মর্মে লিখিত বক্তব্য প্রদান করার দায়ে গণপূর্ত বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

>> যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া বিভিন্ন ভবনের ‘প্লিন্থ এরিয়া’ পরিবর্তন করে নতুনভাবে তৈরি নকশা প্রকল্প পরিচালক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছ থেকে অনুমোদন ও প্রতিস্বাক্ষর করানোর সঙ্গে জড়িত স্বাস্থ্য ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

>> এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়নি। পরে প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী পিআইসি, পিএসসি, পিইসি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বাস্থ্য ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় সভা না করাসহ নানা অনিয়মের জন্য প্রকল্প পরিচালকের ব্যাখ্যা তলব করতে হবে।

>> ২০১৮ সালে ২১ জুনের একনেক সভা থেকে প্রকল্পটিতে এ অনিয়ম তদন্ত করে দায়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য বিভাগ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরকে যে নির্দেশনা দেওয়া হয় তা কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে তা দেখা যেতে পারে।

এদিকে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রকল্পটিতে বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের পক্ষ থেকে মোট তিন জন প্রকল্প পরিচালক দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১২ সালের অগাস্ট থেকে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. ইফতেখার মাহমুদ।

মার্চ ২০১৬ থেকে এপ্রিল ২০১৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. আশরাফুল হক এবং এরপর থেকে দায়িত্বে আছেন ডা. আমিনুল ইসলাম।

অনিয়মে আটকে কুষ্টিয়া মেডিকেলের নির্মাণ

কুষ্টিয়া মেডিকেলে নির্মাণাধীন ছাদ ধসে শ্রমিক নিহত  

এ সময়ের মধ্যে কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগের ১০ জন নির্বাহী প্রকৌশলী দায়িত্ব পালন করেছেন। এরমধ্যে দুইজন দুইবার দায়িত্ব পালন করেন। এসব নির্বাহী প্রকৌশলী হচ্ছেন- মো. শাহীন মিয়া, শহীদ মো. কবীর, মো. আহসান উল্লাহ, মো. জাকির হোসেন, মো. মশিউর রহমান, মো. মোক্তার হোসেন দেওয়ান, এজেডএম সফিউল হান্নান, আশিষ ডি কস্তা, আরিফুল ইসলাম।

যেভাবে অনিয়ম হয়েছে প্রকল্পে

প্রকল্পটি ছয়টি অঙ্গে ভাগ করে বাস্তবায়ন করা হয়। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য অঙ্গে যেসব অনিয়ম প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তা হল-

নির্মাণাধীন একাডেমিক ভবন

একাডেমিক ভবন

>> একনেক অনুমোদিত নকশায় মূল একাডেমিক ভবনের ভিত্তি (ফাউন্ডেশন) ছিল ৩৫ হাজার বর্গফুট। কিন্তু বাস্তবায়নের সময় তা প্রায় ৮ হাজার বর্গফুট কমিয়ে ভিত্তি করা হয়েছে ২৭ হাজার ২২৬ বর্গফুটের।

>> ছয় তলা ভিত্তির উপর ছয় তলা ভবনে ৩০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ১ লাখ ৬০ হাজার বর্গ ফুট নির্মাণের সংস্থান ছিল। কিন্তু এরচেয়েও প্রায় ২১ লাখ টাকা বেশি ব্যয় করে নির্মাণ করেছে ছয় তলা ভিত্তির ওপর চার তলা নির্মাণ করা হয়েছে, যার আয়তন ১ লাখ ৭ হাজার ৪০২ বর্গফুট। অর্থাৎ ৫২ হাজার ৫৯৮ বর্গফুট কম নির্মাণ করা হয়েছে।

হাসপাতাল ভবন

>> হাসপাতাল ভবনের ১ লাখ ৫৫ হাজার বর্গফুট ভিত্তির পরিবর্তে করা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার বর্গফুট, যা অনুমোদিত নকশার চেয়ে ১৭ হাজার বর্গফুট কম।

>> নকশায় হাসপাতাল ভবনটি ১০ তলা ভিত্তির উপর সাত তলা নির্মাণের কথা থাকলেও তা করা হয়েছে ১০ তলা ভিত্তির ওপর তিন তলা।

>> ১০ তলা ভিত্তির ওপর সাত তলা ভবন নির্মাণের মাধ্যমে ৫৭ হাজার ৫০০ বর্গফুট ভবন নির্মাণের বিপরীতে নির্মাণ করা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪২৮ বর্গফুট। অর্থাৎ এক্ষেত্রে ২৪ হাজার ৭২ বর্গফুট কম নির্মাণ করা হয়েছে।

>> এ ভবনের জন্য ১১২ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবায়ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৯২ কোটি ২৪ লাখ টাকার চুক্তি হয়। ‘আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভার’ নির্মাণ প্যাকেজে থাকলেও এজন্য আলাদা চুক্তি করা হয়েছে।

সিঙ্গেল ডক্টরস ডরমিটরি (পূরুষ)

>> ৬ তলা ফাউন্ডেশনে ৬ তলা ভবন নির্মাণের মাধ্যমে সাড়ে ১২ হাজার বর্গফুটের জন্য বরাদ্দ ছিল ২ কোটি ২০ লাখ টাকা। কিন্তু বরাদ্দের চেয়েও প্রায় ২৪ লাখ টাকা বেশি ব্যয় করে ফ্লোর নির্মাণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৩০০ বর্গফুট কম।

সিঙ্গেল ডক্টরস ডরমিটরি (নারী)

>> ৬ তলা ফাউন্ডেশনে ৬ তলা ভবন নির্মাণের মাধ্যমে ১২ হাজার ৫০০ বর্গফুটের জন্য বরাদ্দ ছিল ২ কোটি ২০ লাখ টাকা। কিন্তু বরাদ্দের প্রায় শতভাগ অর্থ ব্যয় করে ফ্লোর নির্মাণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৩০০ বর্গফুট কম।

ছাত্র হোস্টেল ভবন নির্মাণ

ডিপিপিতে এ হোস্টেল নির্মাণের জন্য ৮ কোটি ৭ লাখ টাকা দিয়ে ৩৯ হাজার ৭৯০ বর্গফুট ভবন নির্মাণের কথা থাকলেও করা হয়েছে ৪৭ হাজার ৩৩৯ বর্গফুট। এক্ষেত্রে ৭ হাজার ৫৪৯ বর্গফুট বেশি নির্মাণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রেও ডিপিপির নির্দেশনা অমান্য করা হয়েছে।

একইভাবে ছাত্রী হোস্টেল ভবন নির্মাণেও ৭ হাজার ৫৪৯ বর্গফুট ফ্লোর বেশি নির্মাণ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।