বাজেট হবে সবার কথা ভেবে: অর্থমন্ত্রী

অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ধরে রেখে প্রবৃদ্ধি অর্জনের চেষ্টার লক্ষ্যের সঙ্গে সব শ্রেণির নাগরিকের কথা ভেবেই আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

আ হ ম মুস্তফা কামাল। ফাইল ছবি

বৃহস্পতিবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি একথা বলেন।

আগামী মাসের শুরুতেই সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব করতে যাচ্ছেন মুস্তফা কামাল। মহামারীর মধ্যে ইউক্রেইন যুদ্ধে সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিকেও চাপে ফেলার মধ্যে নতুন বাজেট নিয়ে আসছেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “বাজেটে নিচু, মাঝারি এবং উচ্চ সবাইকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। যখন কোনো একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেই সিদ্ধান্তে সবাই কিন্তু ব্যাপক সুবিধাভোগী হবে; এটাই হচ্ছে মূল কথা।”

বাজেটে ধনীদের ক্ষেত্রে বেশি করছাড় দেওয়া হয়-এক সাংবাদিক এমন মন্তব্য করলে তিনি বলেন, “আমরা যদি কোনো বড় কাউকে ট্যাক্স রিলিফ দেই, এর পেছনে মূল কারণ থাকে যে সেখানে কর্মসংস্থান হচ্ছে কি না, অন্যান্য সামাজিক ক্ষেত্রে তাদের কোনো অবদান থাকছে কি না? সুযোগ দিলে সেখানে উপকৃত হবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।”

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাজেটে কী পদক্ষেপ থাকছে- জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, “সারাবিশ্বেই মূল্যস্ফীতি হচ্ছে। আমাদের মূল কাজ হবে স্টাবিলাইজেশন। সেটা হবে বিভিন্ন ফিসক্যাল পলিসির মাধ্যমে। পাশাপাশি আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে গ্রোথ বাড়ানো। একদিকে স্টাবিলাইজেশন, আরেক দিকে গ্রোথ। এই দুই লক্ষ্য নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।”

এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কোন দেশে কত মূল্যস্ফীতি ইন্টারনেটে ঘেঁটে দেখুন। আমেরিকাতে ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্রিটেনে ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। আশপাশে ভারত, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া প্রতিটি দেশের অবস্থা একই রকম।

“আসলে বাজার অর্থনীতিতে যেমন সুবিধা পাওয়া যায়, তেমনি অসুবিধা হলো এক জায়গায় সমস্যা হলে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি, যাতে দেশের মানুষ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। যতটা কম ক্ষতির মধ্য দিয়ে যাওয়া যায়।”

ডলারে সঙ্কট দেখা দিলেও তা বড় নয় বলে দাবি করেন অর্থমন্ত্রী।

“ডলার ক্রাইসিসের জন্য পরিকল্পনা নিতে যাচ্ছি। ডলার আমাদের দরকার। তবে যেরকম ক্রাইসিসের কথা বলা হচ্ছে, সেরকম ক্রাইসিস আমাদের নাই। আমাদের যে রিজার্ভ আছে, সেটা খুবই যথেষ্ট। আশেপাশে যারা আছে, তাদের তুলনায় অনেক সাবলীল অবস্থায় আমরা আছি। ২০০১ সালে এ ধরনের ক্রাইসিস আমরা দেখেছি। এধরনের ক্ষেত্রে এলসি মার্জিন বাড়ানো ও রেগুলেটরি ডিউটি বাড়ানো যেতে পারে। সেটাই করা হচ্ছে।”

গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রসঙ্গে মুস্তফা কামাল বলেন, “যখনই দাম বাড়াবে, কারও না কারও উপরে এর প্রভাব পড়বে। আমরা চাই, দাম বৃদ্ধিটা যেন সহনীয় পর্যায়ে থাকে। এজন্য হয়ত সরকার নিজেই ভোক্তাদের সঙ্গে শেয়ার করে নেবে।”