নদীর নামেই নতুন বিভাগের নাম: একনেকে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও কুমিল্লা ও ফরিদপুরের প্রস্তাবিত বিভাগকে যথাক্রমে ‘মেঘনা’ এবং ‘পদ্মা’ হিসেবে নামকরণের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প অনুমোদনের সময় প্রসঙ্গটি উঠলে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে কথা বলেন।

একনেক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ড. আলম বলেন, “বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে নতুন বিভাগ করতে চাই। এবং এই দুই বিভাগের দুই বড় নদীর নামে করতে চাই। একটি হবে মেঘনা, আরেকটি হবে পদ্মা।”

তবে এ দুই বিভাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা কবে আসতে পারে, সে বিষয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

বৃহত্তর কুমিল্লা ও বৃহত্তর  ফরিদপুর অঞ্চল নিয়ে নতুন বিভাগ করার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে বেশ কয়েক বছর ধরেই। কিন্তু নতুন বিভাগের নাম কী হবে, তা নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি রয়েছে কুমিল্লা ও নোয়াখালী জেলার রাজনৈতিক নেতাদের।

গত ২১ অক্টোবর কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের অফিস ভবনের উদ্বোধনী আয়োজনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, “স্বাধীনতা যুদ্ধের ‘তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা’ স্লোগানের আদলে নদীর নামে হবে এ বিভাগ দুটির নাম। ফরিদপুর বিভাগের নাম হবে ‘পদ্মা’ আর ‘মেঘনা’ হবে কুমিল্লা বিভাগের নাম।”

ছবি পিএমও

কুমিল্লা সদর আসনের এমপি ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার সেদিন কুমিল্লা বিভাগের নাম কুমিল্লাই রাখতে বার বার অনুরোধ করেন সরকারপ্রধানের কাছে।

প্রধানমন্ত্রী তখন সাফ জানিয়ে দেন, “ওই কু নাম দেব না আমি। কুমিল্লা দেব না আমি।”

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম জানান, মঙ্গলবার একনেকের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ধান চাষের প্রসার ঘটানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

“বরিশাল এক সময় শস্যভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত ছিল। তিনি সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ধান চাষ বাড়ানোর জন্য লবণাক্ততাসহিষ্ণু ধানের বেশি প্রসারের নির্দেশ দেন।”

ড. আলম বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দেশের জেলা উপজেলায় গড়ে উঠা ৫৬০টি মডেল মসজিদ কেন্দ্রিক ‘ইসলামিক সংস্কৃতি’ গড়ে তোলার ওপরও জোর দিয়েছেন।

“ওখানে লাইব্রেরি আছে। সব মিলে ওই মসজিদকেন্দ্রিক এমন পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে, যাতে যুব সমাজ ইসলামি সংস্কৃতিতে আকৃষ্ট হয়। যেন জঙ্গিবাদে ঝুঁকে না পড়ে।”