পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে ‘দায়মুক্তির’ ঘোষণা আসছে: অর্থমন্ত্রী

দেশ থেকে যে টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, নির্দিষ্ট পরিমাণ কর দিয়ে ‘বিনা প্রশ্নে’ তা আবার দেশে ফেরানোর সুযোগ দিতে বাজেটের আগেই ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন, “বিভিন্ন সময়ে যেসব টাকা বাংলাদেশ থেকে বিদেশে চলে গেছে, আমরা বিভিন্নভাবে এসব টাকা ফেরতের সুযোগ দিতে অ্যামনেস্টি দিচ্ছি, যাতে টাকাগুলো আমাদের দেশে ফিরে আসে, এটাই আমাদের উদ্দেশ্য।”

অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার বিভিন্ন ধরনের সুযোগ বহু আগে থেকেই দিয়ে আসছে সরকার। তবে বিদেশে পাচার হওয়া টাকা ফেরানোর ক্ষেত্রে এ ধরনের সুযোগ আগে কখনও দেওয়া হয়নি।

এই সুযোগ দেওয়া হলে বাংলাদেশি নাগরিকরা বিদেশে তাদের সম্পদের তথ্য আয়ের বিবরণীতে যুক্ত করার সুযোগ পাবেন, ওই অর্থের উৎস নিয়ে কোনো প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে না।

  বাজেটে এ বিষয়ে ঘোষণা থাকবে কিনা প্রশ্ন করলে অর্থমন্ত্রী বলেন, “বাজেটের আগেই আমরা চেষ্টা করছি ঘোষণাটা দেওয়ার জন্য।”

সাংবাদিকরা এ বিষয়ে আরও বিশদ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে যখন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে সেটা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেই হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এটা সার্কুলেশন করবে, সেখান থেকে আপনার জানতে পারবেন।”

কোভিড মহামারীর পর ইউক্রেইনে যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে চলছে অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি ডলারের দরও বেড়ে চলেছে। ডলারের ওপর চাপ কমাতে ব্যয় সঙ্কোচনের পাশাপাশি অতি জরুরি প্রকল্প ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে অর্থায়নে সতর্কতা অবলম্বন করছে সরকার।

পাশাপাশি রেমিটেন্স প্রবাহের গতি ধরে রাখতে নীতিমালায় কিছু ছাড় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাতে বিনা প্রশ্নে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত দেশে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আগে ৫ হাজার ডলারের (৫ লাখ টাকার মত) বেশি দেশে পাঠাতে প্রবাসীদের চাকরির নিয়োগপত্রসহ আনুষঙ্গিক নথি জমা দিতে হত বিদেশের এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানে। সেসব প্রতিষ্ঠানকে আবার নথি পাঠাতে হত দেশীয় ব্যাংকে। সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের ফলে প্রবাসীদের আর সেই ঝক্কি পোহাতে হবে না।

এই সুযোগ কাজে লাগিয়েও পাচার হওয়া টাকা দেশে ফেরানো যাবে কি না, সেই প্রশ্ন অর্থমন্ত্রীকে করেন একজন সাংবাদিক।

উত্তরে তিনি বলেন, “এটা তো… সেটা একই জিনিস। কোনো প্রশ্ন করা হবে না। এর মানে হচ্ছে বিভিন্ন চ্যানেলে চলে গেছে আমাদের টাকা। এগুলো ফেরত আনার জন্যই এ সমস্ত উদ্যোগ।

এ ধরনের ‘অ্যামনেস্টি’ অনেক দেশেই দেওয়া হয় বলে মন্তব্য করলেও দেশ থেকে কত টাকা পাচার হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি অর্থমন্ত্রী।

এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “কত টাকা গেছে? এ ধরনের ধারণা আমি দিতে পারব না। তবে কারা নির্দিষ্ট পরিমাণ ট্যাক্স দিয়ে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনতে পারবে, আগামী বাজেটে তার স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হবে।”