ভাসানচরের রোহিঙ্গাদের সহায়তায় ২০ লাখ ডলার দেবে জাপান

কক্সবাজার থেকে ইতোমধ্যে ১৮ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে ভাসানচরের আশ্রায়ন প্রকল্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ভাসানচরে স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের জীবনমানের উন্নয়নে ২০ লাখ ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে জাপান সরকার।

শুক্রবার ঢাকার জাপান দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

সেখানে বলা হয়, ভাসানচরের রোহিঙ্গাদের সহায়তায় যে দুই মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেওয়া হবে, তার এক মিলিয়ন ডলার জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং এক মিলিয়ন ডলার বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) মাধ্যমে ব্যয় করা হবে।

রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি বলেন, “এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য রোহিঙ্গা সংকট সমাধান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।

“বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির অধীনে জাপান আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কার্যক্রমকে সমর্থন করে।”

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে জাতিসংঘের ভূমিকা অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করেন রাষ্ট্রদূত।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ এখনও কক্সবাজারে রয়েছে, তাই তাদেরও সহায়তা বজায় রাখা জরুরি।

জাপান বাংলাদেশের পাশে থাকবে এবং মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে কাজ করবে জানিয়ে দূতাবাস বলছে, “এই সংকটের টেকসই সমাধান খুঁজে বের করা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ, যা এ অঞ্চলের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক' দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নের জন্য সহায়ক।”

কক্সবাজারের ক্যাম্প থাকা দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গার একটি অংশকে অধিকতর নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে দুই হাজার ৩১২ কোটি টাকা ব্যয় করে ভাসানচরের আশ্রয়ন প্রকল্প গড়ে তুলেছে সরকার। জাতিসংঘ শুরুতে আপত্তি জানালেও পরে ভাসানচরেও সহযোগিতা দিতে সম্মত হয়।

এ পর্যন্ত নয় দফায় প্রায় ২০ হাজার রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে নেওয়া হয়েছে। আরও ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে সেখানে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।