ছয় মাসে কেনা হবে ১৬ লাখ টন জ্বালানি তেল

নতুন বছরের প্রথম ছয় মাসের জন্য ১৫ লাখ ৮০ হাজার টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বুধবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে জ্বালানি কিনতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিপিসির দুটি পৃথক প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিপিসি জিটুজিভিত্তিতে ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত্ব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে জুন সময়ের জন্য ১৪ লাখ ৯০ হাজার টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল ৮ হাজার ৪১৭ কোটি ২৩ লাখ টাকায় আমদানি করবে। ক্রয় কমিটি এই প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- পিটিটিটি থাইল্যান্ড, এনক আরব আমিরাত, পেট্রোচায়না, বিএসপি ইন্দোনেশিয়া, পিটিএলসিএল মালয়েশিয়া ও চীনের ইউনিপ্যাক।

একই প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবে মেয়াদি চুক্তির আওতায় ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান নুমালীগড় রিফাইনারির কাছ থেকে আরও ৯০ হাজার টন ডিজেল ৫১২ কোটি ৪৮ লাখ টাকায় আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ৪২ লাখ টন পরিশোধিত তেল এবং ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল কিনেছে সরকার। এতে খরচ হয়েছে ২২ হাজার ১১৯ কোটি টাকা।

হিসাব করে দেখা যায়, ভারত থেকে আসা ডিজেলের প্রতি লিটারের ক্রয়মূল্য দাঁড়াবে ৪৮ টাকা।

এমন পরিস্থিতিতে সরকার জ্বালানি তেলের দাম কমাবে কি না প্রশ্ন করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিলে, এখন আমরা নিম্নমুখী দেখতে পাচ্ছি। আমার বিশ্বাস সরকার সেটি বিবেচনা করবে।

দাম কমানোর বিষয়ে সরকার থেকে শিগগির কোনো সিদ্ধান্ত আসবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ভালো বলতে পারবে। এটা আমাদের পর্যায়ে আসলে আপনাদের অবহিত করতে পারব।

“আমার বিশ্বাস যখন যেটা করা দরকার, সরকার অবশ্যই সেটি করবে।“

কেনা হবে ৬৫ হাজার খাম্বা

এদিকে বৈঠকে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) জন্য দুই প্রস্তাব ৩২ হাজার ৪০০টি করে মোট ৬৪ হাজার ৮০০ এসপিসি পোল বা বিদ্যুতের খাম্বা কেনার প্রস্তাবে সায় দিয়েছে মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে মোট ব্যয় হবে ৬২ কোটি ৭১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা।

এছাড়া আরইবির জন্য ৭১ কোটি ৯৯ লাখ টাকায় ১৩ হাজার ৪০টি ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফরমার কেনার একটি প্রস্তাবও বৈঠকে অনুমোদন পেয়েছে।

বৈঠকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবে আট জেলায় আটটি স্টিল স্ট্রাকচারের মাল্টিপারপাস ভবন নির্মাণের পূর্ত কাজের দরপ্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়।

ভারতের লারসেন অ্যান্ড টুউবরো এ কাজ করবে। এ জন্য মোট ব্যয় হবে এক হাজার ২০৫ কোটি ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ২২১ টাকা।