মেঘনা থেকে ঢাকায় পানি আনার প্রকল্পের ব্যয় বাড়ল ৬৩%

রাজধানী ঢাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে চলমান ‘সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার (ফেজ-৩)’ প্রকল্পের ব্যয় প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনী অনুমোদন দিয়েছে একনেক।

একইসঙ্গে প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে আরও পাঁচ বছর। ২১০৫ সালের জুলাইতে ৪ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে অনুমোদন দেওয়া প্রকল্পটির ব্যয় ২ হাজার ৯২১ কোটি টাকা বা প্রায় ৬৩ শতাংশ বাড়িয়ে ৭ হাজার ৫১৮ কোটি টাকায় সংশোধন করা হয়েছে।

এর আগে প্রকল্পটি ২০২০ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ঢাকা ওয়াসা।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থেনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এর বৈঠকে প্রকল্পটির সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

তিনি বলেন, “প্রকল্পটির মাধ্যমে মেঘনা নদী থেকে পানি পরিশোধন করে ঢাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু মেঘনা নদীর তীরে চলমান শিল্প কার্যক্রম ও নদীর পানি দুষণের কারণে প্রকল্পটির কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়ে প্রকল্পের বিভিন্ন অংগের ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।“

এ প্রকল্পে দাতা সংস্থা ডানিডা, এএফডি, কেএফডব্লিউ ও ইআইবি সম্মিলিতভাবে ৩ হাজার ৫৩ কোটি টাকার অর্থায়ন যোগান দিচ্ছে। এ সংশোধনের কারণে প্রায় ১ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা দেবে সংস্থাগুলো বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের নির্ভরতা কমাতে ৪৫০ এমএলডি ক্ষমতার সার্ফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণের এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

  “এটির মাধ্যমে রাজধানীতে পানি সরবরাহে সায়েদাবাদে বিদ্যমান প্লান্ট-১, ২ ও প্রস্তাবিত ৩ প্লান্টের স্লাজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন করা হবে। এছাড়াও এই প্রকল্পের মাধ্যমে সায়েদাবাদ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট থেকে ঢাকা শহরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে পরিশোধিত পানি সরবরাহের জন্য বিতরণ লাইন স্থাপন করা হবে।“

এম এ মান্নান জানান, বৈঠকে এটিসহ প্রায় ৬ হাজার ৫৫১ কোটি টাকা ব্যয়ের নয়টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এরমধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৩ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা, সংস্থার অর্থায়ন ২৬ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ হিসেবে ২ হাজার ৭৮২ কোটি টাকা যোগান দেওয়া হবে।

অনুমোদন পাওয়া অন্যপ্রকল্পগুলো হচ্ছে

>> টাঙ্গাইল-দেলদুয়ার-লাউহাটি-সাটুরিয়া-কাওয়ালীপাড়া-কালামপুর বাস স্ট্যান্ড সড়ক আঞ্চলিক মহাসড়কের যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প। ব্যয় হবে প্রায় এক হাজার ৪৩৬ কোটি টাকা।

>> কৃষি আবহাওয়া তথ্য পদ্ধতি উন্নতকরণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্প। ব্যয় বাড়ছে ৯১ কোটি টাকা।

>> জগন্নাথপুর ও মোহনগঞ্জ উপজেলায় দুটি কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (এটিআই) স্থাপন প্রকল্প। ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫৬ কোটি টাকা।

>> কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন (২য় সংশোধিত), কুষ্টিয়া প্রকল্প। ব্যয় বাড়ছে ৭১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

>> রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার নদী তীর সংরক্ষণ, ছোট নদী, খাল-বিল পুন:খনন ও জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প। ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

>> শরীয়তপুর জেলার কীর্তিনাশা নদীর ডান ও বাম তীর রক্ষা প্রকল্প। ব্যয় হবে ৩১৯ কোটি টাকা।

>> বড়পুকুরিয়া-বগুড়া-কালিয়াকৈর ৪০০ কেভি লাইন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প। ব্যয় বাড়ছে প্রায় ৭৩০ কোটি টাকা।

>> খুলনা হতে মোংলা পোর্ট পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প। ব্যয় বাড়ছে ৪৫৯ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:

কুষ্টিয়া মেডিকেল প্রকল্পে অনিয়ম: শাস্তির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর  

শত শত কোটি টাকা গেছে ‘জলে’  

গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগারের সরবরাহ লাইন নির্মাণে চুক্তি  

বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে পানি নিতে হালদার বদলে মেঘনার চিন্তা